আজ বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা হবে। ঘোষণা করবেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার। সম্ভবত ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। আওয়ামী লীগ নতুন করে কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। অন্তত সোশ্যাল মিডিয়াতে সেটাই দেখা যাচ্ছে। যখন নির্বাচনে তফশীল ঘোষণার আবহ, তার মধ্যে তিন দিনের লকডাউনের কর্মসূচি আওয়ামী লীগের। কেউ কেউ বলছেন, নিষিদ্ধ একটি দল প্রকাশ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে আগাম কর্মসূচির কথা ঘোষণা করছেন, এতে শেখ হাসিনার দলের আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা জানে, দেশের অন্দরে বহু আওয়ামী লীগ সমর্থক রয়েছে। শুধুমাত্র তারা অন্তবর্তী সরকারের ভয়ে আন্তরালে রয়েছে। নির্বাচন ঘোষণার দিনেই প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। আসলে কি হতে চলেছে বাংলাদেশে, সেটাই এখন সবথেকে বেশি আলোচনার বিষয়।
শেষমেষ বাংলাদেশের মানুষ বহু অপেক্ষার পর নির্বাচনের আবহ অনুভব করতে পারছেন। সেই পরিস্থিতিতে একটা উদ্বেগের বিষয় রয়েই গিয়েছে সাধারণের মধ্যে। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাতে না পারে, তার জন্য সবরকম চেষ্টা করছে ইউনূসের সরকার। আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে গেলে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের বিষয়। যখন বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হল, তখন আওয়ামী লীগের কর্মসূচির ঘোষণা কার্যত নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করছে.. সেটা স্পষ্ট। জুম্মার দিন অর্থাৎ শুক্রবার সারা দেশে মিছিল করবে আওয়ামীলীগ। এছাড়া শনিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যাতে লকডাউন কর্মসূচি পালন করবে। এর আগে নভেম্বরে এই ধরনের কর্মসূচি পালন করেছিল আওয়ামীলীগ। নভেম্বরের ১৩ তারিখ। তখন অন্তবর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে গোটা দেশে মোতায়েন করেছিল। সরকারের এই সাজ সাজ রব মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। যখন এই নিষিদ্ধ দলটিকে মোকাবিলা করার জন্য গোটা দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে রাস্তায় নামিয়ে ফেলেছে সরকার, প্রশাসন তখন এই দলটি আগাম ঘোষণা দিয়ে কর্মসূচি পালন করছে। এইবারও তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে আগাম ঘোষণা দিয়েছে কর্মসূচির। সেটা অনেক বড় বিষয় বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অনেকে বলে থাকেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই, কিন্তু তাদের সমর্থক রয়েছে বাংলাদেশে। সম্প্রতি প্রথম আলোর জরিপে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন শর্ত দিয়ে হলেও ৬৯.২ শতাংশ মানুষ চাইছে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওযা হোক। এই ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে অগ্রাহ্য করে মতামতের বাইরে গিয়ে কি করবে সরকার, সেটা তো সময় বলবে। মাত্র ০.১ শতাংশ মানুষ চাইছে আগে সমস্ত বিচার কার্য শেষ করে তারপর শেখ হাসিনার দলকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হোক। মাত্র গুটি কয়েক মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার কতটা সফল হতে পারে সেটাও দেখার বিষয়। তবে শুধুমাত্র বাংলাদেশের মানুষ নয়, ভারত বারবার অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চেয়েছে। একাধিকবার কূটনৈতিক ভাষাতে বুঝিয়ে দিয়েছে ভারত। অন্যদিকে বিশ্বের একাধিক দেশও চায় বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হোক। কারণ কোনও দেশেই একটি গোটা দলকে নিষিদ্ধ রেখে নির্বাচন করানোর পক্ষে নয়। এটা গণতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপ। কিন্তু সেটাই করতে চাইছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার। তবে আসলে কি পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেটা দেখার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post