মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের আমলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল রাজনৈতিক আক্রোশ থেকে। এখন এই বক্তব্য গোটা বাংলাদেশের। শেখ হাসিনাকে ঢাকার আন্তর্জাতিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তও সেই প্রতিহিংসারই পরিণতি, তবে ওই আদালত নিয়ে উঠছে অসংখ্য প্রশ্ন। আর সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হল, কার্যত দেড় বছর পার হওয়ার পরও মুহাম্মদ ইউনূসের এই অন্তর্বর্তাকালীন সরকার বাংলাদেশ চালাতে পারছে না। প্রতিনিয়ত তাঁদের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছ। এমনকি, বাংলাদেশের ভেতরে আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন নিঃশব্দ হলেও বাড়ছে। তবে এই মুহূর্ত পর্যন্ত যা খবর, তাতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহন করা খুব কঠিন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো এক জরিপে দেখিয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় জনগণের ৬৯ শতাংশ মানুষ চায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, এটা শুধু জরিপ নয়, মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের জন্য এক ধরনের সংকেত। আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন করলে তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না—এটা সরকারও বুঝতে হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গেল। কিন্তু আওয়ামী লীগকে এর বাইরেই রাখতে চাইছে ইউনূস সরকার। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একটা অংশ দাবি করছেন, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর নেপথ্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। প্রশ্ন শুধু কীভাবে এবং কোন পথে দলটি ফিরবে।
এ ক্ষেত্রে বলা যায়, বাংলাদেশের মতোই বিগত দু-এক বছরে ‘জেন জি’ নেতৃত্বের আন্দোলনে ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ঘটেছে শ্রীলঙ্কা ও নেপালে। জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই বিষয়টি তুলেছেন। তিনি সাম্প্রতিক শ্রীলঙ্কা ও নেপালের দৃষ্টান্ত টেনে দাবি করেছেন, বিক্ষোভের জেরে ক্ষমতাসীন দলের পতনের পরও ওই দেশগুলোতে আন্দোলনকারীরা বিরোধী দলকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দিয়েছে। তাই বাংলাদেশেও সব প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। ভারতের যুক্তি ছিল, শ্রীলঙ্কায় রাজাপক্ষে সরকারের পতনের পরও তাঁর দলকে ভোটে রাখা হয়েছিল। ঠিক তেমনই নেপালে তরুণদের বিক্ষোভে সরকার পতনের পরও কে পি শর্মা ওলির দলকে মাঠে নামতে দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই দুই দেশেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। গত বছরে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই আওয়ামী লীগকে সে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে উঠে পড়ে লেগেছে একটা বড় অংশ। আর জুলাই গণহত্যা মামলার পর যেমন আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তেমনই বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বলছে দলটির প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নেই। ঠিক এই জায়গা থেকেই ভারত নিজেদের অবস্থান বদল করেছে। সম্প্রতি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী যেমন দাবি করছেন যে বাংলাদেশে বিগত তিনটি নির্বাচনে ঠিকঠাক ভোট হয়নি। সেই মোতাবেক বর্তমান সরকারের উচিৎ একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন করে গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দেওয়া। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, ভারতের বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্য একটা বড় কূটনৈতিক চাল। তবে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন তা অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্য এবং বাস্তবসম্মত। আসলে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহনের দাবি জানিয়েছে বিশ্বের বহু মানবাধিকার সংগঠন একটা খোলা চিঠি দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসকে। কিন্তু তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাধ্যবাধকতা। ফলে বাংলাদেশের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও আওয়ামী লীগ নিয়ে চুপ ইউনূস সরকার। তবে কৌশলে তিনি সবটাই ছেড়ে রেখেছেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওপর। এখন দেখার তাঁরা কতদিন এটা ঠেকিয়ে রাখতে পারে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post