দুই তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সাজিব ভুঁইয়া ও মাহফুজ আলমের পদত্যাগ ঘিরে বাংলাদেশ জুড়ে নতুন নতুন প্রশ্ন উঠেছে। তাঁরা কি আদৌ নির্বাচনমুখী? আগস্ট আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা এই দুই ছাত্রনেতার সরে দাঁড়ানো কি ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎকে নতুন পথে ঠেলে দিচ্ছে? এই পদত্যাগ কি শুধু আনুষ্ঠানিকতা, নাকি বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্বের রাজনৈতিক শক্তির এক নতুন মোড়? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজা কার্যত অসম্ভব। তবে একটা চেষ্টা করা যাক।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গেল। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে একই দিন। ওই দিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। তবে বুধবারই প্রথম ধাপে ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। প্রার্থী ঘোষণার পরই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ক্ষমতার জন্য, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই নির্বাচন করছি না। সিট কয়টা পাবো বা পাবো না এটা বিবেচনা করে আমরা নির্বাচন করছি না। অর্থাৎ, তাঁরা কতগুলি আসনে জিতবে সেটা নিয়ে তাঁরা ভাবিত নয়। ওয়াকিবাহল মহলের বক্তব্য, এনসিপি এখনও জোটের রাস্তা খোলা রাখছে। তাই তাঁরা ১২৫ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এরপর চলবে দর কষাকষির পালা। নাহিদের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট। অন্যদিকে পতিত স্বৈরশাসক বা আওয়ামী লীগের দোসর বলে আখ্যা দেওয়া জাতীয় পার্টির বা জাপার তিন নেতাকেও ১২৫ জনের তালিকায় রাখা হয়েছে বলেই দাবি। যা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছে বিএনপি-জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। উল্লেখ্য ঢাকা ৭ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক মোহাম্মদ আদেলকে। অন্যদিকে রংপুর ১ আসনে জাতীয় ছাত্রসমাজের সদ্য বিদায়ী সভাপতি আল মামুন এবং নীলফামারী ৩ আসনে জাতীয় ছাত্রসমাজের সভাপতি আবু সাঈদ লিওনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, এরা তিনজনই জুলাই আন্দোলনের সময় জাতীয় পার্টির দলীয় পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ ৫ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এরশাদ সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী মনজুর কাদেরকে।
এনসিপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই শুরু হয়েছে বিতর্ক। জামাতের দাবি, জাতীয় পার্টি বরাবরই দাবি করে তাঁরা ভারতপন্থী। এনসিপির নাম না নিয়েই জামাতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক সদস্যের বক্তব্য, যদি কোন দল চিহ্নিত দোসরদের মনোনয়ন দেয় এটি অগ্রহণযোগ্য। যে দল তাদের জাতীয় পার্টির নেতাদের মনোনয়ন দিয়েছে তারা স্ববিরোধী ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুকের দাবি, এনসিপি তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক দল। এরা ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, কথা বলেছে। আর যদি তারা ফ্যাসিস্টদের মনোনয়ন দেয় তাদের কথার সাথে কাজের মিল রইলো না। জামাত ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে, এনসিপি জোটের রাস্তা খোলা রাখলেও প্রার্খী তালিকা নিয়ে বিতর্কের জেরে তা এখন বিশ বাও জলে। অন্যদিকে দিন দুয়েক আগেই জাতীয় নাগরিক পার্টি আমার বাংলাদেশ বা এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট ঘোষণা করেছে। কিন্তু বিএনপি বা জামায়তে ইসলামীর মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এনসিপি যদি জোট না করতে পারে তাহলে আসন্ন নির্বাচনে নাহিদ-সারজিসরা যথেষ্টই চাপে পড়বে। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post