গতকাল বাংলাদেশে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। জাতীয় ভোট এবং গণভোট একসঙ্গে হবে। আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন করা হচ্ছে। তেমন আভাসই পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও অনেক রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করতে পারে সে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল আগেই। এখন সেটা আরও জোরালো হয়েছে। সব দল যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তবে নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছিল জাতীয় পার্টি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলে দিলেন, সব দল যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তবে তার দল অংশগ্রহণ করবে না নির্বাচনে। এইরকম সিদ্ধান্ত কি অন্য দল থেকেও আসতে চলেছে? যদি তাই হয়ে থাকে, তবে যে সরকারই নির্বাচিত হয়ে আসুক না কেন, তাদের প্রশ্নবিদ্ধ হতে হবে।
সবাইকে নিয়ে নির্বাচন না হলে নির্বাচনে যাব না, জানিয়ে দিলেন কাদের সিদ্দিকী। যিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামক রাজনৈতিক দলের সভাপতি। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সবাইকে নিয়ে নির্বাচন হলে আমার গামছার দল নির্বাচনে যাবে। কিন্তু যদি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে বাদ দিয়ে শুধু বিএনপি জামাই এবং এন সি পি কে নিয়ে নির্বাচন হয়ে থাকে, সেই নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন না। জানা যায়, বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মিছিল শেষে তিনি এই বক্তব্য রাখেন। কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন। শেখ হাসিনার অন্যায় শেখ মুজিবের অন্যায় নয়। শেখ হাসিনার অন্যায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যায় নয়। শেখ হাসিনার অন্যায় আওয়ামী লীগের অন্যায় না। আওয়ামী লীগ জন্ম দিয়েছে মওলানা ভাসানী। এই দল জন্ম দিয়েছে শামসুল হককে। হাসিনার বিচার করবেন বলে আপনি আওয়ামী লীগের ও বিচার করবেন, করতে পারবেন না। আমি যতদিন বেঁচে থাকব বঙ্গবন্ধুকে বুকে লালন করে বেঁচে থাকব। আমি যতদিন বেঁচে থাকব জয় বাংলা বলে বেঁচে থাকব। অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও এইভাবে দেখে। যে ভুল শেখ হাসিনা করেছেন, তার দায়ভার কেন একটি গোটা দলের উপর পরবে? প্রথম আলোর জরিপে দেখা গিয়েছে, শর্ত দিয়ে হলেও নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের জন্য বলেছে ৬৯.২ শতাংশ মানুষ। ফলে যদি নির্বাচন আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে হয়, তবে সেই নির্বাচন অন্তর্ভুক্তমূলক নির্বাচন হবে না। আর অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন না হলে ভারতের মতো বহু দেশ ওই নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চাইবে না। শুধু তাই নয়, দেশের অন্দরেও বহু রাজনৈতিক দল নির্বাচন বয়কট করবে। ফলে শেখ হাসিনার সময়কার নির্বাচন নিয়ে যে এত সমালোচনা তৈরি হয়েছে, অন্তর্বতীতকালীন সরকারের আমলে সেই সমালোচনা কয়েক গুন বেড়ে যাবে। তখন অন্তবর্তীকালীন সরকার থাকবে না। কিন্তু যে সরকার নির্বাচিত হয়ে আসবে, সেই সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হবে। ফলে বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি, বা যেভাবে এগোচ্ছে তাতে কাঠগড়ায় উঠতে হবে নির্বাচন ইস্যু নিয়ে। সেটা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post