ঢাকার মেট্রোরেলে কর্মীদের কর্ম বিরতির কারণে শুক্রবার মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। উত্তরা থেকে বেলা ৩টে ও মতিঝিল থেকে ৩টে ২০ মিনিটের ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও কোনও ট্রেনই স্টেশন ছাড়েনি। এতে বিপাকে পড়ছেন যাত্রীরা। শুক্রবার থেকে মেট্রোরেলের যাত্রীসেবা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণা আজকের নয়। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, যেদিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই দিনই এই ঘোষণা করা হয়েছে। যা ঘিরে বাংলাদেশের বহু মানুষ বিপাকে পড়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, এটা কি স্বতসর্ফূত প্রতিবাদ, নাকি এর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে? ইউনূস সরকার কি এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত? নাকি আওয়ামী লীগ করাচ্ছে বলা হচ্ছে?
পূর্ব ঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী গত ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে স্বয়ংসম্পন্ন চাকরি বিধি নিষেধের প্রণয়নমালা প্রকাশ না করায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শুক্রবার সকাল ৭ টা থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি, সব ধরনের যাত্রী সেবা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মচারীরা প্রতিদিন ডিএমটিসি ল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার আগেই বলে দেওয়া হয়েছে, কোন ও অনিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন প্রতিবাদ বরদাস্ত করা যাবে না। তাহলে কি এদের বিরুদ্ধে পুলিশি অ্যাকশন দেওয়া হবে? ডি এম টি সি এল কর্মকর্তা, কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির ৯০০ এর বেশি কর্মকর্তা, কর্মচারীর জন্য এখনও কোনও স্বতন্ত্র চাকরি চূড়ান্ত হয়নি। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রো রেলের বাণিজ্য অপারেশন শুরু হওয়ার পর থেকে উন্মুক্ত নিয়োগে যোগ দেওয়া এই কর্মচারীরা দিন রাত দায়িত্ব পালন করলেও ছুটি, গ্যাচুইটি, সিক আলাউন্স নানামুখী সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন। কর্মচারীরা আরো জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী কর্ম দিবসের মধ্যে রুলস প্রণয়নের কথা হলেও সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৫ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি কর্মচারীরা আন্দোলনে নামলে ২০ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষ ২০ মার্চের মধ্যে সার্ভিস রুল চূড়ান্তের আশ্বাস দেয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি। কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, ১০ ডিসেম্বর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্মচারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় জানান যে সার্ভিসমূলের সব ধারায় পরিচালনা পর্ষদ এক মত হলেও বিশেষ বিধান সংক্রান্ত একাদশ অধ্যায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেট্রোরেলের দৈনন্দিন কয়েক লক্ষ যাত্রীর ভোগান্তি সৃষ্টি হলেও কর্মচারীরা বলেন, এই কর্মসূচির সম্পূর্ণ দায় ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। আমরা বাধ্য হয়েই কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। তাদের দাবি, চাকরি বিধিমালা ছাড়া ক্যারিয়ার, বেতন সুবিধা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত নন। তাই আর কোনও আশ্বাস নয়। প্রকাশিত সার্ভিস রুলস ছাড়া কোনও সমাধান নয়।
এখনও পর্যন্ত উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের রুট বহু সাধারণের জন্য ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। যান জট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অনেকেই এই রুট দিয়ে চলাচল করেন। ফলে এই পরিস্থিতিতে বহু মানুষকে সমস্যায় পরতে হবে, সেটা আর বালর অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগে সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, কোনও রকম নিয়ম বর্হিভূত আন্দোলন, প্রতিবাদ বরাদাস্থ কা হবে না। সেক্ষেত্রে মেট্রোরেলের এই বিরতি সরকার কিভাবে মোকাবিলা করবে, সেটা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। অন্যদিকে পুলিশি অ্যাকশনের দিকে হাঁটবে কিনা ইউনূসের প্রশাসন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকে বলছেন, সরকার এটাও বলতে পারে, নির্বাচন বানচাল করার জন্য আওয়ামী লীগ এটা করাচ্ছে। যদি এটা হয়ে থাকে, তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সরকার এই আন্দোলন বা প্রতিবাদকে মেট্রোলীগও বলতে পারে। এখন দেখার, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়!












Discussion about this post