বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তাঁরা এখন কোথায় যাবেন, বা কোন দলে যোগ দেবেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও অব্যহত। তবে শুক্রবার এক ফেসবুক বার্তা দিয়ে নিজের ব্যাপারে জানিয়ে দিলেন অন্যতম ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত কোনও রাজনৈতিক দল নয়, তিনি ঢাকা-১০ আসনে স্বতন্ত্র বা নির্দল প্রার্খী হয়েই ভোটে লড়তে চান। এর জন্য তিনি জনগণের কাছে দোয়া চেয়েছেন। অন্যদিকে মাহফুজ আলমও এখনও পর্যন্ত এনসিপি বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি। ফলে তাঁর বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে।
বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন দুই উপদেষ্টা। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা তা গ্রহণও করেছেন। তাঁদের দফতর বন্টনও করা হয়ে গিয়েছে। ফলে এখন চাইলেই যে তাঁরা সহজে আবার উপদেষ্টামণ্ডলীতে ফিরে আসবেন তা হওয়া খুব কঠিন। এরমধ্যেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। তফসিল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশে ভোটের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। ফলে এখন সেখানে অন্য কোনও রাজনৈতিক বিষয়ের থেকে নির্বাচন ভিত্তিক আলোচনাই বেশি হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আসিফ মাহমুদের ফেসবুক বার্তা পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। তিনি যে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন না, বা এনসিপি দলে নিচ্ছে না এটা স্পষ্ট। এরপরই আসিফের ফেসবুক পোস্ট এই বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছে।
বাইট – আসিফ মাহমুদ
উল্লেখ্য দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের ঘোষণা এসেছে এমন সময়, যখন দুজনের বিরুদ্ধেই উঠেছে ‘দ্বিচারিতা’, ‘রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ’ এবং ‘জুলাই চেতনা’র সাথে ‘নৈতিক প্রতারণা’র অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আসিফের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের গুরুতর অভিযোগ। এর আগে আসিফ মাহমুদ প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে তিনি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন, তাই উপদেষ্টা পদ ছাড়বেন। এমনকি গত ৯ নভেম্বর তিনি ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ধানমন্ডিতে ভোটার হওয়ার আবেদনও করেছিলেন। তখনই বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়েছিল। এবার ফেসবুক পোস্টে ঢাকার ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ আসনে ভোটে লড়ার ঘোষণা করেছেন আসিফ।
এই আসনে বিএনপির তরফে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম। এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জসীম উদ্দিন সরকার ঢাকা-১০ আসনে ভোটে লড়বেন। অর্থাৎ আসিফের জন্য এখনও পর্যন্ত ত্রিমুখী লড়াই। কারণ, এনসিপি তাঁকে দলে না নিলেও ওই আসনটিতে তাঁরা কোনও প্রার্খী দেয়নি। তবে পরবর্তী সময় তাঁরা যে আসিফের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে না, তার কোনও নিশ্চিয়তা নেই। কারণ, প্রথম পর্যায়ের প্রার্থী তালিকায় বিএনপি আসিফের জন্য ঢাকা-১০ আসনটি ফাঁকা রেখেছিল। এখন তাঁরা প্রার্থী দিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সামনে তাই এবার কঠিন লড়াই। তাঁর বিরুদ্ধে যেমন কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তেমনই স্বজন পোষণ ও টাকা নিয়ে নিয়োগের মতো অভিযোগও রয়েছে। যদিও এদিন ফেসবুক পোস্টে আসিফের দাবি, তাঁরা টাকা নেই, জনগণই তাঁর ভরসা। কিন্তু এই কথায় চিঁড়ে ভিজবে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
অন্যদিকে, জানা যাচ্ছে, লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে ভোটে লড়তে পারেন মাহফুজ আলম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহফুজ আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি দু-তিন দিন সময় নিচ্ছেন। এরপর নির্বাচন-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। যদিও মাহফুজ আলমের ভাই ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম জানিয়েছেন, তাঁর দাদা মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। তবে কোন দল সেটা খোসলা করেননি তিনি। সবমিলিয়ে দুই ছাত্র উপদেষ্টার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাও জলে। তাঁদের কোনও রাজনৈতিক দল নিতে চাইছে না। আসিফকে নিয়ে জাতীয় পার্টি প্রথমে দাবি করলেও এখন যে তাঁরা দলে নিচ্ছে না এটা স্পষ্ট। একই হাল মাহফুজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে দুই ছাত্র উপদেষ্টার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার সবে শুরু।












Discussion about this post