মাঝপথেই পদত্যাগ করতে চান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত সংবাদ সংস্থা রইটার্সকে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। এই সাক্ষাৎকার এমন একটা সময়ে প্রকাশিত হল আর সাক্ষাৎকারে তিনি এমন এমন কিছু দাবি করেছেন যা বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মুখোশ খুলে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।
কি বলেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?
প্রথমেই উল্লেখ করা যায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবাদ সংস্থা রইটার্সের দিল্লির প্রতিনিধি কৃষ্ণ এন দাসকে হোয়াটস্যাপে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত তাঁর সাক্ষাৎকার প্রচারিত হল বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণর দিন। এই দুটি ঘটনা কিন্তু যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “তাঁর আর ‘ভালো লাগছে না’। নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে তিনি হয়ত পদত্যাগ করবেন”। কবে পদত্যাগ করতে পারেন সেটাও খোলসা করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তবে যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল, রইটার্সকে তিনি বলেছেন, “আমার কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখা হয়েছে”।
রইটার্স এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করার পরই বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্বেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। কারণ বিগত ৫ আগষ্টের পর থেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া যাদের মধ্যে নিউজ বর্তমানও আছে যে দাবি করে আসছিল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তারই মান্যতা দিলেন। রইটার্সকে তিনি দাবি করেছেন, ২০২৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত শাসক বা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সে সময় তাঁর নির্বাচন নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় অভাবনীয় এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন তিনি। হাসিনা সরকারের পতন হয়, বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসেন মুহাম্মদ ইউনূস। যার ফলে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর তিনিই শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে এখন বাংলাদেশে অবশিষ্ট রয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এক বিদ্রোহের ফলে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন, যার ফলে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর তিনিই শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে অবশিষ্ট থাকেন।
৭৫ বছর বয়সী শাহাবুদ্দিন চুপ্পু ২০২৩ সালে হাসিনার আওয়ামী লীগ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি রয়টার্স প্রথম মিডিয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইউনূস তাকে একপাশে সরিয়ে রেখেছে। তাঁর আরও দাবি, আমি চলে যেতে আগ্রহী। তবে তিনি এও বলেছেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন। রাষ্ট্রপতি আরও বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রায় সাত মাস ধরে তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি, তাঁর প্রেস বিভাগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলি থেকে তাঁর ছবিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। চুপ্পুর বক্তব্য, মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে যে সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা হচ্ছে। আমি খুব অপমানিত বোধ করছি। বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে এও দাবি করেছেন, “আমার কণ্ঠস্বর দমন করা হচ্ছে”। তবে তিনি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং বাকি দুই বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানিয়েছেন। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না বলেই দাবি করে বসেছেন তিনি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাষ্ট্রপতি এর আগে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদককে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। তারপরই ওই পত্রিকা দাবি করেছিল, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শেখ হাসিনার কোনও পদত্যাগপত্র হাতে পাননি। অন্তত তাঁর কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার কোনও পদত্যাগপত্র নেই। তারপরই গোটা বাংলাদেশ জুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল। চাপে পড়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। মজার বিষয়, আজও শেখ হাসিনার কোনও পদত্যাগপত্র প্রকাশ্যে আনতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। এবারও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু কার্যত চাপে ফেলে দিলেন অন্তর্বর্তী সরকারকে। তিনি যা যা দাবি করলেন, তা মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধেই। কারণ, ২০ বছর ধরে শাসন করা শেখ হাসিনা ভারতে চলে আসার পর তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কিনা জানতে চাইলে, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু উত্তর দিতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে তিনি স্বাধীন ছিলেন, কোনও দলের সাথে যুক্ত নন। অর্থাৎ, তিনি হ্যাঁও বলেননি, আবার নাও বলেননি। ফলে গোটা চাপটাই এখন ইউনূসের ঘাড়ে চলে এল। কারণ, এই সাক্ষাৎকার তিনি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। তাতে নোবেলজয়ী ইউনূসের মুখোশ খুলে গেল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।












Discussion about this post