ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা নিয়ে এই মুহূর্তে গোটা বাংলাদেশ উত্তাল। মূল অভিযুক্ত হিসেবে একজনকে চিহ্নিত করেছে সে দেশের গোয়েন্দারা। ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। তাঁকে এখনও খুঁজে পাওয়া না গেলেও তাঁর আইটি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’-এর কম্পিউটার জব্দ করেছে পুলিশ। এমনকি তাঁর পরিবারের একজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের আইন-শৃংখলা বাহিনী। কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই ঘটনার সাথেও ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেই সঙ্গে ভারত সরকারকেও দুষতে শুরু করেছে। সেখানেই থেমে না থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোজা ডেকে পাঠায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মাকে। পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ভারতে বসে হাসিনা যে ভাবে তাঁর সমর্থকদের নানা সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে আহ্বান জানিয়ে নিয়মিত উস্কানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন, তা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। পাশাপাশি তাঁরা লিখেছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের। তাই এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, হাসিনা ও বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে প্রাপ্ত সাজার মুখোমুখি করতে দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যর্পণেরও আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের মুহম্মদ ইউনূসের সরকার। যদিও ভারত এর জবাব দিতে মুহূর্ত দেরি করেনি।
পাল্টা বিবৃতি দিয়ে ভারত সরকার জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশি জনতা ভারতের কাছে বন্ধুবৎসল। বাংলাদেশের সাধারণ জনতার স্বার্থের পরিপন্থী কোনও কাজে ভারতের মাটি ব্যবহার করে করতে দেওয়া হয় না। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, নয়া দিল্লির বিবৃতিতে “বাংলাদেশি জনতা” বা সাধারণ মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে ইউনূস সরকারের নাম পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। কূটনৈতিক মহল মনে করছেন, এটা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি চূড়ান্ত অনাস্থা প্রকাশ। অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনূসের অবস্থা এখন, “গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল” গোছের হয়ে গেছে। তিনি নিজেকে সোয়া শের ভাবছেন, কিন্তু তাঁর প্রতিবেশী তাঁকে পাত্তাও দিতে নারাজ। ভারতের জারি করা বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভারত সবসময় বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে। এ বিষয়ে ভারত সরকার যে ধারাবাহিক ভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে আসছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এটা যথেষ্ট কড়া বার্তা। কারণ ভারত বরাবরই অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের কথা বলে আসছে। কিন্তু ইউনূস সরকার ভারতকে কাঠগড়ায় তুলতে ব্যাস্ত। কূটনৈতিক মহলের মতে, এ ভাবে কোনও বিদেশী কূটনীতিককে ডেকে সাবধান করা হয় তখন, যখন তাঁদের হাতে নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকে। এবং সেটা তাঁর হাতে হস্তান্তর করেই সাবধান করা হয়, বা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এটাই কূটনৈতিক শিষ্টাচার। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস সরকার তা করেনি, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মাকে তলব করে, একটা বিবৃতি জারি করে দেয়। সেটা আবার প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজেও আপলোড করা হয়েছে। সেখানে ভারতীয় হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাচেষ্টাকারীরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা রোধে ভারত সরকার যেন বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতা করে এবং তারা ভারতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলে তাদেরকে যেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে পাকড়াও করার উদ্যোগ নেয় এবং বাংলাদেশের কাছে তাদেরকে প্রত্যর্পণ করে।
কিন্তু ওসমান হাদিকে হত্যার চেষ্টা করা ওই ব্যক্তি কি আদৌ ভারতে পালিয়ে এসেছে? কি প্রমাণ আছে বাংলাদেশের হাতে? যেখানে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করছে আইন-শৃংখলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওসমান হাদিকে গুলির অভিযুক্ত ফয়সালের সাথে একটি বড় ইসলামি দলের কতিপয় নেতার সম্পৃক্ততা পেয়েছে গোয়েন্দারা। অর্থাৎ, বাংলাদেশের মধ্যেই কিছু একটা ঘটেছে। ওসমান হাদি, যিনি নিজেই ভারত বিদ্বেষী ছিলেন। তিনি বরাবরই ভারতকে টার্গেট করেছেন। উল্লেখ্য একটি বিতর্কিত ম্যাপ প্রকাশের পরই তাঁর ওপর হামলা হয়। এটুকু অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতকে কাঠগড়ায় তুলেছে এক শ্রেনির মানুষ। আর তাতেই তাল মিলিয়েছে অন্তরবর্তী সরকার। ভারত আপাতত প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশের দাবি। কিন্তু বেশিদিন হয়তো সহ্য করবে না মুহাম্মদ ইউনূসের এই দম্ভ। এটা মাথায় রাখতে হবে ঢাকাকে।












Discussion about this post