মানুষের মনে বহু চর্চিত একটাই প্রশ্ন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা দুঁদে রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা কি দেশে ফিরবেন এক কোথায় উত্তর টা হল হ্যাঁ। হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন। দেশে না থেকেও দেশের বাইরে থেকে কিভাবে দেশ শাসন করতে হয় তা হয়ত তার থেকে ভালো কেউ জানেনা। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে হাসিনা ক্ষমতাচুত্য হলেও, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য তিনি দেশ ছাড়া হলেও, দল আওয়ামীলীগের হ্রাস এখনও মুজিব কন্যা হাসিনার হাতেই। ভারতের আশ্রয়ে থেকেও ক্রমাগত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন তিনি।
হাসিনা পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মহম্মদ ইউনুস ক্ষমতা দখল করে লাগাতার হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা, কুৎসা রটিয়েছেন। ইউনুসের আমলে গত ১৭ ই নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে হাসিনারই তৈরী করা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আর এই ১৭ ই নভেম্বরই হাসিনার দেশে ফেরার পথ আরও প্রশস্ত করে দিয়েছে। শেখ হাসিনা সহ তার আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যিনিই গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিন না কেন সেই সাক্ষাৎকারে অতি অবশ্যই জায়গা করে নেবেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান। শেখ হাসিনার পদত্যাগের পিছনের কারণ এই সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামানই। অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানোর আগে ১৩ ই নভেম্বর সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের অস্থির অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। আর সেইখানে স্বভাবতই বিশ্বাসঘাতক সেনাপ্রধান ওয়াকারের কথা উঠে এসেছিল। ওই সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, ৫ ই অগাস্ট সেনাবাহিনীকে অত্যন্ত বেগ পেতে হয়েছিল। ৫ ই অগাস্ট আমার জন্য এত ভয়ঙ্কর একটা দিন তা আমি বুঝতে পারিনি। এই প্ৰেক্ষিতে বহু প্রশ্ন উঠে আসছে যেমন, হাসিনার সাথে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনা করেও কেন সেনাপ্রধান ওয়াকার খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন তাহলে কী ওয়াকার নিজের পিঠ বাঁচাতে অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনুসের কাছে নতিস্বীকার করছেন নাকি মার্কিন চাপ ছিল ওয়াকারের মাথায়
ইউনুসকে যারা ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছেন তারাই পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ৫ ই অগাস্টের খেলাটা খেলেছেন তা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। অন্যদিকে, হাসিনাকে বলতে শোনা গেছিল যে তাকে সরানোর প্লট সাজিয়েছিল তার বিশ্বস্ত ওয়াকার। আবার হাসিনাকে এও বলতে শোনা যায়, ৫ ই অগাস্ট ওয়াকারের কিছু করার ছিল না। ওয়াকার চেয়েছিল প্রাণহানি ও রক্তপাত এড়াতে। হাসিনার মুখে ওয়াকারকে নিয়ে দু রকম কথা শোনা গেছে, তাহলে কী হাসিনা ওয়াকারের হাত ধরে দেশে ফিরতে চান এ থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ ছেড়ে হাসিনার ভারতে আসার পিছনে সেনাবাহিনীর একটা হাত ছিল। এ থেকে এটা ধরে নেওয়া যেতেই পারে যে হাসিনাকে পুনঃরায় দেশে ফেরাতে সেনাবাহিনীই রাস্তা প্রশস্ত করবে। যতই হোক ওয়াকার হাসিনার স্বজন বলে কথা। এখন ওয়াকারের সাথেই হাসিনা দেশে ফেরেন কিনা তা সময়ের অপেক্ষা।












Discussion about this post