২০২৪ বাংলাদেশের পালা বদলের পর পদ্মা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষমতায় প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। বরাবরই তিনি ভারত বিরোধী বলেই পরিচিত। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি ইতিমধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিনিও বিভিন্ন সময় ভারত বিরোধী স্লোগান এবং ভারতের মানচিত্র বিকৃতি করে পোস্ট করে খবরের শিরোনামে এসেছেন। এরই মধ্যে ঢাকায় এক জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ টেনে আনলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে সদ্য জন্ম প্রাপ্ত জাতীয়তাবাদী নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে তিনি দাবি করে বসলেন ভারতবিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলিকে আশ্রয় দেওয়া হবে এবং ‘সেভেন সিস্টার্স’কে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হবে।বক্তব্যটি ঘিরে তাৎক্ষণিকভাবে বিতর্ক ছড়ায়। এবং এই বক্তব্য সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং বাংলাদেশ পেরিয়ে ভারতবর্ষেও এই বক্তব্য বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত ‘সেভেন সিস্টার্স’ বলতে ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য-অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরা-কে বোঝানো হয়। এই অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত যোগসূত্রও রয়েছে। কারণ আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম-এই চার রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত যুক্ত হয়েছে। ফলে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর ওই মন্তব্যকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এবং শুধু এখনই নয় এর আগেও এনসিপির বিভিন্ন নেতার মুখে ভারত বিরোধী স্লোগান রন্ধে রন্ধে উঠে এসেছে। তবে কি হাদি যখন মৃত্যু শয্যায় রয়েছেন সেই মুহূর্তে এনসিপি বাজার গরম করার অবলম্বন হিসাবে ভারতের সেভেন সিস্টার্স ভাঙার আওয়াজ তুলেছে। যাতে করে প্রিয় গুরু ইউনূসের মন ও মান দুই রক্ষা করতে পারবে এনসিপি! উক্ত ওই সমাবেশে হাসনাত দাবি করেন- ‘আমরা বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ভারতবিরোধী শক্তিগুলোকে আশ্রয় দেব, তারপর ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করব’।
তাঁর বক্তব্যের পরে উপস্থিত জনতার একাংশের মধ্যে উল্লাসও লক্ষ্য করা যায়-যা বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে তলে তলে ইউনুস তার প্রিয় ছাত্রদল এন সি পি কে দিয়ে পাকিস্তানের সাহায্যে ভারত ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করছে। ভারত বাংলাদেশের বিজয় উৎসবের দিন হাসনাতের এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য রাখে বলে মত ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
অন্যদিকে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অতীতেও অভিযোগ করেছে যে উত্তর-পূর্ব ভারতে সক্রিয় কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী এক সময় বাংলাদেশকে আশ্রয়স্থল, যাতায়াতের পথ ও লজিস্টিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত-বিশেষত ৯০ এর দশকে এই বিচরণ শুরু হয়। সেই সময়ে সীমান্তের ওপারে শিবির, নিরাপদ ঘাঁটি ও সহায়তামূলক নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের কথা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা ভারত বিরোধী ইউনূসের সুর বহুবার সেভেন সিস্টার ভাঙ্গার হম্বিতম্বি শোনা যায় এর আগেও। বিভিন্ন সভায় দেশে এবং বিদেশের মাটিতে বসেও ইউনূস স্বমহিমায় ভারতের সেভেন সিস্টার্স ভাঙ্গার কথা বলেছেন। মূলত হাসিনা এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবার বরাবর ভারতের সাহায্যের কথা ভোলেনি বাংলাদেশ জন্মের প্রথম ছাড়পত্র সই তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী করেছিলেন। এবং তার পরে পরেই বিভিন্ন রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ছাড়পত্র দেয়। কাজেই হাসিনা প্রধানমন্ত্রীতে থাকাকালীন ভারতের সাহায্য কোনদিনই ভোলেননি এবং ভারতকে বরাবর হাসিনা সরকার বন্ধু হিসেবে দেখে এসেছেন। ভারতও সেই মর্যাদা হাসিনার বাংলাদেশকে এতদিন দিয়ে এসেছে। কিন্তু যবে থেকে বাংলাদেশে পালাবদলের সাথে ক্ষমতায় বসেছেন ইউনুস তখন থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে থেকেছে। এখন ভারত-বাংলাদেশ দুই সীমান্তই উত্তপ্ত হয় যখন তখন। ভারতীয় সেনা অর্থাৎ বিএসএফ এবং বাংলাদেশ সেনা অর্থাৎ বিজিপির সংঘর্ষ এখন বরাবরই সংবাদ শিরোনামে থাকে। এই পরিস্থিতির মধ্যে উন্মুক্ত সভায় এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লার এই ভয়ংকর বাণী ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে নিয়ে যায় এবং ভারত হাসনাতের করা বক্তব্যে কোন প্রতিক্রিয়া পদক্ষেপ নেয় কিনা সেটিই দেখার।












Discussion about this post