বাংলাদেশের ডন দাউদ। হাদি-কাণ্ডে নাম উঠে এসেছে ফয়সাল মাসুদ করিমের। জানেন কে এই দাউদ খান? এক সময় করতেন ছাত্রলীগ। এখন তার পক্ষে ওকালতি করেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি দুই দলের তরফে আশীর্বাদ পেয়েছেন এই ব্যক্তি। আসলে কথা হচ্ছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানকে নিয়ে। ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির উপর গুলির ঘটনায় যাকে সন্দেহ করা হচ্ছে তার নাম দাউদ খান। বয়স ৩৫ বছর। জন্ম পটুয়াখালীর একটি গ্রামে। বাবা হুমায়ুন কবির। মা হাসি বেগম। থাকতেন ঢাকার মনমুদপুরের আদাবর থানার ৪১ নম্বর বাড়িতে। রাজধানীর আদাবর থানার ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ। সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকে বলছেন, তিনি ছিলেন আদাবরের ছাত্রলীগের সভাপতি। ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ সভাপতি। তবে আদাবর থানায় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ফয়সাল কখনও আদাবর থানার কমিটিতে ছিলেন না। ছাত্রলীগের সদস্য পদ পরিচয়কে ব্যবহার করে এলাকায় চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু ছাত্রলীগ করাকালীন জামাইয়েত শিবিরে যোগাযোগের জন্য ছাত্রলীগ তাঁকে বহিষ্কার করে।
এরপর থেকেই ডানপন্থী দলের সঙ্গে তার সখ্যতা। ছাত্রলীগের নেতা হিসাবে আদাবরে জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বহুবার দেখা গিয়েছে ফয়সাল করিম মাসুদকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও ছিল ঘনিষ্ঠতা। জানা যায়, ফয়সাল করিম মাসুদ ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিলেন র্যা বের হাতে। সেই সময় তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং পাঁচটি গুলি উদ্ধার হয়। ফয়সাল করিম মাসুদের জামিনের জন্য আবেদন করেন বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
জানা যায়, গুলি কাণ্ডের আগেই হাদির নির্বাচনী প্রচারে দেখা গিয়েছে মাসুদকে। এমনকি হাদির সঙ্গে ফয়সালের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল কিছুদিন আগেই। ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ-সহ ডানপন্থী দলে ভিড়েছেন। জানা যাচ্ছে, গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র তথা ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির সঙ্গে তার সখ্যতাও তৈরি হয়। কিন্তু এখন তিনি পুলিশের সন্দেহের তালিকায়।
এদিকে হাদির বাঁচার সম্ভাবনা নিয়ে কিছু নিশ্চিত করে বলতে পারছে না চিকিৎসকরা। ইতিমধ্যেই এয়ারঅ্যাম্বুল্যান্সে করে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাদিকে। এদিকে হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত বাইকটিকে উদ্ধার করা গিয়েছে। এর আগে বাইকের মালিক আব্দুল হান্নানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। হান্নান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাগডাঙা পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় শ্রমিক। বাইকে যারা ছিল বলে জানা গিয়েছে, তারমধ্যে দাউদ খান এবং বাইক চালক আলমগীর হোসেন। একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গিয়েছে। তারা রয়েছে গুয়াহাটিতে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে এই দুই মতিঝিল থেকে সিলেটগামী একটি ট্রেনে ওঠে। অপারেশনের পর তারা একঘণ্টার জন্য তাদের মোবাইল বন্ধ করে। পরে যখন মোবাইল সুইচঅন করে তখন দেখা যায়, দাউদ এবং আলমগীর রয়েছে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে। বাংলাদেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেল পেয়েছে এই দুইয়ের গতিবিধির একটি ফুটেজ। সেই ফুটেজে দেখা যায়, তারা সিলেট যাওয়ার একটি ট্রেনে উঠেছে। বসে রয়েছে জানালার পাশে। গুলি করার সময় যে পোশাক তারা পরেছিল, সেই পোশাকেই তারা ট্রেনে চেপে বসে। গোয়েন্দারাও পেয়েছে একটি সিসিটিভির ফুটেজ। সেই ফুটেজ আসল কি না, তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দারা ব্যবহার করেন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজ্যান্স বা এআই। এআই নিশ্চিত করেছে এটা আসল ভিডিও। এবং সেখানে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তারা হাদির ঘাতক। সিলেট যাওয়ার উদ্দেশ্য ভারতে পালিয়ে যাওয়া। গত ১২ ডিসেম্বর রাতে তারা বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে। এছাড়াও গুলি-কাণ্ডে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকে দেশের অন্দরে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যহত রয়েছে। তবে নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, বাংলাদেশের অন্দরে এমন ঘটনা, অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। আদেও নির্বাচন হবে কি বাংলাদেশে? তবে যে দাউদ খানের নাম উঠে এসেছে, তাতে যাচ্ছে, এই দাউদকে আশ্রয় দিয়েছিল প্রথমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলিই। এমনকি ওসমান হাদিরও খুব কাছের ছিল। আর তার মূল্য তাকে দিতে হচ্ছে। এখন দেখার, হাদি-কাণ্ডের ঘটনা কোন দিকে গড়ায়!












Discussion about this post