নানান ধরণের কথা বলে বহুবার সমালোচিত হয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লা। আবারও আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে হাসনাত। এবার তার মুখে শোনা গেল ভারতের সেভন সিস্টার্সকে ভেঙে আলাদা করে দেওয়ার কথা। যা নিয়ে তিনি আরও একবার সকল গণমাধ্যমের শিরোনামে। হাসিনা জামানা শেষ হওয়ার পরেই বাংলাদেশের অন্দরে গত ১৫ – ১৬ মাস ধরে ভারত বিরোধী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনুস সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশের ভারত বিরোধী ব্যক্তিদের মুখে বারবার শোনা গেছে ভারত বিরোধী কথা ও ভারতকে দেওয়া একের পর এক হুমকি।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লা বলেন, আওয়ামীলীগের নেতা – কর্মীদের আশ্রয় দিয়ে রাখলে সেভেন সিস্টার্সকে ভারত থেকে আলাদা করে দেওয়া হবে। যারা আমার দেশের সার্বভৌমত্ত, ভোটাধিকার, মানবাধিকার, এ দেশের সন্তানদের বিশ্বাস করে না, তাদের আশ্রয়, ট্রেনিং দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে উস্কে দিচ্ছেন। আমরাও বলে দিচ্ছি, আপনাদের থেকে যারা স্বাধীনতা চায় তাদেরকেও আশ্রয় দিয়ে সেই সেভেন সিস্টার্সকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব। যারা এখনও দিল্লির তাবেদারী করছে তাদের বলছি আপনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা তৃতীয় স্বাধীনতা অর্জন করব। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনারের উদেশ্যে তিনি বলেন, আমার মৃত্যু এই নির্বাচন কমিশনারের কাছে কেবল মাত্র একটি সংখ্যা। এই মেরুদণ্ডহীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে যেন এমন ঘটনা ঘটে তার অপেক্ষায় আছি।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঘেরাও করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পাশে দাঁড়িয়ে তিন উপদেষ্টার পদত্যাগ চাওয়া ও ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর বিবেচনা করার কথা বলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাই সেই আবেগ থেকেই হয়ত হাসনাত আব্দুল্লা এধরণের মন্তব্য করে বসেছেন। কিন্তু রাগ আর আবেগ দুটোই নিয়ন্ত্রণ না করলে বলে ফেলা কথার খেসারত গুনতে হয়ে মানুষকে। আবেগ ও রাগ নিয়ন্ত্রণ করে যেকোনও রাজনীতিবিদের সর্ব প্রথম কাজ। আবেগ কেটে গেলে তারা হয়ত ভেবে দেখবেন যে এই ধরণের কথা আদেও কতটা শোভনীয় দুই দেশের জন্য।
ভারতের সাথে এমনিতেই বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো নয়। ভারতের হাই কমিশনারকে ডেকে সরকার এই বিষয়গুলি বলার সাথে সাথেই দিল্লি পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। এই সকল বিষয় দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনওভাবেই ভালো নয়। কিন্তু যেকোনও সমাধানই কূটনৈতিকভাবে করতে হবে। তার বিপরীতে কখনওই এইটা বলা যায় না যে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে ভেঙে দেওয়া হবে। কারণ, বাংলাদেশের এখনও পর্যন্ত এমন ক্ষমতা হয়ে ওঠেনি যে তারা ভারতের সাথে টেক্কা দেবে। এ সকল কিছুই যুদ্ধের দামামা বাজানোর প্রয়াস। ভারতের সাথে বাংলাদেশ যুদ্ধে জড়ালে বাংলাদেশের যে কী অবস্থা হবে তা আর বলার কিছু নেই। সারা বিশ্ব জানে বাংলাদেশের কী হাল হবে। শুধু এর উত্তর জানা নেই বাংলাদেশের। কারণ তারা নিজেরাও জানে না ভারতের সাথে যুদ্ধে জড়ালে তারা কতটুকু পেরে উঠবে। তাই বাংলাদেশ আগামীতে নিজেদের ভালো চাইলে অবশ্যই তাদের কথাবার্তা ও আচরণ কৌশলী করতে হবে।












Discussion about this post