প্রতিবেদন শুরু করতে হয় বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাম্প্রতিক অতীতে দেওয়া একটি বক্তব্য দিয়ে।
হাদি কাণ্ডে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তাঁর জবাব ছিল, ‘আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হল কোথায়? একটু মাঝে-মধ্যে খুন-খারাবি হয়। এই যে হাদির একটা ঘটনা ঘটেছে, আমরা এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে থাকি। এই ধরনের ঘটনা সব সময় ছিল। নির্বাচন এলে এই ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকে। বাংলাদেশে এগুলি নতুন নয়।’
তাঁর এই বক্তব্যের পরে বাংলাদেশে প্রথম সারির রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে হালে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সংগঠনের তরফে তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হয়। বাধ্য হয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে আবার পালটা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেই বিবৃতি ছিল নাসির উদ্দিন সাহেব কী বোঝাতে চেয়েছে। এও বলা হয়েছে, হাদির ঘটনার নিরিখে তাদের তরফে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিশন হাদির ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। যার অংশ হিসেবে ১৪ ডিসেম্বর বিকেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিশন জরুরী সভা করে। সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলাকারীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কঠোর নির্দেশ দেন।
কার্যক্ষেত্রে ওই নির্দেশ যে খাতায় কলমে, সেটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে মিরপুরের একটি ঘটনা থেকে। ২০ ডিসেম্বর, শনিবার সন্ধ্যায় হোসনারা সাদিক নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ধরতে গেলে এনসিপির ছয় নেতাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপান হয়। এনসিপি নেতাদের সঙ্গে ছিল পুলিশ। তাদের সামনেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে দুষ্কৃতীরা কোপায়। আহতদের অভিযোগ বিএনপি নেতা হারুন এবং কামালের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। তবে এই ঘটনা এখনও পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনও মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ওই দিন রাতেই শহীদ সোহরাওর্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে তাদের দেখতে হাসপাতালে যান এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব।
হামলা হয়েছে সোমবারেও। খুলনায় নাহিদ ইসলামের জাতীয় নাগরিক পার্টির এক নেতার বাড়ি ঢুকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। হামলার শিকার এনসিপির শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা মহম্মদ মোতালেব শিকদার। তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দলীয় সূত্রে খবর, কিছুদিনের মধ্যে খুলনায় এনসিপির শ্রমিক সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এই ঘটনা। সোনাডাঙা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মোতালেবকে কয়েকজন দুষ্কৃতী গুলি করে। তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁর মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান করানোর জন্য অন্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন হাদি। তাঁকে সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। ছ’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তার পর থেকে বাংলাদেশ জুড়ে নতুন করে অশান্তি শুরু হয়েছে। হাদির হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের পুলিশ। তাঁদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত ফয়সালের পরিবারের সদস্যেরাও রয়েছেন।












Discussion about this post