কোনও কল্পনাতেও আসে না। না ইউনূস কল্পনা করতে পেরেছেন। না তাদের স্যাঙাৎ পাকিস্তান। আর সেটাই হয়েছে। ফোন টু ফোন। সরাসরি কথা। ফোনটে এসেছিল পদ্মপার থেকে। বলা যেতে পারে, পরিস্থিতি তাঁকে বাধ্য করেছিল ফোনের ডায়াল ঘোরাতে। আর সেই খবর পেয়ে এই কনকনে শীতে ঠকঠক করে কাঁপছেন ভদ্রলোক। এমনিতেই বয়স হয়েছে। তার ওপর পদ্মার হিমেল হওয়া। এই অবস্থায় দুইয়ের ফোনে কথা হয়েছে শুনে ভদ্রলোকের মাথায় হাত। হিসেব মেলাতে পারছেন না। এক ফোনে সব হিসেবে ঘেঁটে ঘ। খালি একে জিজ্ঞেস করছেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করছেন। জানতে চাইছেন, এই দুয়ের মধ্যে কী কথা হয়েছে? কেউ কোনও উত্তর না দেওয়ায় ভদ্রলোক পড়েছেন ফাঁপড়ে।
ফাঁপডে পড়ার আরও কারণ রয়েছে। ভদ্রলোকের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনওরকম আগ্রহ ছিল না। চাপের মুখে রাজি হলেও দেশের অভ্যন্তরে একের পর এক নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রায় লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে সব ছক। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বহু নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে দেশজুড়ে। সে দেশে বহু ভারতীয় সম্পত্তি মৌলবাদীদের আক্রমণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রামে ভারতীয় দূতাবাস। স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রসঙ্গে আলোচনা চলছে ভারত-বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের মধ্যে। ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীকে ফোন করলে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। জেনারেল দ্বিবেদীকে ভারতীয় সম্পত্তি রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার।
ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিবেশী দেশে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভারত ও বাংলাদেশের সেনাপ্রধান সরাসরি আলোচনা করছেন। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার ভারতের সেনাপ্রধানকে ভারতীয় সম্পদের নিরাপত্তার বিষয়ে। জানা গিয়েছে, ওয়াকার আশ্বস্ত করেছেন, বাংলাদেশে থাকা সমস্ত ভারতীয় সম্পত্তি নিরাপদে থাকবে। দেশের অভ্যন্তরে উত্তেজনা বাড়লেও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রশ্নে ঢাকার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন।
ভারত বিরোধী নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে হিংসার আগুন। ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু দাসের হত্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অভিযোগ উঠেছে ইউনূস প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার জেরেই পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভারত বার বার সে দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছেন। স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা জানিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা, অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দিতে গভীর ষড়যন্ত্র তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের মসনদে ইউনূস আসার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের সমস্যার জন্য ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে সেখানকার নেতারা। নেত্রকোনা ১ আসনের প্রার্থী গাজি রুহি কড়া সুরে বলেন, ওসমান হত্যাকাণ্ডে বিচার না হওয়ায় পর্যন্ত দেশে কোনও নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, ‘ভারতের ষড়যন্ত্রে দিনের আলোয় আমার ভাই ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ’
এই তিক্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল দ্বিবেদীর সঙ্গে জেনারেল ওয়াকারের ফোনালাপ অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ইউনূসের জমানায় পাকিস্তান সেনার সঙ্গে বাংলাদেশের সেনার একটা গোপন আঁতাত তৈরি হয়েছে। সেই অবস্থায় সে দেশে থাকা ভারতীয় সম্পত্তি রক্ষায় জেনারেল ওয়াকারের আশ্বাসের মধ্যে দিয়ে অনেকেই ইউনূস বিরোধিতার সুর খুঁজে পাচ্ছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post