যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সুমধুর, সেই সম্পর্ককে দায়িত্বের সঙ্গে পদ্মায় ডুবিয়েই ছাড়লেন সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশ হয়ে উঠল ভারত-বিদ্বেষী এক প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ইউনূস নিজে তো বটেই, তার অবৈধ সরকারের উপদেষ্টারাও দিল্লির উদ্দেশ্যে বিগত দিনে যে সব ভাষা প্রয়োগ করেছে, তা বলার নয়। সরকার থেকে ভারত-বিরোধী গোষ্ঠীকে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, মদত দেওয়া হয়েছে। তারা দিল্লির দিকে আঙুল তুলে কথা বলার দুঃসাহস দেখিয়েছে। সংখ্যালঘুরা নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার। গত ১৫-১৬ মাসে পদ্মাপারে যেভাবে সংখ্যালঘুদের হেনস্তা করা হয়েছে, তা বলার নয়। ভারতীয় হাইকমিশার প্রণয় ভর্মাকে ডেকে চেয়ারে বসিয়ে বেইজ্জত করা হয়েছে। হাদির মৃত্যুর প্রেক্ষিতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দফতর ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। এককথায় সব ধরনের শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে বাংলাদেশ। তাই বাধ্য হয়ে হাসিনাকে মুখ খুলতে হল। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির জন্য তিনি সরাসরি তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসকে দায়ী করেছেন। হাসিনার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার আদতে ক্ষমতাহীন হওয়ায় বাংলাদেশে হিংসাই এখন স্বাভাবিক ঘটনা। সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ই-মেল মারফৎ।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা জানিয়েছেন, ‘সম্পর্কের অবনতি, যা আপনারা লক্ষ্য করছেন, তা পুরোপুরি ইউনূসের তৈরি। ইউনূস সরকার ভারতের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিচ্ছ, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিদেশনীতি নির্ধারণের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে চরমপন্থীদের। ’ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হিংসার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অশান্তি ইউনূস জমানার মদতপুষ্ট চরমপন্থীদের তৈরি করা। এরাই ভারতীয় দূতাবাসের সামনে মিছিল করেছে, আমাদের সংবাদপত্র অফিসে হামলা হয়েছে। ’
তাঁর নতুন একটি অডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তাঁকে শোনা গিয়েছে এক আশাবাদীর ভূমিকায়। সেই অডিও বার্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশআল্লাহ, বেঁচে যখন আছি… যেভাবেই হোক আল্লাহ তো বাঁচিয়ে দিয়েছে…আবার এই বাংলাদেশ ফিরে পাব। এই দুঃশাসনের হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করব। বাংলাদেশকে আবার জাতির পিতার স্বপ্নের, সোনার, স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলব। ’
কথা বলেছেন সাম্প্রতিক একটি ঘটনা নিয়ে। বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে ওই ঘটনায় তিনি শুধু ব্যথিত নয়, রীতিমতো ক্ষুব্ধ। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও আপনারা দেখেছেন। কীভাবে ছাত্ররা শিক্ষকদের ওপরে হামলা করছে… মেরেই ফেলার অবস্থা করেছিল। সেখানে নারী-শিশু বলে কিছু নেই। একটি মেয়েকে ছেলে-মেয়ে একসাথে ধরে পিটায়, মারে। বাংলাদেশে এই ধরনের অবস্থা তো কোনওদিন ছিল না… ছেলে-মেয়েদের মধ্যে একটা লেহাস্তভিশ আদব-কায়দা ছিল। পোলাইটনেশ ছিল। আজকে তা নেই। ডক্টর ইউনূস ক্ষমতা দখল মানেই হচ্ছে বাংলাদেশের সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অর্থনীতি তো ধ্বংস.. আপনারা জানেন… একেবারে শেষ পর্যায়ে। দারিদ্র্যের হার বেড়ে গেছে। পাঁচ কোটি মানুষকে আমরা নিম্মবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে এনেছিলাম। আজকে ছয় কোটি মানুষকে সে দরিদ্রসীমার নীচে নিয়ে গিয়েছে।’
বাংলাদেশে যে লাশের রাজনীতি চলছে, সেটা খুব স্পষ্ট ভাষায় অডিও বার্তায় জানিয়ে দিয়েছেন হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘লাশ ভেসে বেড়ায়। কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন … সেই মমিনের লাশ, তুরাগ নদীতে ভাসছে। কেন? সে কেন মিছিল করল? জয় বাংলা স্লোগান দিল? যে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে, দেশ স্বাধীন করে দিয়েছে, আজকে সেই জয় বাংলা নিষিদ্ধ? বঙ্গবন্ধু, তাঁর স্মৃতি সব মুছে ফেলছে। মানুষের ঘর-বাড়ি… আমি প্রতি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যন্ত কথা বলছি। প্রত্যেকটা ইউনিয়নে আমাদের নেতা-কর্মীদের ঘর-বাড়ি হামলা করে ভেঙে ফেলা… তাদের ওপর অকথ্য অত্যাচার… হত্যা করা.. এবং তাদের মেয়েদের লাঞ্ছিত করা … ছেলেদের ওপরে হামলা…ছেলেকে না পেলে মাকে খুন করা… বাবাকে লাঞ্ছিত করা। এমনকী দাদি, শ্বশুরবাড়ি তাও রেহাই পাচ্ছে না। আত্মীয়-সজন পরিবার, তারাও রেহাই পাচ্ছে না। খুঁজে, খুঁজে প্রত্যেকের এগুলি তাঁর… ইউনূস সেন্টারে বসে লোক ভাড়া করে সমস্ত জায়গার তথ্য নিয়ে ডেটা করে তারপরে একটার পর একটা আমাদের নেতা-কর্মীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। কারাগারের মধ্যে অসহনীয় নির্যাতন সমস্ত নেতা কর্মীদের। আপনারা দেখেছেন অসুস্থ হলে চিকিৎসা দেয় না। মুমূর্ষরোগীর হাতে হাতকড়া, মৃত্যুর দুই-তিন ঘণ্টা পরে সে হাতকড়া খোলে। জানি না কোনও সভ্য দেশে, গণতান্ত্রিক দেশে এরকম হয় কি না ’












Discussion about this post