কয়েকদিন যাবত আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঘিরে তেমন কোনও আলোচনা সামনে আসেনি। ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে বাংলাদেশ তোলপাড় হয়েছে। তাই নিয়েই চলছে আলোচনা, সমালোচনা। নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। কিন্তু শেখ হাসিনা নিয়ে আলোচনা লক্ষ্য করা যায়নি। অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের কোনও লক্ষণ নেই। কারণ তাদের নিবন্ধনও বাতিল হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম সাংবাদিক সম্মেলন করে জানালেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কিন্তু এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপের ক্ষেত্রে সরকারের ভাষ্য কি? শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে, সেটাই এখন বড় আলোচনার বিষয়।
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে হবে গণভোট। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোনওভাবেই অংশ গ্রহন করতে পারবে না বলে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম। তিনি একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন। তিনি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামী লীগ। বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তিনি নিশ্চিত করে জানিয়ে দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত জানাতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন বক্তব্য রেখেছেন। প্রধান উপদেষ্টাকে
মার্কিন পাস আইন প্রণেতার চিঠি দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন। অর্থাৎ পাঁচজন আইন প্রণেতা মার্কিন, তারা প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি পাঠিয়েছিল। সেই খবর সামনে এসেছে। সে বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত হল, সেই নিয়েই প্রশ্ন করা হয়েছিল। প্রেস সেক্রেটারি এই বিষয়ে বলেন, তিনি চিঠিটি দেখেননি। তাই এই বিষয়ে জানেন না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ। তাই তারা নির্বাচনে কোনওভাবেই অংশগ্রহণ করছে না। অনেকে বলছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য ইউনূস সরকারের কাছে একটি আন্তর্জাতিক চাপ আসছে। যেটা সরকার সামনে আনছে না। কিন্তু সেগুলি কাটিয়ে সত্যিই কি আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাদ রাখবে অন্তবর্তী সরকার? যদি সেটা হয়ে থাকে, তবে বিশ্বের বহু দেশ বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হবে না। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু প্রেস সেক্রেটারি যে বক্তব্য রাখলেন, তাতে অনেকেই বলছেন, সরকার যেনতেন প্রকারণে হাসিনার দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেবে না।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতে বসে ই-মেল মারফত এএনআই সংবাদ সংস্থাকে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছে, সেটা ইউনূস সরকারের জন্য। তিনি সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকারকে দোষারোপ করেন। তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ছিল, সেটা কার্যত তলানিতে মহুমুফ সরকারের জন্য। এমনকি তিনি এটাও বলেছিলেন, এই সরকারের আমলে তিনি কোনওভাবেই ফিরবেন না। পরবর্তী নির্বাচিত কোনও সরকার এলে তবেই তিনি ফিরবেন। তবে সেটা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হলে, সেই নির্বাচিত সরকারের আমলে তিনি ফিরবেন। অর্থাৎ আগামী ১২f ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, সেই নির্বাচনে বিএনপি বা জামাত ই-ইসলামি, যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভবনা অত্যন্ত কম। এরমধ্যে অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগ সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও, তারা জাতীয় পার্টির মাধ্যমে অংশগ্রহন করবে। এমন একটি ন্যারেটিভ সেট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই গুঞ্জন কি আদেও সত্যি হতে যাচ্ছে? এর মাধ্যমে তাদের স্বার্থ কি পূরণ হবে? নাকি অন্য পথে হাঁটবে শেখ হাসিনার দল? এখন দেখার, শেষমেষ বাংলাদেশে কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post