তবে কি গুঞ্জনই সত্যি হতে যাচ্ছে? ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক চিরতরে শেষ হতে যাচ্ছে? অন্তত দুই দেশের পাল্টা পদক্ষেপ..অনেক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। ভিসা বন্ধের পাল্টা জবাব হিসাবে এইবার বাংলাদেশও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ভারতের ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের কনস্যুলার সেবাও স্থবির হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী এলাকাতে ভারতীয় সেনার নজিরবিহীন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মিজোরাম সীমান্তে তৈরি হচ্ছে নতুন সেনাঘাঁটি। হাঁসিমারা বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে রাফাল যুদ্ধবিমান। যেটা কয়েক মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশের আকাশসীমায় আঘাত হানতে পারে। তবে কি নয়া দিল্লি বড় কোনও অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে? নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও বিষয় রয়েছে?
কুটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন আর কূটনৈতিক স্তরে আটকে নেই বা আলোচনার টেবিলেও আটকে নেই। যতদিন এগোচ্ছে, ততই ভয়াবহ হচ্ছে পরিস্থিতি। জানা যাচ্ছে, আগরতলা ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পাল্টা আবার ঢাকা, ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এর জেরে দুই দেশের সাধারণ জনগণ সমস্যায় পড়েছে। কিন্তু কেন এই অবনতি?
আসলে ঘটনার সূত্রপাত ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। এই ঘটনার পর বাংলাদেশ নতুন করে অশান্ত হয়ে ওঠে। এমনকি বাংলাদেশে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে তুমুল হামলা ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। দিপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপরই ভারতে প্রতিবাদ দেখানো হয়। এছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থিতি ভারতের উপ-দৃতাবাসে চলে বিক্ষোভ, হামলা। পাল্টা কলকাতাতেও দেখা যায়, বাংলাদেশের দ্রুতাবাসের সামনে বিক্ষোভ। যদিও সেটা বাংলাদেশের থেকে অনেকটাই আলাদা। বাংলাদেশে যে বিক্ষোভ হামলা ঘটেছে, সেখানে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু কলকাতায় যে বিক্ষোভ ঘটেছে, সেটা শুধুই বিক্ষোভ। কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি। এমনকি বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিশ লাঠিচার্জ পর্যন্ত করে।
এরপরই বাংলাদেশ পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। ফাটল ক্রমশ চওড়া হয়। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এটাকে দেখছেন, দুই দেশের ইতিহাসে সবথেকে বড় ফাটল হিসাবে। তবে শুধু ভিসা বন্ধ, কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি নয়। মূল ঘটনা ঘটছে সীমান্তের ওপারে। উত্তর-পূর্ব ভারতে, বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনী শক্তি বহুগুণ বাড়িয়েছে। মিজোরামে স্থাপন করা হয়েছে নতুন সেনাঘাঁটি। এর দায়িত্বে থাকছে ভারতের সেভেনটিন মাউন্ট্যান্ট স্ট্রাইক ক্যুর। যারা যেকোনও মুহূর্তে আক্রমণ শানাতে প্রস্তুত থাকে। শুধু তাই নয়, শিলচর ও মিজোরামের ফ্রন্টিয়ারের অধীনে থাকা তিনটি ব্যাটালিয়ন এখন দিনরাত এক করে বাঙ্কারে ভূ-গর্ভস্থ অস্ত্রাগার তৈরি করছে।
ভারতের হয়তো এইভাবে ভাবছে, যে বাংলাদেশে যেভাবে ভারত বিরোধিতা বাড়ছে, তাতে তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যেটার সঙ্গে আপোষ করতে নারাজ ভারত। সেই কারণে সীমান্তে নজিরবিহীন নিরাপত্তা চালাচ্ছে ভারত। জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের হাদিমারা বিমান ঘাঁটিতে ভারত তাদের সবথেকে আধুনিক ও শক্তিশালী রাফাল যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করেছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছে, এই ঘাটি থেকে উড্ডয়ন করে যেকোনও প্রান্ত থেকে হামলা চালাতে পারে। এখন প্রশ্ন, এটা কি শুধুই আত্মরক্ষা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? তা নিয়ে চলছে প্রবল কাটা ছেঁড়া। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রামচন্দ্র তিওয়ারি সম্প্রতি বিএসএফ এবং অসম রাইফেলসের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের পর সীমান্তে বাঙ্কার তৈরির কাজ দ্রুত চলছে। মিজোরাম, বাংলাদেশ সীমান্তে চতুর্থ একটি বিশাল সামরিক ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্দরে পরিস্থিতিও আগুনে ঘি ঢালছে। শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু ও পরবর্তীতে ছাত্রনেতাদের হুঙ্কার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কিছুদিন আগেই হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, প্রয়োজনে ভারতের সেভেন সিস্টার্স আলাদা করে দেওয়া হবে।
সারজিস আলম ঘোষণা করেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত হাদির খুনিদের বিচার না হবে, ততক্ষণ ভারতীয় দূতাবাস বাংলাদেশে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালাতে পারবে না। বাংলাদেশের অন্দরে সমস্ত জায়গায় ভারত বিরোধী স্লোগান শোনা যাচ্ছে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও উগ্র কট্টরপন্থার প্রচার চালানো হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। তবে তারা নিজেরা জানে না, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বিপদে পড়তে পারে। তার কারণ এই অবস্থায় নির্বাচন পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হতে পারে। যা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংগঠন তুলতে শুরু করেছে। এখন দেখার, আদতে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভালো কবে বোঝে!
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post