বাংলাদেশে সনাতনী হিন্দু দীপু দাসকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় আজ বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্ব মহলে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছে ইউনূস প্রশাসন।এই ঘটনার পর ভারতীয়রা বাংলাদেশের উপর ক্ষুব্ধ। দিল্লী সহ পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারত বর্ষ জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল প্রদর্শন চলছে। ভারত সরকারও বাংলাদেশের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। অবশেষে ভারতের সুবিশাল চাপে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূস নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। মঙ্গলবার সেদেশের শিক্ষামন্ত্রী সিআর আবরার দীপুর পরিবারের সাথে দেখা করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূসের কার্যালয় এক্স হ্যান্ডেলে এই তথ্য পোস্ট করেছে। ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তা এক প্রকার ভারতের চাপেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে মৌলবাদী ইউনূস। প্রসঙ্গত ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যালয় একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছে দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডে গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে ইউনূস সরকার। এবং সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সিআর আবরার মঙ্গলবার ময়মনসিংহে নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করেছেন এবং এই কঠিন সময়ে সরকারের সহানুভূতি এবং সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। বৈঠকে তিনি দীপু চন্দ্র দাসের বাবা রবিলাল দাসের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে এই হত্যাকাণ্ড একটি জঘন্য অপরাধমূলক কাজ এবং বাংলাদেশে যার কোনও স্থান নেই। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ, গুজব, বা বিশ্বাসের পার্থক্য কখনোই সহিংসতার অজুহাত হতে পারে না এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। তিনি পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। তবে প্রশ্ন এখানেই ওঠে হাদী হত্যায় কেন বেছে বেছে হিন্দুদের টার্গেট করছে বাংলাদেশ এবং পরবর্তীতে দিপুর মতন সনাতন হিন্দুর মৃত্যু ঘটা এবং ভারতের চাপে আবার তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। এ কোন অপসংস্কৃতি চালাচ্ছে বাংলাদেশের ইউনুস প্রশাসন?এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত বারো জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেই দেশের প্রশাসন।ইউনূস বলেন যে এই ধরনের সহিংসতার ঘটনা আইনের পূর্ণ শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করা হবে। তিনি বলেন যে সরকার ধর্ম, বর্ণ বা পটভূমি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখান থেকেই রাজনৈতিকবিদদের প্রশ্ন তবে কেন হত্যা হতে হল দিপু দাস নামক সনাতন হিন্দু বালকটিকে। ভারতের চাপে লজ্জার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের বর্তমান বক্তব্য- প্রতিষ্ঠান এবং নেতাদের কাছে সহিংসতা প্রত্যাখ্যান করার, বিভেদ বা অস্থিরতা তৈরির প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার এবং সংযম, মানবতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখতে হবে।এদিকে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী আবরার সাহেব বলেন যে দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে।২৫ বছর বয়সী দীপু খুনের পর ভারত বাংলাদেশের তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করা হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করার কয়েক ঘন্টা পরেই নয়াদিল্লী এই বিরাট পদক্ষেপ নেয়। ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেন-ভারতে অবস্থিত বিভিন্ন বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনের বাইরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় বাংলাদেশও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ঘটনাক্রম শুরু হয় ছাত্রনেতা ওসমান হাদির খুনের প্রতিক্রিয়ায় সম্প্রতি বাংলাদেশ জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আর তার ফলস্বরূপ ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে একজন হিন্দু ব্যক্তিকে খুন করা হয়। প্রাণভয়ে দিপু চন্দ্র দাসের আত্মনাত চিৎকার বাঁচার জন্য তা ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেখানে দিপুদাশ বারবার বাঁচার জন্য বাংলাদেশের পুলিশের কাছে অনুরোধ জানায়।
ময়নমনসিংহে নিহত দীপু দাসের পরিবারের দায়িত্ব নেবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।২৫ বছরের দীপুকে কয়েক জন পিটিয়ে খুন করে তাঁর দেহ পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়েই কাপড়কলের শ্রমিক দীপুর খুনের ঘটনাকে ‘পাশবিক অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। আরও জানান, এই অপরাধের কোনও অজুহাত হতে পারে না। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক আবারও তিক্ততার জায়গায় পৌঁছেছে নয়াদিল্লী পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের রক্ষা করতে ভারত সর্বদা কড়া হাতে অ্যাকশন নেবে। আর সেই ভয়েই কি তড়িঘড়ি ইউনুস সরকারের এহেনও সিদ্ধান্ত প্রশ্ন তুলছে বিশ্বের রাজনৈতিক মহল।












Discussion about this post