১২ই ফেব্রুয়ারি আর বেশি দূরে নয়। বাংলাদেশের নির্বাচন খুবই সন্নিকটে। নির্বাচন নিয়ে যখন নানা আলোচনা হচ্ছে, তখন নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। এমনকি ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সেটা প্রকট হয়েছে। এমনকি ওসমান হাদির নিজের ভাই পর্যন্ত এমন দাবি করেছেন, যে হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পিছনোর পরিকল্পনা চলছে। পদ্মাপাড় নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছে। তাই নির্বাচন পিছনোর বিষয়ে নানা জন নানা ব্যাখ্যা করছেন। এরমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর পদত্যাগের খবর এসেছে। এই পরিস্থিতিতে এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলছেন, ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ…এই দুই মিলে বাংলাদেশে নির্বাচন বানচাল করতে চাইছে। নির্বাচন যদি বানচাল হয়ে যায়, তবে ভারতের কতটুকু লাভ? আর আওয়ামী লীগেরই বা কতটা লাভ? চলছে কাটাছেঁড়া। তবে কি সত্যিই নয়া দিল্লি বাংলাদেশের নির্বাচন পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হস্তক্ষেপ করল?
শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। এখনও পর্যন্ত হাদির ঘটনায় মূল আসামি ফয়সাল মাসুদকে ধরতে পারেনি প্রশাসন। সে না কি একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। সে ছাত্রলীগের ঢাকার একটি অঞ্চলের সভাপতি ছিল। সেটা থেকেই অনেকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগকে। অনেকে বলছে এটা আওয়ামী লীগেরই ষড়যন্ত্র। এর সঙ্গে ভারতের খেলা নাকি যুক্ত রয়েছে। এই পরিস্থিতি যখন চলছে, এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলছেন, আওয়ামী লীগ ও ভারত নির্বাচন পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে নির্বাচন পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে নির্বাচন পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। এখানেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি দেশকে যখন কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে, সেখানে প্রমাণ দিয়ে তার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা উচিত। কারণ তিনি যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন, সেটা দেশের অভ্যন্তরে কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, ভারতের মত একটি শক্তিশালী দেশ। এমনিতেই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে আগুনে ঘি ঢালছে এনসিপি নেতাদের বক্তব্য।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে কোনa পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে এবং নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের আশ্বস্ত করেছে। এছাড়াও নাসির উদ্দিন বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা যায় দেশ অস্থিতিশীল হোক বা নির্বাচন পিছিয়ে যাক। যাতে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা যায়। আমরা সেই সুযোগ কাউকে দিতে চাই না। সঠিক সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। ১২ ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হলে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে বলে জানান তিনি। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিপাক্ষিক আলোচনাও জরুরী।
ভোট নিয়ে কোনও আশঙ্কা রয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে নাসিরউদ্দিন বলেন, সেই আশঙ্কা তো রয়েছেই। কিন্তু সেটাকে মানিয়ে আমরা ইসিকে বলেছি, তারা যেন কোনও ছোট ভুলও না করে। যাতে তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি তিনি বলেন, ইসিকে আমরা বলেছি, সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা যায়। এনসিপি নেতাদেরকেও আমরা নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছি। এমনকি নাসিরউদ্দিন এনসিপি নিজেদের প্রতীকে ভোট করবে বলেই জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্ন উত্তর পর্বে নির্দিষ্টভাবে ভারত বা আওয়ামী লীগ কিভাবে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, সেটার কোনও ব্যাখ্যা দেননি। ফলে উঠতি নেতাদের এমন মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে নয়া দিল্লি কিছু একটা করতে প্রস্তুতি হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের উপর কোনও খাড়ার ঘা নেমে এলে কি করবেন প্রধান উপদেষ্টা-সহ তার স্নেহভাজনরা…সেটাই দেখার।












Discussion about this post