তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরেছেন। ফলে বিএনপি এখন আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। যেখানে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরপর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে জামায়তে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির। যা নিয়ে কয়েকমাস আগেও চলছিল গভীর আলাপ-আলোচনা। সে সময় জামাত তাঁদের সহযোগী ইসলামিক দলগুলির সাথেই সমঝোতা করে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহনের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি আমুল বদলে গেল তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরতেই। জানা যাচ্ছে, এবার আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী আলোচনা শুরু করেছে এনসিপির সঙ্গে। প্রসঙ্গত, এনসিপি ইতিমধ্যেই ১২৫ আসনে প্রার্থীপদ নিশ্চিন্ত করেছে। প্রত্যেকেই তাঁদের এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছে এবং খরচও করেছে। এনসিপি জানিয়েছিল, তাঁরা প্রায় দেড় হাজার নমিনেশন ফর্ম বিক্রি করে ঝাড়াই বাছাই করে এই ১২৫ আসনে প্রার্থীদের নমিনেশন দিয়েছে। তার আগে বিএনপির সঙ্গে তাঁদের আসন সমঝোতার বিষয়টি ভেস্তে গিয়েছে। তবে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গিয়েছে। ফলে এখন যদি জামায়তে ইসলামীর সঙ্গে সমঝোতা হয় তাহলে সেটা কত আসনে হতে পারে?
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মন্তব্য করেছেন, মাত্র ৩০ আসনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে গেলে তা আত্মঘাতী হবে। অর্থাৎ মাত্র ৩০টি আসন নিয়ে আলোচনা চলছে জামায়েত ও এনসিপির। আর এটা সত্য়ি হলে সত্যিই এনসিপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাবে। নিজের ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ এনসিপি কী কী এবং কোন ধরনের সংকটে পড়তে পারে তাও তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, এনসিপি যে ১২৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় প্রচার শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু জামাতের সঙ্গে আসন রফা অনুযায়ী যদি মাত্র ৩০টি আসনে তাঁরা ভোটে লড়েন, তাহলে বাকি যাদের নাম কাটা যাবে, তাঁরা বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারে। এমনকি পার্টি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। এনসিপির নিজস্ব সাংগঠনিক ভিত্তিও ভেঙেচুরে যাবে বলে দাবি করেছেন রিফাত রশিদ।
রিফাতের দাবি অনুযায়ী ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এতদিন বাংলাদেশে কানাঘুঁষো চলছিল, এনসিপি হল জামাতের বি টিম। এবার সামান্য আসনে সমঝোতা করলেই সেটা প্রমানিত হয়ে যাবে। এনসিপি আর কখনো স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তা আঁকড়ে রাজনীতি করতে পারবে না। সেইসঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থান ও তাঁদের রাজনীতিকে পুরোপুরি জামায়াতের কাছে সমর্পণ করা হবে। সেটাও তাঁদের রাজনৈতিক ভিত্তিকে শিকেয় তুলে দেওয়ার সামিল। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতা নিয়ে কথাবার্তার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন এনসিপির ওই কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। তাঁর অভিযোগ, “দল ও বড় অংশের নেতারা ভুল পথে আছে”। এমনকি জামায়াতের সাথে নির্বাচনি সমঝোতায় গেলে এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরও অনেকে পদত্যাগ করতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আরও কয়েকটি বিষয় ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাঘুরি করছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সমঝোতার বিষয়ে দলের মধ্যে ঐকমত্য না থাকলেও এনসিপি কেন জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে?
যেটা দাবি করা হচ্ছে, এনসিপির প্রথমসারির নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ জামায়তের কাছে কার্যত বিক্রি হয়ে গিয়েছে। তাঁদের দাবি, অনেক টাকার সমঝোতা হয়েছে জামাতের সঙ্গে। যদিও, এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য, জামাতের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু চূড়ান্ত হয়নি। কয়েকটি দলের সাথেই তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সংস্কার প্রশ্নে জামায়াতের সাথে তাদের অবস্থানগত সামঞ্জস্য থাকার কারণে দলটির সাথে আসন সমঝোতার দিকে ঝুঁকছে এনসিপি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post