সুদীর্ঘ ১৭ বছরের ‘নির্বাসন পর্বের শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্ত্রী-কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ব্রিটেন থেকে বাংলাদেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর মা কার্যত মৃত্যু শয্যায়, তবুও স্বদেশে ফেরার স্বপ্ন তিনি ত্যাগ করেছিলেন কোনও এক তৃতীয় পক্ষের বাঁধা পেয়ে। বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন স্ব ইচ্ছায়। তারপর থেকে তিনি লন্ডন প্রবাসী, সেখানেই রাজনৈতিক আশ্রয় ছিলেন জিয়া পুত্র তারেক রহমান। তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছিল অভূতপূর্ব জটিলতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই জটিলতার মূলে ছিল ভারতবর্ষ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। অবশেষে সব জটিলতা কেটেছে সেই ভারতের হস্তক্ষেপে। তারেক দেশে ফিরলেন। এবার পালা আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার। সেটা কিভাবে সম্ভব? আসুন একটু সেই বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।
বিগত মার্কিন প্রশাসনের তরফে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের চিত্রনাট্য রচনা হয়েছিল। রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেও যায়। গতবছর ৫ আগস্ট এক সাজানো গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এতে যে জো বাইডেন প্রশাসনের হাত রয়েছে তা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছিলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখনই মনে করা হয়েছিল ট্রাম্প ক্ষমতায় আসা মাত্রই ইউনূস সরকারের পতন হবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং ভারত – মার্কিন সম্পর্কে অবনতি হয় সম্পূর্ণ অন্য কারণে। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক নীতির কারণে ভারতকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছিল। এরমধ্যেই ঘটে যায় পহেলগাঁও কাণ্ড ও অপারেশন সিঁদুর। ফলে দুই দেশের সম্পর্কে আরও ফাটল হয়। মাঝে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। ভারত তখনও চুপ। ফলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের ওপরেই ছড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করতে শুরু করে। পাকিস্তান বাংলাদেশে নিজেদের অস্তিত্ব আরও বাড়াতে শুরু করে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কার্যত হাতের বাইরে চলে যেতে শুরু করে ভারতের। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে কেবলমাত্র দুটো রাস্তা খোলা ছিল, একটা কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আর দ্বিতীয়টা যুদ্ধের মাধ্যমে। ভারত প্রথমটাই বেছে নেয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে ফিরতে পারছিলেন না। সেই সুযোগে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সে দেশে নিজেদের শিকড় আরও গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। জামাত নেতারা পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি করে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের ওপর ছড়ি ঘোরাতে শুরু করে। বলা যায় এই সরকারকে তারাই নিয়ন্ত্রণ করছিল। ভারতের কূটনৈতিকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে সক্ষম হয় এর বিপদ। সেইসঙ্গে ভারত কিছুটা বাণিজ্যিক শক্তি প্রদর্শন করে যুক্তরাষ্ট্রকে নমনীয় করে তোলে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ভারত ফ্রী ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে ফেলে। এতেই চাপে পড়ে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেই সঙ্গে ভারত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারত সফর করেন। এরপর তাঁর দেশের বক্তব্য পাল্টে যায়। সব মিলিয়ে ভারতের কূটনীতি কাজ করতে শুরু করে। তারেক রহমান দেশে ফিরলেন। এবার শেখ হাসিনাও ফিরবেন। আর ভারত সেটা করতে চাইছে। যেভাবে বিএনপির নেতা বাংলাদেশ পৌঁছে গেল, এবার শেখ হাসিনাও বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে। আর আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগেই তিনি যাবেন।












Discussion about this post