জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির সঙ্গে জোট হয়েছে জামায়েত-ই ইসলামীর। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলমের জায়গা কোথায় হবে? তারা কি এনসিপির হয়ে জামায়েত জোটেরই প্রার্থী হবেন? নাকি অন্য কোনও সিদ্ধান্তের দিকে যাবেন? এখনও পর্যন্ত আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কোনও ভাষ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জানালেন মাহফুজ আলম। তবে কি মাহফুজ নতুন দল গঠনের ডাক দিলেন? নির্বাচনের আগে কি বড় চমক দেখতে চলেছে বাংলাদেশ? এরমধ্যেই এনসিপি নেত্রী তাসনিম জারা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি আপাতত ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়াই করবেন।
এদিকে মাহফুজ আলম লিখছেন, আমার রাজনৈতিক অবস্থান। নাগরিক কমিটি ও এনসিপি জুলাইয়ের সম্মুখসারির নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল। এই দুটি সংগঠনে আমার জুলাই সহযোদ্ধারা থাকায় গত দেড় বছর, আমি চাহিবামাত্র তাদেরকে পরামর্শ, নির্দেশনা এবং পলিসিগত জায়গায় সহযোগিতা করেছি।
আমার অবস্থান স্পষ্ট। নূতন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই, সামাজিক ফ্যাসিবাদ মোকাবেলা, রিকন্সিলিয়েশন, দায়-দরদের সমাজ সহ- অনেক কথাই আমি বলেছি। যেগুলো আমার জুলাই সহযোদ্ধারা উক্ত দুটি সংগঠন থেকে বারবার বলেছেন। কিন্তু, তারা এগুলো ধারণ করতেন? এনসিপিকে একটা বিগ জুলাই আম্ব্রেলা আকারে স্বতন্ত্র উপায়ে দাঁড় করানোর জন্য আমি সকল চেষ্টাই করেছি। কিন্তু, অনেক কারণেই সেটা সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ তিনি এনসিপিতে থেকে ব্যর্থ, এটাই বলতে চেয়েছে মাহফুজ আলম।
তিনি বলছেন, বিদ্যমান বাস্তবতায় আমার জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান, স্নেহ এবং বন্ধুত্ব মুছে যাবে না। কিন্তু, আমি এ এনসিপির অংশ হচ্ছি না। অর্থাৎ তিনি এনসিপি তে থাকছেন না। আমাকে জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়নি, এটা সত্য নয়। কিন্তু ঢাকার কোনও একটা আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়ার চাইতে আমার লং স্টান্ডিং পহয়জিশন ধরে রাখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও তিনি বলছেন, ইতিহাসের এ চলতি পর্বে বাংলাদেশ একটা শীতল যুদ্ধে আছে। এ পর্বে কোন পক্ষ না নিয়ে নিজেদের বক্তব্য ও নীতিতে অটল থাকাই শ্রেয়। বিকল্প তরুণ/ জুলাই শক্তির সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বরং, আমি গত দেড় বছরে যা বলেছি, যে নীতিতে বিশ্বাস রেখেছি, তা অব্যাহত রাখব। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সকল উপায়ে। If you care to join me, you are most welcome. নূতন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত সম্ভব ও বাস্তব। বিকল্প ও মধ্যপন্থী তরুণ/ জুলাই শক্তির উত্থান অত্যাসন্ন। এখানেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আরও একটি জুলাই মঞ্চ তৈরি হয়, আরও এখটি রাজনৈতিক দল গঠিত হয়, তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে কি মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকেও নিজেদের দিকে টেনে নিতে চাইছেন? একটি বিকল্প শক্তি নাকি তৈরি হচ্ছে। যেখানে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর মাত্র মেরে কেটে মাঝে এক মাস বাকি, সেখানে নতুন নতুন চমক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন দেখার, শেষমেশ বাংলাদেশে পরিস্থিতি এখন কি তৈরি হয়।












Discussion about this post