এক সপ্তাহের মধ্যে আমেরিকা এবং ব্রিটেনের মত দুই পরাশক্তি আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলল। তবে কি এইবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফুল পাওয়ারে আওযামী লীগ? ১৬ই ডিসেম্বর ব্রিটেনের কয়েকজন এমপি এবং ২৩ ডিসেম্বর আমেরিকার কয়েকজন কংগ্রেস ম্যান আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেন। তারা বলছেন, তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য প্রত্যেকের সহাবস্থান জরুরি। এইবার প্রথম নয়। গত বছর ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। গত বছর অভ্যুত্থানের সময় অসংখ্য খুন, গুম ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এমনটাই অভিযোগ বর্তমান সরকারের। এমনকি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে। যদিও হাসিনা এখন ভারতে। অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। নির্বাচনে যাতে অংশ নিতে পারে, তাই এই অবস্থান নির্বাচন কমিশন ও সরকারের।
এদিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাতে নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন করে, তাই নিয়ে ভারত বারবার সোচ্চার হয়েছে। গত মে মাসে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এরপরই এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনকে অনুরোধকে চিঠি দেয় ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার। যদিও এখনও পর্যন্ত তাদের অনুরোধে সারা দেয়নি জাতিসংঘ। তবে আওয়ামী লীগের অনুরোধে সাড়া দিয়েছে ব্রিটেন ও আমেরিকা। ১৬ই ডিসেম্বর ব্রিটিশ পালমেন্টে সাম্প্রতিক বাংলাদেশের সহিংসতা নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক বন্দি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রথম দিনে প্রস্তাব উত্থাপিত করে।
এমনকি বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চেয়ে পার্লামেন্টের প্রথম দিনের বিষয় উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে সাক্ষর করেন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি সহ অনেকেই সাক্ষর করেন বলে জানা যায়। এর ফু সপ্তাহ আগে ৩রা ডিসেম্বর আরও একটি প্রস্তাব ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয়। যেখানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি সহ ১২ জন এমপি সাক্ষর করেন। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। সর্বশেষ আহবানটি এল মার্কিন কংগ্রেস থেকে। বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আয়োজনের আহ্বান করে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে চিঠি দেয় মার্কিন কংগ্রেস। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। কংগ্রেসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর দক্ষিণ এশীয় বিষয়ক সাব কমিটি অফিসিয়াল চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টাকে লেখেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থগিত হলে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল পুনরায় চালু হলে সুষ্ঠ নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।
মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক অফিসিয়াল প্যাডে চিঠিতে সাক্ষর করেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সাব কমিটির চেয়ারম্যান ও পাঁচ কংগ্রেস সদস্য। চিঠিতে তারা লেখেন, বাংলাদেশে দুটি গত নির্বাচনে অবাধ এবং সুষ্ঠু ছিল না। প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই বাংলাদেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা জরুরি। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেস গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই সিদ্ধান্তের পুন বিবেচনার কথা জানান।
এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মবের ঘটনায় নিন্দা জামান। সেই সময় আলোচনায় আসে হাসিনা পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের নাম। মাসিক আড়াই কোটি টাকা ওয়াশিংটন ডিসির লবিং ফান্ড স্টেট গ্লোবাল ডিপ্লোম্যাসিকে নিয়োগ করেছেন। অন্তবর্তী সরকারের কাছে আন্তর্জাতিক চাপ এলেও এখনও তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। তবে জাতীয় পার্টি বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক চাপ এলে আর কতদিন নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে পারবে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার? নাকি বাংলাদেশে রাজনৈতিক হিসেব নিকেশে ফের ফিরে আসবে আওয়ামী লীগ?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post