মৌলবাদী ইউনুসের বাংলাদেশে সুরক্ষিত নয় সংখ্যালঘু হিন্দুরা। যার জলজ্যান্ত উদাহরণ সনাতন হিন্দু দীপু দাসের হত্যা। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিদেশের বিভিন্ন দেশে ইউনূসের উপর প্রতিবাদী ঝড় তুলে দিয়েছে। আঙুল উঠেছে ইউনূসের শাসন নীতির দিকে। এবার সরাসরি
বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর নৃশংসতা নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কড়া ভাষায় বাংলাদেশের উপর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। আর তাতেই রাতের ঘুম উড়েছে ইউনূস প্রশাসনের। পরবর্তীতে ভারতের হুঁশিয়ারিতে বিবৃতি দিতে বাধ্য হয় ঢাকা। সেই বিবৃতিতেও তির্যক ভঙ্গিতে ভারতের দিকে ঢিল ছুড়েছে ইউনূসের সরকার।বাংলাদেশ জানিয়েছে- হিন্দু সনাতনী দিপুদাসের হত্যার বিষয়ে ভারত অতিরঞ্জিত করছে। ওই আক্রমণগুলি হিন্দুদের উপর ছিল না।বাংলাদেশ জানিয়েছে যে নয়াদিল্লি কর্তৃক উল্লেখিত সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি ইউনূস সরকারের নৃশংসতার প্রমাণ নয় বরং বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বিদেশ মন্ত্রক বলেছে যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের দেওয়া বিবৃতিগুলি স্থল পরিস্থিতি সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না এবং অতিরঞ্জিত এবং বিভ্রান্তিকর।বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে-বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এমন যেকোনো মিথ্যা, অতিরঞ্জিত বা ইচ্ছাকৃত বিবৃতি বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে। অর্থাৎ নিজেদের দোষ ঢাকতে জোরপূর্বক ভারতের প্রচারিত সংবাদগুলিকে অতি রঞ্জিত সংবাদ বলেই প্রমাণ করতে চাইছে ইউনূস সরকার। যে হিন্দু দিপু দাসের হত্যায় গোটা বিশ্ব তোলপাড় করছে সেখানে কি করে এইরকম ইউনূসের উপদেষ্টা মহল প্রকাশ করতে পারে ছোট্ট ঘটনা হিসাবে। তা চর্চার শিরোনামে রাখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।বাংলাদেশে চরম উগ্রপন্থীদের দ্বারা হিন্দুদের উপর হামলার নিন্দা জানানোর এবং অপরাধীদের শাস্তি পাওয়ার আশা প্রকাশ করার দুই দিন পরে এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে যে হিন্দু, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ সহ সংখ্যালঘুদের উপর চলমান সহিংসতা নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকাকে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি।
ঘটনাক্রম ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে ২৭ বছর বয়সী হিন্দু টেক্সটাইল শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের গণপিটুনিতে খুনের ঘটনায় ভারতে নিন্দার ঝড় ওঠে। ভারতে অবস্থিত বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশের কার্যালয় বিক্ষোভ দেখায় ভারতে সনাতন হিন্দুরা। এবং তড়িঘড়ি কেবিনেট বৈঠক ডাকেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিদেশ মন্ত্রী জয় শঙ্কর এবং ভারতের জেমস বন্ড অজিত ডোভাল। পরবর্তীতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা আশা করছে যে এই হত্যার জন্য দায়ীদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহি করবে বাংলাদেশের ইউনূসের উপদেষ্টা মহল। বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হাজার হাজার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ভারত।যার মধ্যে রয়েছে খুন, অগ্নিসংযোগ এবং জমি দখলের অভিযোগ, এবং দুর্বল সম্প্রদায়ের জন্য ন্যায়বিচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশকে আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি।এই অভিযোগের জবাবে বাংলাদেশ জানিয়েছে যে হিন্দুদের উপর ব্যাপক নির্যাতনের প্রমাণ হিসাবে বিচ্ছিন্ন ফৌজদারি মামলাগুলিকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে যে বাংলাদেশ, তার জনগণ এবং এমনকি ভারতে অবস্থিত তার কূটনৈতিক মিশনের বিরুদ্ধে শত্রুতা উসকে দেওয়ার জন্য এই ধরনের ঘটনাগুলিকে বেছে বেছে অতিরঞ্জিত এবং বিকৃত করা হচ্ছে। দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি পাল্টা বিবৃতিতে বোঝাই যাচ্ছে পরিস্থিতি জটিল থেকে অতি জটিলের দিকে যাচ্ছে। এবং সীমান্তের উত্তেজনা ভারতের সেনাবাহিনী মোতায়েন ইঙ্গিত দিচ্ছে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ আসন্ন! অন্যদিকে এক প্রকার হুমকি সুলভ আচরণ দেখিয়েই সংযমের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ ভারতকে বিভ্রান্তিকর বর্ণনা প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে যে এই ধরনের পদক্ষেপ সুপ্রতিবেশী সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসকে নষ্ট করতে পারে এবং তাদের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে এমন সংবেদনশীল বিষয়গুলিতে দায়িত্বশীল সংলাপের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে। এবং ঢাকার এই হুমকি ভারত যে মোটেই ভালো ভাবে নেয়নি পাল্টা দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের বৈঠক এবং পরের বিবৃতি পরিষ্কার করে দিচ্ছে ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক আর আগের মতো নেই এই দুটি দেশ আর বন্ধু নেই বরং শত্রু হয়ে একে অপরের দিকে মোকাবিলা করতে এগোচ্ছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post