এখন এনসিপি নিজেদের বাঁচাতে, তাদের বাবার যে পকেট থেকে বেরিয়ে এসেছিল, আবার সেই পকেটেই ঢুকে গেল। কারণ তারা জানে জামাতের পকেট থেকেই তাদের উত্থান, এখন যদি তারা তাদের বাবাকে ছেড়ে একা একা বাঁচতে চায়, তাহলে তাদের অবস্থা হবে খুব করুন, যেমন হয়েছে মাহফুজের, উপদেষ্টা পদে থেকে জামাতকে ৭১ এর মুক্তিযু্দ্ধের বিরোধীতার কারণে ক্ষমা চায়তে বলায়, জামাত তাকে দলেই নেয়নি। ফলে ছাত্রনেতারা বুঝেছে আওয়ামীলীগ তো তাদের খাতির করে আদর যত্ন করবে পাঁচ দশ বছর পরে। কিন্তু তারা, তারেক রহমানকে যে ভাষায় অপমান করেছে, হাসিনার পথে তাকেও পাঠাবে বলেছে, তাতে বিএনপি ক্ষমতায় এসেই আগে বিচার করবে এই ছাত্রনেতাদের। অবশ্য তার আগে জামাত যদি মনে করে এই পাঁঠাগুলোর দু-একটা বলি দিয়ে ভোট পিছানো যেতে পারে। তাহলে তো বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগেই কয়েক জনের খেল খতম।
২০২৪ সালের জুলাইকে অনেকেই গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লব বলেছিলেন। কিন্তু এনসিপি যখন প্রকাশ্যে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে গেল, তখন জুলাই নিয়ে বলা সেই গল্পগুলো আর টেকে কি? জুলাইয়ের শুরু হয়েছিল কোটা সংস্কারের দাবিতে। অনেক তরুণ তখন যুক্তিসংগত ক্ষোভ থেকে রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে আন্দোলনের ভাষা বদলাতে থাকে, দাবি বদলায়, আর লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়ায় রাষ্ট্রক্ষমতা। তখনই স্পষ্ট হয়—এই আন্দোলনের ওপর একটি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা কজ করছে।এনসিপি যে আজ জামায়াতের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটা হঠাৎ কিছু না। অনেকের কাছে বিস্ময় লাগলেও, বাস্তবে এটা ছিল আগেরই লেখা স্ক্রিপ্টের শেষ দৃশ্য। “নতুন বাংলাদেশ”, “নতুন বন্দোবস্ত”—এই শব্দগুলো দিয়ে যে আশা দেখানো হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত পুরনো ও বিতর্কিত আদর্শের কাছেই আত্মসমর্পণ করল।জুলাইয়ের পরে কারা সবচেয়ে দ্রুত সংগঠিত হলো, কারা মাঠ ও ন্যারেটিভের নিয়ন্ত্রণ নিল, আর কারা রাষ্ট্রের আদর্শিক জায়গা দখল করল—এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই বলে দেয় জুলাইয়ের প্রকৃত ফলাফল কী। এনসিপি জামাতের এই জোট শুধু একটি নির্বাচনী সমঝোতা নয়। এটা তাদের রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের ঘোষণা। আর সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জুলাইয়ের তথাকথিত বিপ্লব রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেল।যে আন্দোলনকে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বলা হয়েছিল, তার শেষ ঠিকানা যদি হয় জামায়াত, তাহলে জুলাইকে আর বিপ্লব বলা যায় কি না—এই প্রশ্নটাই আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাঁক ঢোল পিটিয়ে তৈরী করা হয়েছিল বৈপ্লবিক দল এনসিপি। মহম্মদ ইউনূস নাকি মনে করেছিলন যে ছাত্ররা যদি নতুন দল তৈরী না করেন তাহলে নাকি জুলাইয়ের চেতনাটিই নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু জামাতের সমর্থনকারী ছাড়া আর কোন লোকের বুঝতে অসুবিধা আছে কি, জুলাইয়ের চেতনা আসলে মুক্তিযুদ্ধে হেরে যাওয়া বিরোধী শক্তির উত্থান। অনেক শিক্ষিত মানুষই স্বিকার করেছেন যে, তারা ছাত্রদের কোটা বিরোধী আন্দোলোনের পিছনে লুকানো গভীর ষড়যন্ত্রটি বুঝতে পারেন নি। কারণ ঐ আন্দোলোনের শুরুতে যে সমস্ত গান বাজত যে সমস্ত কথা বক্তিতায় বলা হত, সেখানে রাজাকারদের গুনগান ছিল না। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের জয়গান ছিল।ফলে এই আন্দোলোনের পিছনে কারা তা অনেকেই বুঝতে পারেন নি, কিন্তু হাসিনা তখনই বলেছিলেন এই আন্দোলোনের পিছনে কারা। কেন এই আন্দোলোন, আর পশ্চিমারা কেন এই আন্দোলোনে টাকা ঢালছে। হাসিনার সব কথা সত্যি হল ৫ই আগষ্টের পর। আর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন, তারা যখন বুঝতে পারলেন, তখন সব শেষ। ক্ষমতার দখল নিয়েছে রাজাকাররা। সাধারণ মানুষের একটি সুপ্ত আশা ছিল যে সেনাবাহীনি নিশ্চয় মুক্তিযু্দ্ধের পক্ষে থাকবে, তারা দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরোধীতা করবে, প্রথম দিকে সেনাপ্রধান কিছু বলতে চেষ্টা করেছিলেন।যে দেশে এই অস্থিরতা আমাদের নিজেদের সৃষ্টি, এতে দেশ বিপন্ন হবে। আবার কোথাও সেন্টমার্টিন আর রাখাইন করিডর নিয়ে বলতে শোনা গেছে, নো মোর ব্লাডি করিডর। তার পর মানুষ কি দেখল, দেশের মানুষ দেখল সেনা আর সেনাপ্রধান নিজেই আইসোলেটেড হয়ে গেলেন। তাদের আর খুঁজে পাওয়া গেল না। হয়তো তাদের বখরা পাওয়ার বাকি ছিল, সেটি পাওয়া শেষ হতেই, সেনাপ্রধানের দেশের প্রতি দায়িত্বও শেষ। আসল খেলা শুরু হল তখন যখন বিদেশ থেকে ভোটের জন্য চাপ আসতে শুরু হল। হাদিকে বলির পাঁঠা বানিয়ে ভোট বাঞ্চাল করার একটা চেষ্টা করেছিল জামাত।কিন্তু তারেক রহমান দেশে ফেরায় ভারত বিরোধী জঙ্গীর খবর, খবরের পাতা থেকে হারিয়ে কবরে ঢুকে গেল। আর এনসিপি ঢুকে গেল জামাতের পকেটে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post