হাসিনা অধ্যায় আপাতত কিছুদিনের জন্য ইতি। দক্ষিণ এশিয়ায় জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন তারেক রহমান। তারেকের প্রত্যাবর্তনের দিকে যেমন তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ, সমানতালে তাকিয়ে ছিল দিল্লি। জিয়া-পুত্র বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন। প্রথম দিকে, তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে ছিল চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা। তাঁর জীবনের নিরাপত্তা ছিল ঝুঁকির মধ্যে। যেই সময়ের কথা বলা হচ্ছে, সেই সময় বেগম জিয়া ছিলেন অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায়। পুত্র খালেদা মাকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন। কিন্তু তখনকার পরিস্থিতি একেবারেই তাঁর অনুকূলে না থাকায় তারেক সেই সময় দেশে ফেরার বিষয়টি পিছিয়ে দেন। অনেকে বলতে শুরু করেছেন, তারেক বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দুই প্রান্তের দুই সবুজ সংকেতের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। প্রথম সংকেত ছিল ওয়াকার অ্যান্ড কোম্পানির থেকে। দ্বিতীয়টি ছিল আমেরিকার থেকে। দু প্রান্ত থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর তারেক জিয়া দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এখন বলা হচ্ছে ভারতের স্ট্র্যাটেজিক চাল হল জিয়া-পুত্র। কোন দিক থেকে, সেটাই তুলে ধরা হবে।
তারেকের কাছে বাংলাদেশের স্বার্থ সবার আগে। তিনি এমন একজন নেতা, যিনি নিজের দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। সে কারণে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘না দিল্লি, না পিণ্ডি, সবার আগে বাংলাদেশ’। তবে ভারতের সঙ্গে সে দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককেও তিনি স্বীকার করেন। ইসলামী মূল্যবোধে তারেক-জিয়া আস্থাশীল হলেও তিনি এমন এক বাংলাদেশ গঠনের কথা বলেছেন, যেখানে সব ধর্মের সহাবস্থান নিশ্চিত থাকবে, ধর্মীয় উগ্রতার পথে দেশকে ঠেলে দেবে না। দেশে ফিরেই তারেক তাঁর পররাষ্ট্র নীতিকে সুষ্পষ্টাভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এই দেশে পাহাড়ের মানুষ যেমন আছে, তেমনি সমতলের মানুষও আছে। আমরা সকলকে নিয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশে, স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’
অন্যদিকে, জামাত কিন্তু ভারত-বিরোধী। তাদের কাছে তারেক একটি আতঙ্কের নাম। জামাত বাংলাদেশকে একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। আবার গত বছর জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা ছাত্র নেতারা কিন্তু আর সংগঠিত নয়। এদিকে, এনসিপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা জামাতের সঙ্গে জোট গঠন করে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। রবিবার ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “ আট দল একসঙ্গে ছিল। আরও দুটি দল তার সঙ্গে যোগ দিয়েছে। দল দুটি হল এনসিপি এবং কর্নেল (অব) অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি। ” এই সাংবাদিক সম্মেলনের পরে এনসিপির তরফেও সাংবাদিক সম্মেলন করে জামাতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার কথা জানানো হয়। আর তারপরেই এনসিপির সঙ্গে নিজেদের দূরত্ব তৈরির কথা ঘোষণা করেন দলের একেবারে প্রথম সারির নেতা মাহফুজ আলম। তিনি হলেন দলের দ্বিতীয় নেতা। শনিবারেই দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। পরের দিন অর্থাৎ রবিবার, ২৮ নভেম্বর এনসিপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তাজনুভা জাবীন। জামাত-এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতা ঘোষণা হওয়ার পরে পরে রাতে এক ফেসবুক পেজে মাহফুজ আলম বলেন, “আমার জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান, স্নেহ ও বন্ধুত্ব মুছে যাবে না। কিন্তু আমি এই এনসিপির অংশ নিচ্ছি না। ”
এই ইস্তফা থেকে স্পষ্ট যে এই নেতারা আর ভারত বিরোধিতায় বিশ্বাস করছে না। বলা হচ্ছে জামাতের সঙ্গে এনসিপির জোটের মূল কারিগর মুহম্মদ ইউনূস। এই ফাটলের ফলে ভারত কিন্তু কিছুটা হলেও স্বস্তিতে। সাউথব্লক এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আওয়ামী লীগ যখন বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে থাকছেই না, তখন ভারতের স্বার্থে তারেকের পাশে থাকা দরকার। আর এই খেলায় কাৎ ইউনূস বাহিনী।












Discussion about this post