ঘরওয়াপসি হয়েছে তারেকের। জিয়া-পুত্রের দেশে ফেরা নিয়ে মাত্র দুটি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রথম প্রশ্ন, যে তারেক কিছুদিন আগে মায়ের অবস্থা সংকটজনক হওয়া পরেও দেশে ফিরবেন বলেও ফিরলেন না, কোন জিওয়ন কাঠির দৌলতে তিনি মনে এতটা জোর পেলেন? কোথা থেকে তাঁকে দেওয়া হল গ্রিন সিগন্যাল?। অসমর্থিত সূত্রে খবর, এই সবুজ সংকেত গিয়েছে তিন প্রান্ত থেকে। একটি হল সাউথব্লক, দ্বিতীয়টি আমেরিকা। আর তৃতীয় এবং চূড়ান্ত সংকেত এসেছে উত্তরপাড়া থেকে। প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রথম যে দুই প্রান্তের কথা বলা হল, তার প্রেক্ষিতে কী যুক্তি রয়েছে। যুক্তি এটাই যে হাসিনা আপাতত দেশে ফেরা হচ্ছে না। বাংলাদেশের এই মুহূর্তের যা রাজনৈতিক অস্থিরতা, তার প্রেক্ষিতে এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে যে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে জামাতের মতো মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে তারেক সব চেয়ে নির্ভরশীল ব্যক্তি। আর তারেক নামটি জামাতের কাছে আতঙ্কসম। সুতরাং, জিয়া-পুত্র যাতে নির্বিঘ্নে বাংলাদেশে ফিরতে পারে, তার জন্য কূটনৈতিকস্তরে পদ্মাপারের অবৈধ সরকারকে চাপ দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক চাপ এসেছে ওয়াংশিনটন থেকেও। আর দুই চাপে ওয়াকার বাহিনী কার্যত ঠুটো জগন্নাথ। তারেকের যাতে কিছু না হয়, বিশেষ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নে, সেটা বাহিনীকে নিশ্চিত করতে হয়েছে। সে কারণে জিয়া-পুত্র যেদিন প্রবাসে তাঁর দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, সেদিন তাঁকে খুব আত্মপ্রত্যয়ী দেখা যায়। আর দেশে ফেরার পর তাঁকে ঘিরে যা দেখা গেল সেই দৃশ্য তো বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। তাঁকে বাহিনীর তরফে দেওয়া হয়েছে ‘গার্ড অব অনার।’
বলা হচ্ছে তারেকের দেশে ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে সাউথব্লক কিছু স্বার্থ পূরণ করতে চাইছে। ভারতের একটি গণমাধ্যমের দাবি, সাউথব্লক থেকে তারেকের কাঁধে কিছু ‘দায়িত্ব’ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে তাঁকে পূরণ করতে হবে। এর জন্য নির্ধারিত সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। তাকে এটাও বলা হয়েছে, তিনি যদি সেই সব দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তাহলে ভবিষ্যতে তাঁর বাংলাদেশে থাকা অনিশ্চিত হয়ে যাবে। তারেক কিন্তু সাউথব্লক আর ওয়াশিংটন ডিসির কড়া নজরে। জিয়া-পুত্র এখন সেই দায়িত্ব পালনে চূ়ডান্ত ব্যস্ত। তারেক হচ্ছে ভারতের শেষ কূটনৈতিক চাল।
এই খবরের থেকেও ব়ডো খবর হল, পাকিস্তান-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়। সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের যেরকম প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছিল, সেইরকম একটি চুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তিনটি বিষয় থাকতে পারে। প্রথম, একে অন্য দেশে ঘাঁটি তৈরি করবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। অর্থাৎ বাংলাদেশে ঘাঁটি তৈরি করবে পাকিস্তান আর পাকিস্তানে ঘাঁটি তৈরি করবে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়, একে অন্যের অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে। বাংলাদেশ যুদ্ধ করলে, পাকিস্তান তাদের যুদ্ধবিমান ভাড়ায় দিতে পারবে। এবং তৃতীয়, এক দেশ আক্রান্ত হলে, অন্য দেশ পাশে দাঁড়াবে, যুদ্ধে সাহায্য করবে। সূত্রের খবর, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কড়া ধমক খেয়ে তদারকি সরকার উত্তরপাড়া ও রাওযালপিণ্ডিকে বলেছে, চুক্তি আপাতত স্থগিত থাকুক। বাংলাদেশে পরবর্তী যে সরকার আসবে, সেই সরকার এই চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আবার এই চুক্তি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূস এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানের মধ্যে বিরাট গোল বেঁধেছে। সহজ কথায় চুক্তির কৃতিত্ব কে নেবে, তা নিয়েই ঝামেলা বেঁধেছে। ইউনূস চাইছেন বাংলাদেশে নির্বাচনের আগেই এই চুক্তি সই হয়ে যাক, আর বিএনপি নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের নির্বাচনে জয়ী হয়ে এসে বিএনপি এই চুক্তি করুক।
কী ছিল এই চুক্তিতে? চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশের আটটি এয়ারবেস, চারটি সমুদ্রবন্দর তৈরির কথা ছিল পাকিস্তানের। ভারত-বাংলাদেশ এবং মায়ানমার-বাংলাদেশের ১২টি সীমান্ত পাকিস্তান ব্যবহার করবে। অপরদিকে, বাংলাদেশে পাকিস্তানের ছয়টি এয়ারবেস এবং চারটি সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করবে। সই হওয়ার কথা ছিল ৩১ ডিসেম্বর। সই আপাতত হচ্ছে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post