মিথ্যাচার?
না কি ‘হ-য-ব-র-ল’-য়ের সেই ফিচকে বেড়ালটার সেই বিখ্যাত সংলাপের উল্লেখ করতে হয়? সে বলেছিল ‘‘চন্দ্রবিন্দুর চ, বেড়ালের তালব্য শ, আর রুমালের মা – হল চশমা। কেমন, হল তো?’ ’ … তারপর বেড়ালটা খানিক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করে বলে উঠল … “গরম লাগলে তো তিব্বত গেলেই পার।” কীভাবে যেতে হবে, সেই রাস্তাও বাতলে দিয়েছিল ওই ফিচকে বেড়াল। বলেছিল, “কলকেতা, ডায়মণ্ডহারবার, রানাঘাট, তিব্বত, ব্যাস। সিধে রাস্তা সওয়া ঘণ্টার পথ, গেলেই হল।”
রাস্তার কথা জানতে চাওয়া হলে সেই ফিচকে বেড়াল বলেছিল তার গেছো দাদা জানে। কিন্তু তার সঙ্গে দেখা করা খুব মুশকিল। কারণ, জানা গেল সে রয়েছে উলুবেড়ে। তার সঙ্গে দেখা করার জন্য কেউ যদি উলুবেড়ে যেতে চায়, তখন তিনি থাকবেন মতিহারি। আবার কেউ যদি মতিহারি গিয়ে দেখা যাবে তিনি নেই। তিনি তখন রামকিষ্টপুর। আবার সেখানে গেলে দেখা যাবে সেখানে তিনি নেই। জানা যাবে সে তখন রয়েছে কাশিমবাজার। কিছুতেই দেখা হবার জো নেই। তাহলে দেখা করার উপায়। “সে অনেক হাঙ্গাম। আগে হিসেব করে দেখতে হবে, দাদা কোথায় কোথায় নেই, তার পর হিসেব করে দেখতে হবে, দাদা, কোথায় কোথায় থাকতে পারে, তার পর দেখতে হবে, দাদা এখন কোথায় আছে। তারপর দেখতে হবে, সেই হিসেব মতো যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছবে, তখন দাদা কোথায় থাকবে। তার পর দেখতে হবে—”
হাদিকে নিয়ে সে দেশের এক পুলিশকর্তা যা বলেছেন, সেটা একেবারে হ-য-ব-র-ল-য়ের ফিচকে বেড়ালটার মতো। কে বলেছেন, কী বলেছেন, সেটা একবার জানিয়ে দেওয়া যাক। এই বিবৃতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, হাদি-হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও আলমগীর শেখ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকে। প্রথমে তাদের সাহায্য করে পূর্তি নামে এক ব্যক্তি। তারপরে সামি নামে এক ট্যাক্সিচালক তাদের মেঘালয়ে নিয়ে যায়। ঢাকা পুলিশের তরফে আরও দাবি করা হয়, ‘ঘরোয়াভাবে’ তারা জানতে পেরেছে পূর্তি ও সামিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আটক করেছেন। ভারত থেকে তাদের প্রত্যর্পণের চেষ্টা চলছে। কী বলেছেন, শোনা যাক তাঁর স্বকণ্ঠে
বাইট – এস এন নজরুল ইসলাম।
এটা ওই ফিচকে বেড়ালটার মতো “কলকেতা, ডায়মণ্ডহারবার, রানাঘাট, তিব্বত, ব্যাস। সিধে রাস্তা সওয়া ঘণ্টার পথ, গেলেই হল।”
ঢাকা পুলিশের দাবি নাকচ করে দিয়েছে মেঘালয় পুলিশ। মেঘালয়ের ডিজিপি ইদাশিসা নংগ্রং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কাউকে মেঘালয় পুলিশ গ্রেফতার করেনি। বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যম একটি সম্পূর্ণ ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল রাজ্য মেঘালয়ে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ একই বক্তব্য বিএসএফের এক কর্তার। তিনি বলে, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে ওই খবর প্রকাশের পরে তারা ওই খবরের সত্যতা যাচাই করেছে। এই সব তথ্য সম্পূর্ণ ভুয়ো। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মেঘালয় ফ্রন্টিয়ারের আইজি ওপি উপাধ্যায়ও বাংলাদেশে পুলিশের দাবি নাকচ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় কোনও হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি। বা কোনও অভিযুক্ত পালিয়েও আসেনি। ওই খবর সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাদের পাঠক এবং দর্শকদের এটাও জানিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, হাদি হত্যার পরে পরে পদ্মাপার থেকে প্রশাসনিক স্তরে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই সীমান্ত পেরিয়ে অসমের গুয়াহাটিতে চলে গিয়েছে। একবার বলা হল গুয়াহাটি, একবার বলা হচ্ছে মেঘালয়ে। এতো পরস্পর বিরোধী বক্তব্য কেন?
আসল ঘটনা হল এই হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশ সরকার রীতিমতো ফেঁসে গিয়েছে। ফাঁসিয়েছে হাদির ভাই শরিফ ওসমান হাদি। বাংলাদেশ সরকারের জন্য তাঁর বার্তা – ‘আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন। এখন এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছেন।’












Discussion about this post