বন্ধুর আজ বড়ো বিপদের দিন। তাঁর প্রতিবেশী রাষ্ট্র সজ্ঞানে ভুলে গিয়েছে তাদের দায় এবং দায়িত্ব পালনের কথা। দেশটি যাবতীয় শিষ্টাচারের সীমা লঙ্ঘন করেছে। এক উচ্চপদস্থ কূটনীতিককে ঘরে ডেকে বসিয়ে তাঁকে বেইজ্জত করেছে। একবার নয়, একাধিকবার। তাঁর কাছে এমন সব দাবি পেশ করেছে, অন্য কোনও দেশ হলে হয়তো হাইকমিশন অফিসটাই তুলে দিতে। কূটনীতিককে দিল্লিতে ফিরিয়ে নিত। এখানেই শেষ নয়। সে দেশের উঠতি কয়েকজন নেতা দিল্লির বিরুদ্ধে একের পর এক হুমকি দিয়ে এসেছে। বলেছে, যে কোনও মূল্যে তারা ভারতের সেভেন সিস্টার্স কেড়ে নিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। সে দেশের মাটি হয়ে উঠেছে বিদ্বেষের মাটি। সংখ্যালঘুরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের মনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এবার কার পালা?
বন্ধুর এমন বিপদের দিনে তাঁর পাশে দাঁড়াল রাশিয়া। পাশে দাড়িয়েছে ইজরায়েল। আর আমেরিকা তো আগেই পাশে দাঁড়িয়েছিল। এই তিন রাষ্ট্র কার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। এই তিন রাষ্ট্র কড়া বার্তা দিয়েছে মুহম্মদ ইউনূসকে। শান্তভাবে জানিয়ে দিয়েছে – হয় থামো। না হলে পরিণতি ভোগ করার জন্য প্রস্তুত থেকে। এই তিন দেশের মাস্টারস্ট্রোকে ধরাশায়ী যেমন ইউনূস, ধরাশায়ী সেই সব উঠতি নেতারা। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, তাদের বাতেলবাজি কিন্তু এখন আর শোনা যাচ্ছে না। তারাও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, আর বেশি কিছু করলে বেঁচে থাকাটাই মুশকিল হয়ে যাবে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি রুখে দাঁড়াল রাশিয়া। আর আমেরিকা থেকে দেওয়া হয়েছে আল্টিমেটাম। তবে বড়ো পদক্ষেপ এসেছে ইজরায়েলের থেকে। জেরুসালেম যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে চমকে গিয়েছে গোটা দুনিয়া।
বাংলাদেশে চলছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন। তার প্রতিবাদে ভারতে যেমন প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে, প্রতিবাদ বিক্ষোভের খবর এসেছে নেপাল থেকেও। সব বিক্ষোভের মূল সুর একটা – সংখ্যালঘু নিপীড়ন, নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। দুই সংখ্যালঘুর মৃত্যুর সঙ্গে যে বা যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। দিতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। নিশ্চিত করতে হবে যাতে অদূর ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে। এমনকী বাংলাদেশেও হয়েছে বিক্ষোভ। সংখ্যালঘুরা রীতিমতো ফুঁসছেন। এই রকম চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইজরায়েল সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ খুব প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেওয়ার পথেই কি হাঁটবেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি? প্রশ্ন উঠেছে, সাউথব্লক কি জেরুসালেমের মতো কঠোর এবং নির্ভিক পদক্ষেপ করতে পারবে?
দীপু দাসেৎ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। রাস্তায় নেমে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে। ইউনূসের কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে। দীপু দাসের ঘটনা নিছক একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এই ঘটনায় পদ্মাপারে বসবাসকারী সংখ্যালঘুদের ওপর নির্বাচনের প্রতীক। সে দেশের কট্টর এবং মৌলবাদী মোল্লাতন্ত্রীরা যেভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন শুরু করেছে, তার প্রেক্ষিতে বিশ্বের বহু দেশ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুন, না হলে ভয়াবহ পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন। রাশিয়াও ইউনূস সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে দিয়েছে। ইজরায়েল ঠিক কী পদক্ষেপ করেছে? তাদের একটি ঘোষণা গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে।
কিছুদিন আগে সিডনিতে কয়েকজন ইহুদিকে টার্গেট করা হয়। সকলের সামনে তাদের চূড়ান্ত হেনস্থা, সেই সঙ্গে অপমান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কানে সেই খবর পৌঁছে যায়। তিনি কার্যত মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। আর তাঁর বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সার তো বলে দিলেন, বিশ্বের যেখানে যেখানে যত ইহুদি আছে, তারা ইজরায়েলে ফিরে আসুক। ইজরায়েল তাদের নিরাপত্তা দেবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মোদি কি সেই পথেই হাঁটবেন? তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া হয়, সাউথব্লকও সেই পথে হাঁটবে, তাহলে সেই পদক্ষেপ বাংলাদেশের জন্য যে শিরে সংক্রান্তি হয়ে উঠবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।












Discussion about this post