শুরু করা যাক একজনের সাম্প্রতীক অতীতে দেওয়া এক জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে। এই গরম গরম ভাষণ দিয়েছিলেন এক উঠতি নেতা, যাঁর গোঁফ দাড়িও ভালো করে গজায়নি। তিনি ভারত থেকে সেভেন সিস্টার্স কেড়ে নেওয়া, কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলে, ভারতের এই সেভেন সিস্টার্সকে কেটে নিয়ে তাদের সঙ্গে জুড়ে দেবে। কীভাবে জুড়বেন তিনি, মানে কোন আঠা দিয়ে জুড়বেন, সেটা অবশ্য তাঁর গলায় শোনা যায়নি। তবে সে সাউথব্লককে রীতিমতো শাঁসায়। আঙুলও তোলে। বেশ কয়েকবার সেটা সে নাচাতে নাচাতে ভারতের বিরুদ্ধে হুংকার দেয়। বলতে বলতে এক সময় তাঁর শরীর কাঁপছিল। আর তার সামনে রাখা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বুমগুলি একটার সঙ্গে একটা লেগে গিয়ে খটখট শব্দে কেঁপে ওঠে। স্টেজে দাঁড়িয়ে ওরকম কাঁপলে চলে?
তো এই শশ্রু-গুম্ফহীন নেতাটি কী বলেছিলেন? উনি বলেছিলেন, ‘দেশের পরিবেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চাইছে, হাদি ভাইকে যারা হত্যা করেছে, নির্বাচন যারা বানচাল করতে চাইছে, সীমান্তে যারা আমাদের ভাইদেরকে, বোনদেরকে মেরে ঝুলিয়ে রাখে, তাদের আশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে ভারত। ভারতকে স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, আপনারা যেহেতু তাদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন, কথা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, ভারতে যারা সেপারেটিস্ট আছে, বাংলাদেশে আমরা তাদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে যে সেভেন সিস্টার্স রয়েছে, সেই সেভেন সিস্টার্সকে দেশ থেকে ভারত থেকে আলাদা করে দেব।’
এটা অবশ্য ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের কথা। ঠাণ্ডা তেমন পড়েনি। এখন বেশ ঠাণ্ডা। আজ সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সর্বনিম্ম তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঠাণ্ডা ভালোই পড়েছে। তাই, সেই সব বাতেলাবাজি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন শুরু হয়েছে উল্টো খেলা। ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে আলাদা করতে গিয়ে এখন নিজেদের সিস্টার্সরাই আলাদা হয়ে যাচ্ছে। গত বছর জুলাইতে এই সব উঠতি নেতারা হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন। আর এক বছর ঘুরতে না ঘুরতে তাদের এক সিস্টার নীলা ইস্রাফিল এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া তাঁর পোস্টে তিনি দলকে একটি ‘নীতিহীন’ এবং ‘রিফিউজ’ দল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তাঁরপরে ইস্তফা দিলেন তাসনিম জারা। তার ইস্তফার কারণ জামাতের সঙ্গে এনসিপির জোটে তাঁর প্রবল আপত্তি। তাসনিম জারা ইস্তফা দেন গত ২৭ ডিসেম্বর, শনিবার। আর তার পরের দিন, ২৮ ডিসেম্বর রবিবার ইস্তফা দেন আরও এক মহিলা হেভিওয়েট নেতা তাজনুভা জাবীন। অথচ এই তাসনিম জারার জামাই জামাতের টাকায় দেশের বাইরে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে গিয়েছিল। তখন জামাত তাঁর কাছে অচ্ছ্যুৎ ছিল না। আর এখন ভোটের মুখে তাঁর দল এনসিপি জামাতের সঙ্গে জোট করেছে বলে তাঁর প্রবল আপত্তি রয়েছে। দ্বিচারিতার একটা সীমা থাকা দরকার। ভোটে দাঁড়াতে গেলে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় হাজার ভোটারের সই লাগে। কিন্তু এই কম সময়ের মধ্যে তিনি কি ওতোজনের সই জোগাড় করতে পারবেন? আর জোগাড় করতে গেলে তো টাকার দরকার হয়। সেই জন্যই কি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি ৪৭ লক্ষ টাকার একটা তহবিল তৈরি করেছেন? এখন তিনি ওই টাকা কি সই জোগাড় করার জন্য খরচ করবেন?
এসবের থেকে বড়ো প্রশ্ন হল, ১২ ফেব্রুয়ারি কি পদ্মাপারে নির্বাচন হচ্ছে? কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাতিল করতে রীতিমতো সক্রিয় জামাত। তারা আরও একটা বলির পাঁঠা খুঁজছে। তাকে বলি করে তারা দেখাতে চাইবে, বাংলাদেশে এই পরিস্থিতিতে কোনওভাবেই নির্বাচন সম্ভব নয়।












Discussion about this post