দিল্লি কি বড় কোনও ছক কষছে? কারণ সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সেনার তৎপরতা সেই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রামে খানিকটা পরিস্থিতি বদলেছে। এদিকে সীমান্তে জরুরি ভিত্তিতে এক বিশাল মিলিটারি বেস তৈরির কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ভারত। যার একমাত্র লক্ষ্যবস্তু বাংলাদেশ। মিজোরামে একটি গোপন বৈঠক হয়েছে। সেখানে আসলে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে কি ভারত চূড়ান্ত কোনও প্রস্তুতি নিচ্ছে? চট্টগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সেনার মিলিটারি বেস কি ইঙ্গিত দিচ্ছে? গোপনে বাংলাদেশকে ঘিরছে ভারত?
ভারত পূর্ব সীমান্তে অনেক বেশি শক্তি বৃদ্ধি করেছে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রামচন্দ্র তিওয়ারি সম্প্রতি বিএসএফ এবং অসম রাইফেলসের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের পর সীমান্তে বাঙ্কার তৈরির কাজ দ্রুত চলছে। মিজোরাম, বাংলাদেশ সীমান্তে চতুর্থ একটি বিশাল সামরিক ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। অনেকে বলছেন, এই বৈঠকে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেটা ঘিরে প্রবলভাবে আলোচনা চলছে। এদিকে সম্প্রতি ভারত রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তি করেছে। সূত্রের খবর, বাংলাদেশও নাকি পাকিস্তানের সঙ্গে বড় সামরিক চুক্তি করতে যাচ্ছে। ভারতের সেনাবাহিনীর সদস্যরা জরুরী কালীন ভিত্তিতে মিজোরামে একটি মিলিটারি বেশ তৈরি করতে চলেছেন। যে বেসটি তৈরি করা হবে, তা চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে। পারবা নামক জায়গাটি চট্টগ্রাম সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে। ওপর স্থান সিলসুরি নামক জায়গাটি চট্টগ্রাম থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ভারত কখনো চট্টগ্রাম সীমান্তের কাছে মিলিটারি বেস তৈরি করে। এই প্রথম চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে ভারতের বড় পরিকল্পনা। ফলে এটি ইউনুস এবং তার দোসরদের ঘুম ওড়ানোর জন্যই যথেষ্ট বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। সমরাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুব সহজেই বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আঘাত হানতে পারে ভারত। এতদিন ওই অঞ্চলটি শুধুমাত্র বিএসএফের নজরদারিতে ছিল। কিন্তু দিল্লির গোপন নথিতে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অঞ্চল। একেবারে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, মিসাইল শক্তিশালী অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলবে ভারত। যেটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে বাংলাদেশ সরকারের। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শুধুমাত্র বিএসএফ, আর্টিলারি দেখা গিয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেখানে সাঁজোয়া যান, ড্রোন দেখা যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন, হঠাৎ ভারতের ঘুম উড়ার কারণ কি? কেন তারা এত মরিয়া? বাংলাদেশের ছাত্র নেতারা যেভাবে ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। যেভাবে হুমকি হুশিয়ারি দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাতে হালকাভাবে নিচ্ছে না নয়া দিল্লি। তবে ভারত সংযমের বার্তা দিয়েছে। তাতে সিধে হয়নি বাংলাদেশ। বিশেষ করে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে অশান্ত আর জঙ্গি কার্যকলাপ অবাধ বিচরণভূমি হয়ে উঠেছিল, তাতে ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই ভারতীয় সেনা তৎপরতা বাড়াচ্ছে। চট্টগ্রামকে নজরদারিতে রাখছে। কারণ চট্টগ্রাম বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড। সেখানে আঘাত হানলে গোটা বাংলাদেশে প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশে প্রবলভাবে কট্টরপন্থী মৌলবাদীদের উত্থান ঘটছে। শুধু তাই নয়, সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রবলভাবে ভারত বিরোধীতা। যেটা ভালো চোখে দেখছে না নয়া দিল্লি। তাই সীমান্তবর্তী এলাকাতে ভারতের সাজ সাজ রব। এগুলি শুধুই সাজিয়ে রাখার জন্য নয়। ভারত যে কোনও পরিস্থিতিতে আঘাত হানতে পারে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে শেষমেশ ভারত পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।












Discussion about this post