বাংলাদেশ যে কোনও প্রটোকলের ধার ধারে না, সেটা অনেক আগেই প্রমাণিত। একবার নয়, একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে। না হলে খোদ সরকার প্রধান ইউনূসের গলায় শোনা যায় সেভেন সিস্টার্স নিয়ে আবোল তাবোল কথা? প্রটোকল মানলে তো ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মাকে বার বার ডেকে পাঠাত না। প্রটোকল মানলে কখনই তাঁকে বসিয়ে রেখে বেইজ্জত করত না। প্রটোকল মানলে যারা ভারতের বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকি দিয়ে এসেছে, তাদের চুপ থাকার পরামর্শ দিত। উলটে তাদের আশ্রয় দিয়েছে, প্রশ্রয় দিয়েছে। পদ্মাপারে এবার যে ঘটনা ঘটল, সেটা কোন প্রটোকলের আওতায় পড়ে সেটা গবেষণার বিষয়বস্তু হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা পররাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রটোকল ছাড়াই ঢাকা সফর করেছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। কোনো ধরনের কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া বিদেশি একটি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এই ‘বিশেষ সফর’ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম রাজনৈতিক বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) মোল্লা নূর আহমদ নূর (যিনি ‘মোল্লা জাওয়ান্দি’ নামেও পরিচিত) গত ২১ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশ-আফগানিস্তান বণিকসভার চেয়ারম্যান। তবে এই সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সিটিটিসি-সহ দেশের কোনো নিরাপত্তা সংস্থাকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি।
সফরের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এছাড়াও তিনি গত এক সপ্তাহে ঢাকার বিভিন্ন মাদরাসা পরিদর্শন করেছেন এবং বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
এই সফর সম্পর্কে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইংয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা এই সফরের বিষয়ে কিছুই জানেন না। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বিদেশি কোনও সরকারি কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে এলে সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে সৌজন্য সাক্ষাতের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রটোকল বা শিষ্টাচারের কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা সচিবের সঙ্গে তাঁর কোনো সৌজন্য সাক্ষাৎও নির্ধারিত নেই।” কূটনৈতিক প্রটোকল অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকর্তারা ঢাকা সফরে এলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা সচিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যা মুফতি নূর আহমদ নূরের ক্ষেত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আফগানিস্তান-বাংলাদেশ বণিকসভার সভাপতি আবু সায়েম খালিদ জানিয়েছে, এটা সৌজন্য সফর। দু দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই মোল্লা নূর আহমদ নূর বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।
সামনে জাতীয় নির্বাচন এবং সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এই সফরের সময় ও গোপনীয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। একজন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, প্রটোকল ছাড়া একজন বিদেশি কর্মকর্তার এভাবে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া না গেলেও একজন তালেবান নেতার এভাবে বাংলাদেশে অবস্থান ও কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post