কাল বুধবার ২০২৫ য়ের শেষ দিন।
রঙিন আলোর রোশনাইতে নিশি হয়ে উঠবে দিনের মতোই রোশনাই। প্রবল হর্ষোল্লাসে রাত হবে চঞ্চল চপল। মানুষের ঢল নামবে রাস্তায়। রেস্তোরাঁ, হোটেল, পানশালায় চলবে খানা, পিনা। মানুষের মন আর মেজাজ থাকবে তুরীয়। একটা বছরের সব গ্লানি ভুলে মানুষ ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করবে। বিদায় দেবে ২০২৫ কে।
তার আগে দিল্লি পুলিশ বড়ো ধরনের অভিযান চালাল। উৎসবের মরশুমে রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্ক দিল্লি পুলিশ। রাজধানী জুড়ে শুরু হয়েছে ‘অপারেশন আঘাত ৩.০’। চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। এখনও পর্যন্ত শতাধিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র। দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার এসকে জৈন জানিয়েছেন, ২৮০০-রও বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৮৫০ জনকে। নববর্ষ উদযাপন যাতে অপরাধ মুক্ত হয়, তার জন্যই এই অভিযান চালানো হয়েছে। মূলত মাদক পাচারকারী, জুয়ারি এবং যারা নিয়মিত অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযান দারুণ সফল বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। জুয়াচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে মোট ৩১০টি মোবাইল ফোন এবং নগদ দু লক্ষ ৩০ হাজার টাকাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ অস্ত্র আইনে মোট ৬৬টি মামলা দায়ের করেছে এবং ৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ২৪টি দেশি পিস্তল ও ৪৪টি ছুরি। ২২ হাজার ৫০০ কোয়ার্টার বেআইনি মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১০ কেজি গাঁজা। প্রকাশ্যে মদ্যপানের অভিযোগে ৩৫০-রও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
একইসঙ্গে গাড়ি চুরির নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়েছে। ২৩১টি বাইক ও গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জুয়া বিরোধী আইনে ৩০টি মামলা দায়ের হয়েছে। ৬৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, উদ্ধার করা হয়েছে ২.৩ লক্ষ টাকা। ৩৫০টি চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এই অভিযানে দু হাজারের বেশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুপ্রেবশকারীদের জেরা করে পুলিশ এর শিকড়ে পৌঁছতে চাইছে। জানার চেষ্টা করবে কারা এদের আশ্রয় দিয়েছে। আশ্রয় দেওয়ার পরিবর্তে কত টাকা লেনদেন হয়েছে।
লালকেল্লা বিস্ফোরণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখ যে কিছুটা হলেও পুড়েছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ফলে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রয়োজন ছিল কড়া পদক্ষেপের। মনে করা হচ্ছে, এই অভিযান, সেই ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দেবে। দিল্লির অপরাধ জগতের বাদশাহদের সঙ্গে এদের কোনও যোগাযোগ আছে কি না, দিল্লি পুলিশ সেটাও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে।
প্রায় একই ধরনের খবর এসেছে বাণিজ্যনগরী মুম্বই থেকে। মাদক ব্যবসার শিকড় উপড়ে ফেলতে চলতি বছরে এক বড়সড় অভিযান চালায় মুম্বই পুলিশ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৮১৪ কোটি ১৭ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ তদন্তে নেমে জেনেছে, মাদক বাজারে মেফিড্রোন বা এমডি নামের ড্রাগটি পাচারকারীদের কাছে ‘আন্টির’ কোডওয়ার্ড নামে পরিচিত। পুলিশের নজরদারি এড়াতে মাদক পাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই সাংকেতিক নামই ব্যবহার করে আসছিল। তবে মুম্বই পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এই কোড ডিকোড করতে সক্ষম হয়। এর ফলে প্রায় ২৭৫ কেজিরও বেশি এমডি ড্রাগ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই কারবারের সঙ্গে জড়িত ৩৭৬ জন পাচারকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।












Discussion about this post