বিশ্বে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া সম্মুখ সমরে। অনেকেই বলছে এই দুই শক্তিশালী রাষ্ট্রের যুদ্ধাঙ্গন তৈরি হয়েছে ঢাকা। দুই পরাশক্তি মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে। দুই দেশের পররাষ্ট্র নীতি পরিষ্কার করছে। আর এদের দড়ি টানাটানিক মাঝে পড়েছে বাংলাদেশে। নিজেদের সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার সবথেকে বড়থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। নর্থইস্ট নিউজে উঠে এসেছে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া বা নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণে দ্বারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি সাধারণ দৃষ্টিতে গণতন্ত্রের কথা মনে হলেও এর পিছনের বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিপাবলিকান কংগ্রেস ম্যান এবং ডেমোক্রেটদের একটি অংশ মনে করছে। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হলে সেটা অস্থিরতা তৈরি করবে। আমেরিকার অবিসন্ধি এখন যথেষ্ট পরিষ্কার। তারা দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে। সেই কারণে কাজে লাগাতে চাইছে বাংলাদেশকে। যেটার জন্য সমস্যায় পড়তে পারে ভারত। কারণ বাংলাদেশ মার্কিন আধিপত্য বিস্তার হলে ভারতকে চোখে রাখা যাবে। ওয়াশিংটন খুব ভালো করে জানে, বাংলাদেশে ভারতের সবথেকে বিশ্বস্ত দল হল আওয়ামী লীগ। গত দেড় দশক ধরে ভারত এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেছে। কিন্তু গত বছর ৫ ই আগস্টের পর তার বদল ঘটেছে। ফলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত এখন ওয়াশিংটনের মাধ্যমে ঢাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাফ কথা, নয়া দিল্লিকে শান্ত রাখতে হলে আওয়ামী লীগকে স্পেস দিতে হবে। আমেরিকা ইন্দো প্যাসিফিক পরিকল্পনায় ভারতকে কোনওভাবে অসন্তুষ্ট রাখতে চায় না। তাই গনতন্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভারতের এজেন্ডায় বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। অনেকে বলছে, আমেরিকা এবং রাশিয়ার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা। তবে কি মুহাম্মদ ইউনূসকে চাপে রেখে ঢাকা করবে দিল্লি?
বাংলাদেশের মানুষ যখন নতুন করে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে, তখন মার্কিন এই চাপ জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান। এদিকে ঢাকার রাষ্ট্রদূত একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তারা বাংলাদেশকে স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে যে বার্তা দিয়েছেন সেটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ঢাকাকে বলা হয়েছে, নয়া দিল্লির সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে চলতে। কারণ রাশিয়া জানে, ঢাকার সঙ্গে নয়া দিল্লির উত্তেজনা বাড়লে এগিয়ে আসবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে বড় নৌ ঘাঁটি তৈরি করতে মরিয়া। যেটা শুধু ভারত নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য হুমকি। ফলে রাশিয়া চায় না এটা হোক। তাই ঢাকাকে একরকম করা বার্তা দিয়েছে রাশিয়া।
রাশিয়ার এই অবস্থান প্রমাণ করে, তারাও বাংলাদেশের পরিস্থিতির থেকেও ভারতের নিরাপত্তার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা চায়, ঢাকা যেন দিল্লির সঙ্গে সব ঠিক করে নেয়। যাতে এই অঞ্চলের ক্ষমতা যেন তৃতীয় শক্তির হাতে চলে না যায়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউনূস সরকার দ্বিমুখী চাপের মধ্যে পড়েছে। রাশিয়া এবং আমেরিকা বাংলাদেশ ইস্যুতে এক অদ্ভুত বিন্দুতে মিলে গিয়েছে। সেই বিন্দুটি হল ভারত। আমারিকা বলছে, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে জায়গা দাও। যাতে ভারত খুশি থাকে। আর রাশিয়া বলছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করো। যাতে আমেরিকা এখানে ঘাটি গড়তে না পারে। অর্থাৎ দুই পরাশক্তি দিল্লির বলিয়ে রাখার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে।
অনেকে বলছে, বাংলাদেশ এখন চাইছে, ভারত থেকে বেরিয়ে তারা নিজেদের মতো করে দেশ চালাতে। কিন্তু আরও একটি নতুন ছক কষছে আন্তর্জাতিক শক্তিরা। আমেরিকা তাদের পররাষ্ট্র দফতরে তাদের ব্রিফিংয়ে কংগ্রেসের আলোচনায় মানবধিকারের কথা বললেও তাদের লক্ষ্য হল, এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব ঠেকানো এবং ভারতকে হাতে রাখা। এই কাজের জন্য তারা বাংলাদশের উপর দিল্লির আধিপত্য মেনে নিতেও প্রস্তুত। ফলে বাংলাদেশ এখন হয়ে উঠেছে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গুরত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামনেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। এখন দেখার, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি বাংলাদেশে কোন দিকে মোড় দেয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post