বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সৌজন্য সহানুভুতি সমবেদনা তো আছেই, কিন্তু যেখানে ভারতের চাণক্য থাকবেন, সেখানে কূটনীতি থাকবে না তা কি কখনও হয়। আর বাংলাদেশের মাটিতে জয়শঙ্করকে দেখে অনেকেই মনে করছেন, শেষ মহুর্তে ভারতের কূটনৈতিক চালে মাত খেয়ে গেল ইউনূস এবং পাকিস্তান। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় ভারতের পঞ্চপান্ডবের এক জনের উপস্থিতি সেটিই প্রমান করে।৫ই আগস্টের পরবর্তি সময়ে বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যে দিনে দিনে সুন্দর হচ্ছিল তা বোঝা যাচ্ছিলই। তবে তার প্রমান মেলে তারেক রহমানের বক্তব্যে। দেশে ফিরে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে যে ভাষন দেন, সেখানে ভারত বিরোধীতা তো ছিলই না। উল্টে তার বক্তব্যে সেগুলিই উঠে আসে, যেগুলি ভারত বাংলাদেশের থেকে আশা করে।। অর্থাৎ সকল বাংলাদেশ বাসীর জন্য সুশাসন। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি যেন সরকার বিশেষ নজর দেয়। ফলে বিএনপি এবং ভারতের কাছাকাছি আসার ব্যপারটি ছিল সময়ের অপেক্ষা। সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়ানে সেই পক্রিয়াটিকে তরান্বিত হতে সাহায্য করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠিয়েছে প্রতিবেশী ভারত।
আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার হাতে শোকবার্তা হস্তান্তর করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর।খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় যান জয়শঙ্কর।ফলেবাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়ানে অনেকের জন্য অনেক রাস্তা খুলে গেল। এবং সেই অনেকের মধ্যে আওয়ামীলীগ এবং ভারতও আছে। কিন্তু ভারত এবং আওয়ামীলীগের কূটনীতির বিষয়ে পরে আসছি সবার আগে ছোট করে বলে নিই বিএনপির ভাগ্য কি করে খুলে দিয়ে গেলেন তাদের নেত্রী। যখন খালেদা জিয়া অসুস্থ রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয়তা হারিয়েছেন। এবং তার পুত্র দেশের বাইরে, এবং তিনি আসছেন আসছেন করে বহু দিন পার হওয়ার পরও, তিনি দেশে ফিরছেন না। ফলে বিএনপির সমর্থকদের মধ্যেও বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। এবং অনেক বিরোধীরাই প্রশ্ন করতেন, তারেক রহমান কি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি দেশ চালাবেন। ফলে দেশের মানুষ দেখছেন আওয়ামীলীগ নেই, বিএনপিও রাজনৈতিক ভাবে অভিভাবক শূন্য। ফলে তারা না চাইলেও জামাতের দিকেই ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছিলেন। কিন্তু মায়ের কঠিন অবস্থায় দেশে ফেরা এবং নেতৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়াটাই সব সমস্যার সমাধান ছিল না। তার নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন থাকতই। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়ানে তারেক রহমানের জন্য একটি আলাদা করে সহানুভূতির হাওয়া বইবে। যে হাওয়ায় উড়ে যাবে তার অক্ষমতা এবং ছোট বড় ভুলগুলি। ফলে সামনে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে খালেদাজিয়ার প্রয়ান বিএনপির ভোট বাক্সে বিরাট আকারে সহানুভূতির হাওয়া বয়ে আনবে। এর পর আসি আওয়ামীলীগের কথায়, শোনা যাচ্ছে তারেক জিয়াকে সমবেদনা জানিয়ে ফোন করেছিলেন শেখ হাসিনা এবং তাদের মধ্যে সাত মিনিট কথাও হয়েছে। ফলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামীলীগের সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা ভুলে, আওয়ামীলীগকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবেই দেখবে। কিন্তু ভারত এবং বাংলাদেশের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই দুই দেশের রাজনৈতিক সু-সম্পর্ক। এখন ভারত বুঝেচে সেটি কখনই আওয়ামীলীগ কেন্দ্রিক হওয়া বাঞ্ছনিয় নয়। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত সেটি খুব ভালো করেই বুঝেছে। ভারতের সীমান্তে বাংলাদেশের যে রকম অবস্থান তাকে অস্থিকার করা যায় না। ফলে কোন কারণে বাংলাদেশকে একলা ছেড়ে দেওয়া মানেই, সেখানে পাকিস্তান এবং চিনকে জায়গা ছেড়ে দেওয়া। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে, বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের অবস্থানেরও বদল হওয়া উচিত। যে হেতু আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি দুটি মুখ্য দল এবং মুক্তি যুদ্ধের পক্ষের দল, তাই দুটি দলের সঙ্গেই ভারতের সু-সম্পর্ক রাখা উচিৎ। এবং বর্তমানে ভারত সেটিই করছে, তুর্কির হাজার অনুরোধেও ভারত তাকে খাদ্য পণ্য দিতে অস্থিকার করলেও, হাজার বিরোধীতা স্বত্বেও ভারত বাংলাদেশের জন্য খাদ্য পণ্য পাঠাচ্ছে। এবং যে কারণে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশে পৌঁছেছেন খালেদা জিয়ার শেষ কৃত্য অনুষ্ঠানে।












Discussion about this post