বর্তমান সময়ে ভারতের নতুন অস্ত্র হল আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। যাকে ভারত আধিপত্য বাদের মাধ্যমে আবিস্কার করেনি।এই অস্ত্র ভারত মানবতা দিয়ে জয় করেছে। আফগানিস্তান এখন ভারতের এক ইশারায় পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করতে পারে। কিন্তু সেই আফগান সরকারের এক বিষেশ ব্যক্তি যিনি এশিয়াতে আফগান নীতি নির্ধারক, তিনি হলেন মোল্লা নুর আহমদ নুর, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন কৌমি মাদ্রাসায় ঘুরে ঘুরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক বৈঠক করছেন, আর বাংলাদেশ সরকার বলছে আমরা কিছু জানিনা। এটি কি বিশ্বাস করা যায়, নাকি এই না জানার ভানকরাটিই আসলে বাংলাদেশ বর্তমান সরকারের কৌশল। এখন প্রশ্ন উঠবে ভারতে যখন আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মৌলবী মুত্তাকী এসে বৈঠক করেন, সেটি দোষের না হলে, নূর আহমদ বাংলাদেশে এলে প্রশ্ন উঠবে কেন? আফগান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ভারতে আসছে বা ভারত তাকে আমন্ত্রন করেছে, সেটি তো বিশ্বের কাছে ভারত গোপন করেনি। কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় বলছে এ বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই। প্রশ্ন সেখানেই, নূর আহমদ কৌমি মাদ্রাসাগুলিতে মিটিং করছেন বৈঠক করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে, সেখানে সরকার বলছে কিছু জানিনা। এটি ভারতের জন্য তেমন কোন বিষয় না হলেও, বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি প্রশ্ন? তারা কি বাংলাদেশকে তালিবান বানাতে চাইছে?আসলে এই সরকার কি চাইছে? ভারত আফগানিস্তান থেকে তালিবানি কায়দা শেখার জন্য তাদের ডাকেনি। তাদের দেশের জনগনকে সাহায্য করার জন্য, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং সামাজিক ও পরিকাঠামোগত উন্নতির জন্য তাদের সহযোগীতা করতে চাইছে, যাতে তারা বিশ্বের জন্য হুমকি না হয়ে, বিশ্ব উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে। যদিও ভারত আফগান সরকারকে স্বিকৃতি দেয়নি। তবুও ভারতের কারণে তালিবান সরকার নিজেদের অনেক বদলাতে শুরু করেছে। আর ভারতেই এই ম্যাজিকের জন্য অবাক হচ্ছে গোটা বিশ্ব। এবার দেখা যাক ভারতের প্রেমে কেন আফগানিস্তান পাগল। কেন তারা তাদের দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদগুলিও অংশদারির ভিত্তিতে ভারতের হাতে তুলে দিতে চাইছে। এমনকি তারা আফগানিস্তানে ভগ্নপ্রায় হিন্দু দেবদেবীর মন্দিরগুলি সংষ্কারের কথা ভববছে, যাতে ভারত থেকে পর্যটক সে দেশে যায়।
আফগানিস্তান নাম শুনলেই এক বিভীষিকাময় অধ্যায়ের কথা মনে আসে। আর ভারতের কাছে আফগানিস্তান তালিবান সঙ্গে কান্দাহারের কালো ছায়া। মাসুদ আজাহারকে মুক্ত করাতে, বিমানযাত্রী সহ বিমান হাইজ্যাক। ভারতের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে কাবুলের রূপকথার গল্প। যেখানে রোমাঞ্চের থেকে ভয় বেশী। সেই আফগানিন্তান সেই কাবুল এবং তালিবান সরকার এখন ভারতের নতুন অস্ত্র।যাকে ঠিক মত ব্যবহার করতে পারলে, বদলে যাবে দুই দেশের আর্থিক এবং বৈশ্যিক ক্ষমতা। যে অস্ত্র নিজের থেকে এগিয়ে এসে বলছে আমাদের ব্যবহার করো। আমরা ভারতকে বিশ্বাস করি, তারা আমেরিকা পাকিস্তানের মত সুবিধাভোগী নয়, ভারত হল মানবতার আর এক নাম। ভারত কখনই কাবুলের থেকে সুযোগ নেয়নি, শুধু মানবতা দেখিয়েছে, বিশ্বাস জুগিয়েছে। বুঝিয়েছে ক্ষমতায় থাকতে গেলে বন্দুকের নলই শেষ কথা নয়, জনগনের সমর্থন পেতে হলে তাদের উন্নতির মাধ্যমে মন জয় করতে হবে। সেটা তালিবানদের বুঝতে শিখিয়েছে ভারত। তাই তালিবান আজ ভারতের শিক্ষানীতিকে তাদের দেশে মান্যতা দিতে চাইছে। এমনকি নারী শিক্ষাকে স্বিকৃতি দিচ্ছে উন্নত সমাজ গড়ে তোলার জন্য। এক সময় আমেরিকা আফগানিস্তানকে দখল করে, সেখানে তাদের স্বার্থ কায়েম করতে চেয়েছিল। গনতন্ত্রের দোহাই দিয়ে আফগানিস্তানের সম্পদ হাতাতে চেয়েছিল। আর পাকিস্তান ভেবেছিল আফগানিস্তানের সন্ত্রাসকে তারা ভারত বিরোধী অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করবে। পাকিস্তান আফগানিস্তানের মানুষের জন্য মানবতার লেশ মাত্র দেখাই নি। এমনকি তারা আফগানিস্তানে যে মেডিসিন পাঠাতো, তা ঔষধ হিসাবে, যা না কাজ করত, তার থেকে বেশী বিষ হিসাবে কাজ করত। আফগানিস্তান বুঝতে পারছিল পাকিস্তানের ফার্মা কোম্পানিগুলি শুধু তাদের দেশের স্বাস্থ্যই শেষ করে দিচ্ছে না। শেষ করে দিচ্ছে তালিবান সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা। ফলে তারা কোন ঘোষনা, কোন বিদ্রোহ ছাড়াই, পাকিস্তানের মেডিসিন ভর্তি ট্রাকগুলি বোডারেই আটকে দেয়। আর সেই জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে ঔষুধ যায় ভারত থেকে। যার মান পাকিস্তানের থেকে হাজার গুন বেশী কার্যকরী। ডাক্তাররা ভরসা পায় সেই ঔষুধ প্রেক্সিশন করতে। এবং রোগীরাও দ্রুত সেরে ওঠে। আর ভারতের প্রতি যতই আফগানদের বিশ্বাস এবং বন্ধুত্ব্য বাড়তে থাকে, ততই বাড়তে থাকে পাকিস্তানের প্রতি বিদ্বেষ। ভারত শুধু ব্যবসা করতে চায়নি। ভারত বলে আফগানিস্তানেই ফার্মা ফেক্টরী খুলে, সেখানকার মানুষকে হাতে কলমে কাজ শিখিয়ে সেখানে মেডিসিন তৈরী করা হবে, ফলে সেখানের মানুষেরাও কাজের সুযোগ পাবে, বেকারত্ব কমবে। ভারতের নিস্বার্থ সহযোগীতা দেখে আফগান ভারতকে তাদের দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানায়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post