রবিবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রচারিত এক ভাষণে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালে ছাত্রলীগের শতাধিক কর্মী নিহত হয়েছেন। তাঁর আরও দাবি, অনেক ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ কর্মীদের বাড়িতে না পেয়ে তাদের বাবা–মা ও স্বজনদের হত্যা করা হয়েছে। এই ভাষণের শুরুতেই আন্দোলন–সংগ্রামে নিহত ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাও জানান শেখ হাসিনা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি স্বৈরাচারি বা ফ্যাসিস্ট। কিন্তু এদিনের ভাষণে হাসিনাই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে “ফ্যাসিস্ট ইউনূস” বলে সম্বোধন করেন। এদিনও তিনি দাবি করেন, একটি “মেটিকুলাস ডিজাইনের” মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে ইউনূস সরকার নিজের স্বার্থ রক্ষা করছে। অথচ দেশের মানুষ নিজের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও নিরাপদ নয়। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শেখ হাসিনা উপযুক্ত সময়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে শুরু করলেন। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশে ফেরার পরই সে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে। একদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব, অন্যদিকে তারেকের তারুণ্য এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হাসিনা বুঝতে পারছেন, এই পরিস্থিতিতে তাঁর একা হাতে ক্ষমতা দখল রাখা ঠিক হবে না। নতুন প্রজন্মের নেতা-নেত্রী তুলে নিয়ে আসতে হবে। যারা বাংলাদেশে মাটি কামড়ে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, সেই ছাত্রলীগ তথা তরুণ নেতাদের তুলে নিয়ে আসার সময় এসে গিয়েছে।
খালেদা জিয়া প্রয়াত হওয়ার পর বিএনপি’র সুপ্রিমো এখন তারেক জিয়া। খালেদার জীবিত থাকাকালীন তাঁকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করে এসেছেন আওয়ামী লিগের সভাপতি শেখ হাসিনাই। কিন্তু এখন বিএনপির সুপ্রিমো হয়েছেন খালেদাপুত্র তারেক রহমান। ফলে আওয়ামী লিগের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে তারেককে মোকাবিলা করবেন কে? কারণ, তারেক বয়েসে তরুণ আর হাসিনা কার্যত তাঁর মায়ের বয়েসী। ফলে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করতে হলে হাসিনার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ফলে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের জন্য একজন তরুণ মুখের প্রয়োজন। সূত্রের খবর, রবিবার রাতে কলকাতায় আওয়ামী লিগের কর্ম সমিতির জরুরি বৈঠক হয়েছে। জানা যায়, দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ওই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন স্বয়ং শেখ হাসিনাও। তবে তাঁর বৈঠকে যোগদানের আগে আওয়ামী লীগের কর্ম সমিতির সদস্যরা নিজেদের মধ্যেই দলের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করে রেখেছিলেন বলে খবর। সেখানেই আলোচনা হয়েছে, যেহেতু তারেক জিয়া পাকাপাকিভাবে বিএনপির শীর্ষ পদে বসে গিয়েছেন, তাই তাঁকে মোকাবিলা করার জন্য দলে একজন নতুন মুখ আনা প্রয়োজন। ঠকে উপস্থিত প্রায় সব নেতাই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে কি এবার তারেকের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চলেছেন হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়? যদিও সরকারিভাবে তিনি আওয়ামী লীগের কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই। জয় আপাতত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সাধারন সদস্য মাত্র।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শেখ হাসিনার শোকবার্তা দেওয়ার কিছু সময় পরই আলাদা করে শোকবার্তা দিয়েছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনিও বিএনপি নেত্রীর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অবদানের প্রশংসা করেন প্রশংসা করেছিলেন। হাসিনাপুত্র জয়ের আলাদা করে শোকবার্তা দেওয়ার ঘটনায় স্পষ্ট, তাঁকে আগামীদিনের নেতা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের একাংশ শেখ হাসিনার কন্যা সায়েমা ওয়াজের পুতুলকেও নেতৃত্বে দেখতে চাইছেন। সূত্রের খবর, আওয়ামী লীগের একেবারে তৃণমূলস্তর থেকে শীর্ষস্তর পর্যন্ত হাসিনার পুত্র-কন্যাকে নেতৃত্বে আনা নিয়ে খুব বেশি মতবিরোধ নেই। ফলে খুব শীঘ্রই হয়তো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বড় বদল আসতে চলেছে। আর তারই প্রাথমিক ধাপ হিসেবে নেত্রী হাসিনা ছাত্রলীগের নেতা-নেত্রী ও কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বড় বার্তা দিলেন।












Discussion about this post