২০২৪ সালের ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। ওইদিনই শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। ভারতে আশ্রয় নেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৫ই অগাষ্ট পরবর্তী তিন মাস বাংলাদেশে আত্মগোপন করে থাকার পর ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এখন জানা যাচ্ছে, ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশে সরকার পতনের পর তিন মাস লুকিয়ে ছিলেন দেশে। এরপর ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর তিনি বহুবার এই কথা দাবি করেছেন। এমনকি গণমাধ্যমে আরও বেশ কিছু কথা বলে খবরের শিরোনামে আসেন। তিনি ওই তিন মাস কিভাবে ছিলেন, কিভাবে সরকার পতনের দিন পালিয়ে বেঁচেছিলেন, বাথরুমের মধ্যে ৫ ঘণ্টা পালিয়ে ছিলেন। তারপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাই তাকে ধরে ফেলে এবং তাকে উদ্ধার করে সেফ জোনে নিয়ে যায়। এই বিষয় যখন বলেছিলেন তখন আওয়ামী লীগের অনেকেই বিরক্ত হয়েছিলেন। আন্দোলনকারীরা কিভাবে তাকে নিয়ে গেল? তবে কি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তার কোনও গোপন যোগাযোগ বা সম্পর্ক ছিল? সেই ওবায়দুল কাদের এখন হাসপাতালে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তাকে আইসিইউ তে রাখা হয়েছে বলে খবর। বাধ্যকজনিত একাধিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন যাবত শয্যাশায়ী ছিলেন ওবায়দুল কাদের। কলকাতার নিউটাউনের বাড়িতে চলছিল অক্সিজেন। গত শুক্রবার আচমকাই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সেই পরিস্থিতিতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু সংকট পরিস্থিতি এখনও কাটেনি। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এখনও তিনি দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু দলটি এখন দেশের বাইরে। বাংলাদেশে প্রকাশ্যে আসতে পারছে না। ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২৪ অগাষ্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নোয়াখালীর ৫ আসন থেকে টানা ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু তার যে শারীরিক অবস্থা, তাতে কতটা তিনি ফের রাজনৈতিক আঙিনায় ফিরতে পারেন, সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের সংগঠন তৈরি করা। সেখানে সিনিয়র দলের নেতা হিসাবে ওবায়দুল কাদের অনেক বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।












Discussion about this post