রাজনীতিতে চির শত্রু বা বন্ধু হয় না। যে দলকে ভারত এক সময় এড়িয়ে চলত, এখন সেই দলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। আসলে কথা হচ্ছে বিএনপিকে নিয়ে। বিএনপির চেয়ারপারসন তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী দলনেতা শোক বার্তা ব্যক্ত করেছেন। তেমন খালেদা জিয়ার জানাজায় আচমকা উপস্থিত হলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একটি খাম বন্দি চিঠি তুলে দিলেন জিয়া পুত্রের হাতে। যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাঠানো শোকবার্তা ছিল তারেক রহমানের প্রতি। এটা দেখেই আর বুঝতে বাকি নেই, আসলে ভারত আওয়ামী লীগের বিকল্প বিএনপি। তবে কি শুধুই রাজনৈতিক সমীকরণ নাকি অন্য কোনও খেলা রয়েছে এর ভিতরে? একদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারতের অ্যাকশনে কেঁপে উঠল ইউনূসের যমুনা। কারণ এস জয়শঙ্করের বড়সড় সাফল্য।
যারা ভেবেছিল, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভারতকে বিশ্ব দরবারে কোণঠাসা করা যাবে, তাদের জন্য সতর্কবার্তা। ভুল ভাবছেন তারা। ভারত দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও আপোষ করতে রাজি নয়। উল্টে শত্রুর ডেরায় ঢুকে পাশা উল্টে দিতে পারে। বাংলাদেশে সামনেই নির্বাচন। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। ফলে আপাতত এটা নিশ্চিত, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জিতবে বিএনপি। ফলে প্রতিবেশী দেশ হিসাবে এখন বিএনপির সঙ্গেই সখ্যতা তৈরি করবে ভারত। কিন্তু প্রশ্ন, আওয়ামী লীগের পতনের বছর খানেক পর কেন ভারত এর বিকল্প খুঁজছে? আসলে ভারতের স্পর্শকাতর এলাকা চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডর। যদি কোনও শত্রু পক্ষ বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে বসে, তবে চিকেন নেকের প্রতি অত্যন্ত ঝুঁকি। আর নিজের দেশের স্বার্থ রক্ষায় ভারত মোটেই আপোষ করতে রাজি নয়। এই কারণে ভারতের বিরাট সামরিক প্রস্তুতি। রাফাল জেট, আইএননেস বিক্রান্ত এবং নিউক্লিয়ার সাবমেরিন। এগুলি শুধুমাত্র দেখানোর জন্য নয়। এগুলি এক একটি বার্তা। বার্তা হল এটাই, বাংলাদেশে যে সরকারই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্র করা যাবে না। ভারত এমন একটি দেশ, যে দেশ বন্ধুত্বের হাত বাড়ালেও ওপর হাতে আত্মরক্ষার ঢাল রাখে। আসলে বাংলাদেশে কিছু তালেবান ভাবনার মুখ এবং পাকিস্তানের আইএসআইযের পতাকা দেখা যাচ্ছে। এমনকি রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ঢাকায় বসে কার্যত সতর্ক করেছেন। ১৯৭১ কথা মনে করে দিয়েছেন। যে সময় ভারত পাশে ছিল। তিনি বলেছেন, দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা মানে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। পর্দার আড়ালের খবর হল, পাকিস্তান চাইছে এই সুযোগে বাংলাদেশে ঘাঁটি গাড়তে। উগ্রবাদীরা ঘাঁটি করুক। চাইছে পাকিস্তান। এমনকি কিছু গোপন বৈঠকের কথাও বাতাসে ভাসছে। এখানেই ভারতের মাস্টার্সস্ট্রোক। ভারত দেখল, আওয়ামী লীগ যখন আর ক্ষমতায় নেই, তখন বিএনপির সঙ্গে সখ্যতা বাড়াতে হবে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যেভাবে পদ্মাপাড়ে মৌলবাদীদের আনাগোনা বাড়ছে, যেভাবে জঙ্গিদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে, তাতে ভারতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আর এটি প্রকাশ্যে হতে পারছে, কারণ বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার নেই। ফলে নির্বাচিত সরকারই পারবে দেশের লাগাম টানতে। সেই কারণেই ভারত আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসাবে বিএনপিকে বিশ্বাস ও ভরসা করছে। সেটা স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন দেখার, নির্বাচনের পর বাংলাদেশের মসনদে বসার পর আদেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি আয়ত্তে নিয়ে আসতে পারে কিনা বিএনপি!












Discussion about this post