আগে ছিল উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। সে তকমা ঝেড়ে ভারত এখন ‘আত্মনির্ভর’। আর তাতেই গায়ে যাদের যাদের ফোঁসকা পড়ার কথা, তাদের গায়ে ফোসকা অনেক আগেই পড়ে গিয়েছিল। সেই ফোসকা এখনও টুসুটুসু। মানে ফোসকা ফাটেনি।
তো কার কার গায়ে ফোসকা পড়েছিল? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গায়ে। তিনি তাঁর অজান্তেই ডোনাল্ড থেকে ডন হয়ে উঠেছেন। সেই ডনের শেষ কীর্তি সস্ত্রীক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাতে অন্ধকারে কার্যত ঘুম থেকে টেনে তুলে আমেরিকায় কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়েছেন। মাদুরোকে তুলেছে সে দেশের একটি আদালতে। মাদুরোর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলি সত্যি কি না, তার তো তদন্ত হওয়ার প্রয়োজন। আর তাঁর বিচার আমেরিকা করবে কেন?
আসলে মাদক চোরাচালান এসব হচ্ছে ছুতো। অনেকেদিন ধরেই ডন সে দেশের তেলের ভাণ্ডার কবজা করতে চাইছিলেন। সেটা কোনওভাবে করে উঠতে পারছিলেন না বলে সরাসরি আক্রমণ। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার, আমেরিকার নিশানায় ছিল ভারতও। ডিপস্টেটের যা চরিত্র, তারা তো সেটাই করবে। সূত্রে খবর, ডিপস্টেটের নিশানায় ছিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তাকে প্রাণে মেরে ফেলার নীল নকশা তারা তৈরি করে ফেলেছিল। এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথা তুলে ধরতে হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি সেই সময় চিনে। চিনের একটি সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি সাংহাই যান। কিন্তু সম্মেলেন যাওয়ার আগে তাঁকে দেখা যায় রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের গাড়িতে বসে থাকতে। বসেছিলেন টানা ৪৫ মিনিট। আর সেই সময় পদ্মাপারে চলেছিল এক সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। কোনও এক অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর হাতে মারা পড়ে আমেরিকার এক এজেন্ট। বলা হচ্ছ, তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল একটা উদ্দেশ্য নিয়ে – যেভাবেই হোক প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তাঁর বন্দুকের নিশানা করতে হবে। চিন থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে একটি সম্মেলনে ভাষণ শুরু করেছিলেন একেবারে বেনজির রাস্তায়। তিনি যা বলেছিলেন, তাঁর বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় – কী, আমি বেঁচে আছি দেখে অবাক হচ্ছেন। সকলেই কিন্তু মোদির ওই কথা শুনে অবাক হয়েছিল। তাঁর সেই ভাষণ আর রুশ প্রেসিডেন্টের গাড়িতে তাঁর টানা ৪৫ মিনিট বসে থাকা, আর সেই সময় বাংলাদেশে এক মার্কিন এজেন্টের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা যে সব কিছু মিলিয়ে দিচ্ছে।
এবার আমেরিকা নতুন ছক একদিকে ভারতকে হুমকি অন্যদিকে, চিনের বিরুদ্ধে ভারতকে উস্কে দেওয়া। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের বিরুদ্ধে আরও চড়া হারে শুল্ক আরোপের কথা জানিয়েছেন। আর মঙ্গলবার তিনি সুর নরম করে বলেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা ভারত অনেকটেই কমিয়ে দিয়েছে। কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্পের মতিগতির ওপর নির্ভর করেছে বাণিজ্যচুক্তির ভবিষ্যৎ। এই অবস্থায় পেন্টাগন থেকে প্রকাশ করল এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট। পেন্টাগন থেকে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত যেন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে। পেন্টাগনের রিপোর্টে বলা হয়েছে অরুণাচল প্রদেশকে কেন্দ্র করে চিন ভারতের ওপর হামলা চালাতে পারে। পেন্টাগনের এই রিপোর্ট আরও একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিকরাজনীতিতে ভারতের প্রভাব-প্রতিপত্তি মেনে নিতে পারছে না বাকিরা। আমেরিকার বক্তব্য হল, ভারতের সঙ্গে তাদের শুল্কযুদ্ধের প্রেক্ষিতে দিল্লি এখন বেজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত ও দৃঢ় করতে চাইছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই চিনের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপ করে। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তে রীতিমতো চটে যায় বেজিং। তারাও মার্কিন পণ্যের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। দিল্লির উদ্দেশ্যে পেন্টাগনের এই সতর্কবার্তার কারণ এক নয়, একাধিক। আকাশপথে দিল্লির সঙ্গে বেজিংয়ের নতুন করে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। শুরু হয়েছে দু দেশের মধ্যে বিমান পরিষেবা। রাশিয়া এই সম্পর্কে আরও হার্দিক করার উদ্যোগ নিয়েছে।
চিন কিন্তু পালটা বিবৃতি জারি করেছে। সেখানে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের সঙ্গে ভারতের এই হার্দিক সম্পর্ক মেনে নিতে পারছে না আমেরিকা। আমেরিকা এই দুই দেশের সম্পর্ককে ভাঙার চেষ্টা করছে। চিনের বিরুদ্ধে তারা একাধিক ষড়যন্ত্র করছে। একটা কথা নির্দিধায় বলা যেতে পারে যে চিন সে অর্থে ভারতের বন্ধু নয়। কিন্তু আমেরিকা? ট্রাম্প জমানায় আমেরিকা আর ট্রাম্প-পূর্ব আমেরিকার মধ্যে যে আকাশ-পাতাল ফারাক তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দিল্লি ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রীতিমতো এখন তিক্ত। আর সেটার জন্য দায়ী ডন। যে কারণে তিনি তাঁর নিজের দেশেও সমালোচিত হয়েছেন একাধিকবার, এখনও হচ্ছেন। দৃষ্টিভঙ্গীর বদল না ঘটলে আগামী দিনেও হবেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post