প্রতিবেদন শুরু করা যাক ছাত্র লীগ নেতা তথা সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক নাজমুল আলমের একটি অডিও বার্তা দিয়ে। যদিও এই অডিও বার্তার সত্যতা যাচাই করেনি নিউজ বর্তমান।
সেই অডিও বার্তায় তাঁকে বলতে শোনা যায় ‘আমার শরীর এখন কাঁপছে। আমি দীর্ঘ ১০ বছর পর মাননীয় নেত্রীর সামনে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। ছাত্র লীগের কীভাবে সৃষ্টি, ছাত্র লীগের অতীত – এগুলো সবাই সব কিছু জানে। মাননীয় নেত্রী, আমরা এখন এমন একটি সময় অতিক্রম করতেছি যে সময়টি ১৯৭১-য়ের মহান মুক্তিযুদ্ধের চাইতেও বেশি কঠোর হয়ে গিয়েছে। মাননীয় নেত্রী, বাংলাদেশের জনগণ ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলিংয়ের শিকার হয়ে হয় তো বা অনেক মানুষ সেদিন রাস্তায় নেমেছিল। ৫ই আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে শুরু করেছে যে এইটা কীই ষড়যন্ত্র ছিল। জঙ্গিদের কী প্ল্যান ছিল। নেত্রী, মানুষ আন্দোলন করার জন্য মুখিয়ে আছে। শুধু চাচ্ছে নেতৃত্ব। আমাদেরকে এত কথা বলে কোনও কাজ হবে না। আমাদের দেশে যেতে হবে নেত্রী। আপনি যেখানে আছেন, সেখানেই থাকবেন। আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছিলাম আমি দেশে সবার আগে ফিরতে চাই। মাননীয় নেত্রী, ছাত্রলীগের শুধু সাবেক প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি না, যারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ রয়েছেন, এমপি, মন্ত্রী ছিলেন, তাদের সবাইকে নেত্রী দেশে যেতে বলুন। আমরা দেশে না গেলে কোনওদিনও আন্দোলন চাঙ্গা হবে না। রাজপথে মানুষ নামবে না। মানুষ নামার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। ’
বোঝা গেলে যে তিনি দেশে ফেরার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। কিন্তু এই অডিও বার্তা এতোদিন পরে এলো কেন, সেটাই তো রহস্য। অডিও বার্তা এল এমন একটা সময় যখন বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সে দেশের নাগরিকেরা তাদের মতাধিকার প্রয়োগ করবেন। সিদ্দিক বলছেন, তিনি শুধু একা দেশে ফিরতে চাইছেন না। তাঁর ইচ্ছা জুলাই-অগাস্টের পর আওয়ামী লীগের যে সব নেতারা আত্মগোপন করে রয়েছেন, তাদেরও দেশে ফেরার জন্য নেত্রী যেন নির্দেশ দেন।
অনেকে বলছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আসলে একটা সাজানো গোছানো নির্বাচন। সব কিছুই আগে থেকে তৈরি আছে লোক দেখানো একটা ভোট হবে। ক্ষমতায় যার বসার তিনি বসবেন। কাকে ক্ষমতায় বসানো হবে, সেটা রাষ্ট্রপক্ষের আচার-আচরণ থেকে স্পষ্ট। প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচন হয়ে গেলেও সব রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান কী হয়ে যাবে? আর্থিক সমস্যা, মূল্যস্ফীতি, অগ্নিমূল্য বাজার – সব মিলিয়ে গত এক বছরের সময় ধরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, একটি ভোটের মধ্যে দিয়ে সেই অস্থিরতার কী চিরকালের জন্য মিটে যাবে? রাষ্ট্রব্যবস্থা কিন্তু ভেঙে পড়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির ফলাফল কি সেই ভেঙে পড়া রাষ্ট্রের পুনর্নির্মাণ করতে সক্ষম হবে? সব থেকে বড়ো প্রশ্ন যে দল ক্ষমতায় বসবে বা যে দলের হাতে ক্ষমতার ব্যাটন হস্তান্তরিত হবে, তারা কি এই সব সমস্যার সমাধান করতে পারবেন? সব থেকে বড়ো প্রশ্ন নতুন সরকার কি মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে? কারণ, এই দেশতো এখন মৌলবাদীদের দখলে। পদে ব্যক্তি পরিবর্তন মানেই কিন্তু সব কিছু বদলে যাওয়া নয়। অনেকে বলছেন, এখন পদ্মাপারে যে সরকার আছে সেই সরকার অবৈধ। ফলে, বাংলাদেশ আগামীদিনে আরও অবৈধ পথে হাটবে, এটাই স্বাভাবিক। কোন পথে হাঁটবে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, তার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।












Discussion about this post