বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনও ভারতে অবস্থান করছেন। শুরুর দিকে তিনি চুপ থাকলেও নানা সময় নানা বক্তব্য রেখেছেন শেখ হাসিনা। এর মাঝে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাসিনার বক্তব্য রাখা নিয়ে অভিযোগ করেছে। শুধু তাই নয়, গত বছর বিমস্টেক শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক হয়। আর সেই বৈঠকে ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, যাতে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কোনও বক্তব্য না রাখেন। তবে নরেন্দ্র মোদী জানিয়ে দিয়েছেন, এটা সোশ্যাল মিডিয়ার কন্ট্রোলে। আমরা কন্ট্রোল করতে পারি না। অর্থাৎ ঘুরিয়ে ভারত বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে। এর জেরে বিভিন্ন সময় শেখ হাসিনা সোশ্যাল মিডিয়াতে বক্তব্য রেখেছেন। তেমনই বাংলাদেশে সদ্য ঘটে যাওয়া ঘটনা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন শেখ হাসিনা। এইবার ভারতের পাশে থেকে ইউনূসকে চোখ রাঙানি হাসিনার। হুঙ্কার দিলেন মুজিব কন্যা।
শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিভিন্ন গোষ্ঠী শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে জড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে সেটা ধোপে টেকেনি। পাশাপাশি হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতকে জড়িয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছিল বাংলাদেশ। এই প্রসঙ্গেই এইবার শেখ হাসিনা বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতকে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছেন ইউনূসরা। তিনি বলেছেন, অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে এটা আড়াল করা হচ্ছে। এনডিটিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নাকি এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, হাদি হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। এরপর তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে যে অরাজকতা ও নির্বাচনকে সামনে রেখে যে সহিংসতা তৈরি হয়েছে, এটা তারই ফল। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, হাদির হত্যার সঙ্গে ভারতকে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা ঢাকতে এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ভারতকে সবথেকে কাছের বন্ধু ভাবেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশের সবথেকে কাছের বন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা করে, নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাইছে কিছু মৌলবাদী শক্তি। মৌলবাদী শক্তির বাড়বাড়ন্তে অন্তর্বর্তী সরকার ও মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা নিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ নেত্রীর কথায় তিনি বলছেন, বাংলাদেশের বিদেশ নীতির ক্ষেত্রেই ইউনূস সরকারের এই হটকারী পদক্ষেপ শুধুমাত্র দূরদর্শিতার অভাব নয়, এটি অত্যন্ত বিপদজনক। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান শরীফ ওসমান হাদির হত্যার পর বাংলাদেশে প্রবলভাবে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। প্রবলভাবে আলোচনা চলছে। তদন্ত করতে গিয়ে বাংলাদেশ দাবি করেছিল, ভারতে পালিয়ে গিয়েছে আততায়ী। কিন্তু পরে দেখা যায়, সম্পূর্ণ বিষয়টি মনগড়া। পরবর্তীকালে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। সেখানে একটি যুবক নিজেকে হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল বলে দাবি করে। দাবি করেন, তিনি দুবাইয়ে রয়েছেন। এই ভিডিওটি আসল বলেই মনে করা হচ্ছে। জানা যায়, হাদি হত্যায় মূল আসামি ফয়সাল করিম আসলে মহমুদপুর এলাকার আদাবরের নেতা ছিলেন। যেহেতু জানা যাচ্ছে, তিনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, তাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে। তাই যুক্তি খাড়া করতে সুবিধা হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের। কিন্তু আদেও কি সেটা ধোপে টিকবে? কারণ সত্যি কখনও চাপা থাকে না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসলে বাংলাদেশে কিছু ঘটনা ঘটলেই যেভাবে ভারত ও আওয়ামী লীগের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশে থাকা অপরাধীরা লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে। যেটা দেশের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক।












Discussion about this post