ভারতের পর্যটকদের জন্য ভিসা বন্ধ করে দিল বাংলাদেশ। বেশ কয়েকটি সেন্টারে ভিসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতের আর কোনও পর্যটককে বাংলাদেশ ভিসা দিচ্ছে না। একই কাজ অবশ্য করেছিল ভারত। তবে জরুরি অবস্থাতে ভারত ভিসা দিচ্ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে। আরও সংঘাতে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক। আসলে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোচ্ছে?
ভারতের জন্য ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন। তিনি বলছেন, নিরাপত্তার কারণে সমস্যা সৃষ্টি হওয়া মিশনে ভিসা সেকশন বন্ধ রয়েছে। ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা বন্ধ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারতের কলকাতা, মুম্বই, চেন্নাইয়ে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা সীমিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে সম্প্রতি। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশের যেসব মিশনে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, আপাতত সেসব মিশন থেকে ভিসা সেকশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারতে খেলতে যাওয়ার অনিশ্চয়তা প্রসঙ্গে বলেছেন, ভারত ইস্যুতে আসিফ নজরুল মন্ত্রী হিসাবে যেটা বলেছেন, তিনি সেটি সম্পূর্ণ সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, এটা আমি এভাবে দেখি, যে একজন ক্রিকেটার সে তো সীমিত সময়ের জন্য ওখানে যাবে কিংবা খেলবে। তারপর চলে আসবে। তার নিরাপত্তা যদি দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের দল এবং দলের সমর্থকরা যাবে। নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে। আমরা কিভাবে বিশ্বাস করবো, যে তারা আমাদের সবার নিরাপত্তা দেবে। এছাড়াও তৌহিদ হোসেনকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, যে নির্বাচনের আগে ভারতীয়দের জন্য ভিসা বন্ধ হয়েছে নাকি স্থগিত করা হয়েছে আপাতত? সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কাছে এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেই। আমি যেটা করেছি সেটি হল, যে মিশনগুলিতে আমাদের সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেখানে আমরা আপাতত ভিসা সেকশন বন্ধ রাখতে বলেছি। এটা নিরাপত্তার কারণে। এছাড়াও আরও একটি প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনা প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটা নিয়ে কথা বার্তা চলছে। চূড়ান্ত হলে তবেই জানানো হবে। অর্থাৎ পাকিস্তানের থেকে যুদ্ধবিমান কেনা হচ্ছে। এটা মোটামুটি নিশ্চিত। তবে প্রশ্ন একটাই, নির্বাচনের আগে ভারতীয়দের জন্য কি ভিসা দেওয়া হবে না? বাংলাদেশ সরকার কি এটা ভাবছে, নির্বাচনের আগে ভারতীয়রা এসে বাংলাদেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে? সেই কারণেই ভিসা বন্ধ করে দেওয়া হল? যদিও এই ধরনের প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই আশঙ্কা তৈরি হয়, যে অরাজকতা তৈরি করতে পারে ভারতীয়রা… তবে প্রশ্ন, যারা অরাজকতা তৈরি করতে পারে, তারা কি ভিসা নিয়ে বিমানে করে আসে? বৈধ ভিসা নিয়ে যারা আর একটি দেশে যায় বা আসে, তারা কিভাবে অরাজকতা তৈরি করবে? যদি তাই হয়ে থাকে, তবে বাংলাদেশের কি এইটুকু ইন্টেলিজেন্স নেই? এইসবের মাঝে বাংলাদেশ ভারতে ক্রিকেট দল পাঠাবে কিনা, সেই নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেটি হল পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে। জেএফ ১৭…যেটার পর ভারত মোটেই চুপ করে বসে থাকবে না। এমনকি চুপ করে বসে থাকবে না আমেরিকাও। তার কারণ যে যুদ্ধবিমান কিনতে চলেছে বাংলাদেশ, সেটি চীনের তৈরি। ফলে সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমিত হয় নাকি আরও বাড়তে থাকে!












Discussion about this post