১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন। শেষ হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা। নতুন সরকার আসছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে বর্তমান সরকারের আর কেউ কোনও দায়িত্বে থাকছেন না। সেই হিসাবে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসও সরকারের দায়িত্বে থাকছেন না। এই পরিস্থিতিতে কি করবেন প্রধান উপদেষ্টা? এমনকি এই আলোচনাও চলছে, যে মোহমুদ ইউনূস কি পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন? পরবর্তী যে সরকার আসবে, মহম্মদ ইউনূসকে কি রাষ্ট্রপতি বানাবেন তারা? তবে আসলে কি করতে চান প্রধান উপদেষ্টা, সেটার একটা স্পষ্ট ভাষ্য দিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। যেটা প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তবে কি বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ ইউনূস?
গত বছর লন্ডনে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হয় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তখন আলোচনা হয়, বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। এমন আলচনাও তৈরি হয়েছিল যে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মহম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করা হবে। তবে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। সাক্ষর করা ছাড়া আর কোনও ক্ষমতা নেই। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে আদেও কি থুঠো জগন্নাথের মত থাকতে রাজি হবেন? তবে এটা মনে হচ্ছে, কোনওভাবে জামাত-এনসিপি জোট ক্ষমতায় এলে মুহাম্মদ ইউনূসের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। এই আলোচনা যখন চলছে, তখন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের স্ত্রী আকি অ্যাবে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেই সাক্ষাৎ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। আর সেখানেই জানানো হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস দায়িত্ব পালন শেষে কি করবেন, আর কি করতে চান না! ওই ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তিনি মূলত তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রথমত ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে কাজ করা হবে। যাতে দেশের নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবায় প্রবেশ অধিকার বাড়ে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীরা যেন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য জানতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারে। সেই ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। দ্বিতীয়তঃ, তরুণদের উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম আগের মতই অব্যাহত থাকবে বলে জানান ইউনূস। আর তৃতীয়ত, এসডিজি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও তিনি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এমনকি জানানো হয়েছে, আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে জাপান সফরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সফরকালে সামুদ্রিক গবেষণা ও ওশান রিসার্চ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে যে কাজের কথা বলছেন প্রধান উপদেষ্টা, সেগুলি একটি পদে না থাকলে সম্ভব নয়। কাজেই তিনি কি বুঝে গিয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন? সমস্ত দলের সঙ্গে কি সমঝোতা হয়ে গিয়েছে তারঁ? এদিকে আবার বলা হচ্ছে, যদি জামাত এবং এনসিপি জোট ক্ষমতায় যায়, তবে নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রীত্ব দেওয়া হবে। তাহলে অবশ্যই জামাইয়েতের আমির শফিকুর রহমান প্রেসিডেন্ট হবে। ফলে অনেকগুলি দিক খোলা রয়েছে। আদতে কি হতে চলেছে বাংলাদেশে? প্রধান উপদেষ্টা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কিভাবে পরবর্তী দিন কাটাবেন? আদেও যেটা প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, সেটাই করবেন নাকি অন্য কোনও প্ল্যান রয়েছে? সেটা অবশ্য সময় বলবে।












Discussion about this post