গোঁফ চুরি কবিতায় সেই বড়োবাবুর কথা মনে পড়ে? এই প্রতিবেদনের স্বার্থে অবশ্যই কবিতাটির উল্লেখ করতে হয়।
‘হেড অফিসের বড়োবাবু লোকটি বড় শান্ত/ তার যে এমন মাথার ব্যামো কেউ কখনো জানত?/ দিব্যি ছিলেন খোশমেজাজে চেয়ারখানি চেপে, / একলা বসে ঝিমঝিমিয়ে হঠাৎ গেলেন ক্ষেপে! / আঁৎকে উঠে হাত পা ছুঁড়ে চোখটি ক’রে গোল, / হঠাৎ বলে “ গেলুম গেলুম আমায় ধরে তোল ! / তাই শুনে কেউ বদ্যি ডাকে, কেউ বা হাঁকে পুলিশ, / কেউ বা বলে কামড়ে দেবে সাবধানেতে তুলিস /। ব্যস্ত সবাই, এদিক-ওদিক করছে ঘোরাঘুরি, / বাবু হাঁকেন ওরে আমার গোঁফ গিয়েছে চুরি। / গোঁফ হারানো! আজব কথা! তাও কি হয় সত্যি ?গোঁফ জোড়া তো তেমনি আছে কমেনি এক রত্তি। / সবাই তাঁকে বুঝিয়ে বলে সামনে ধরে আয়না, / মোটেই গোঁফ হয়নি চুরি কক্ষণো তা হয় না। ”
প্রতিবেদনের বিষয়ের সঙ্গে এই কবিতার সম্পর্ক কোথায়, সেটা এবার উল্লেখ করতে হয়। বড়বাবুর যেমন গোঁফ নিয়ে মাথার ব্যমো ছিল, পদ্মাপারের বামনাবতার ইউনূসের মাথার ব্যামো লালমণির হাট বিমানবন্দর। ইউনূস সরকার ভীষণভাবে চাইছে এই বিমানবন্দর চালু করতে। সেই খবর সাউথব্লকের কানে চলে গিয়েছে। সাউথব্লক থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশ লালমনির হাট বিমানবন্দর চালু করলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দিল্লি ত্রিপুরার কৈলাশহরের তিন দশকের পুরনো বিমানঘাঁটা চালু করে দেবে। সাউথব্লক জোরের সঙ্গে বলেছে, বাংলাদেশকে এই ব্যাপারে চিন সাহায্য করছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেই সব প্রতিবেদন অনুসারে, লালমনির হাটে বাংলাদেশ একটি মাল্টিফাংশনাল বিমানঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ফলে চিন তাদের সামরিক সরঞ্জাম, যুদ্ধবিমান, রাডার, ভারতের ওপর নজরদারির জন্য যাবতীয় সরঞ্জামসহ বিভিন্ন কিছু রাখতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সাউথব্লক। এই উদ্বেগ থেকে ত্রিপুরার কৈলাশহরে তিন দশকের বেশি পুরনো একটি বেসামরিক বিমাবন্দর সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে ভারতীয় সেনা।
ভারতীয় সেনার প্রাক্তন এক লেফটেন্যান্টের বয়ান অনুযায়ী, চিনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বাংলাদেশ লালমনিরহাটের পুরনো বিমানঘাঁটি পুনরায় সচল করতে যাচ্ছে। এই নিয়ে ভারত পুরোপুরি নিশ্চিত। এটি ভারতের কৌশলগত ভারসাম্যের জন্য একটি বড়ো হুমকি। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোরের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলের খুব কাছে হওয়ায়। ওই প্রাক্তন সেনাকর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশে অপারেশন সিঁদুরের মতো সামরিক অভিযান চালাতে পারে ভারত। লালমনির হাট বিমানবন্দর, বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড়ো কৌশলগত হাব।
বাংলাদেশ তাদের সমরাস্ত্রের ভাণ্ডারে নতুন কিছু যোগ করতে চলেছে। তার মধ্যে একটি হল পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে জেএফ থাণ্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ইতালি থেকে তারা কিনতে চলেছে ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান। এই নিয়ে ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাথমিক আলোচনা হয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, ত্রিপুরার কৈলাশহরের বিমানবন্দরটি ১৯৭১-য়ের মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এই বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী অভিযান পরিচালনা করা হয়। ১৯৯০ সালে এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। গত বছর ভারতের অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রকের কয়েকজন পদস্থকর্তা বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করেন। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা যায় কি না, সেটা তারা যাচাই করে দেখেন। তারা এ ব্যাপারে কেন্দ্রের কাছে একটি প্রস্তাব ও পরামর্শ পাঠাবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post