অবশেষে বাংলাদেশ নিয়ে মুখ খুললেন ভারতীয় স্থলসেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। পদ্মাপারে অস্থিরতার প্রেক্ষিতে তাঁর বয়ান নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। মুখ খুললেন পদ্মাপারে ভোটের আবহে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। গোটা দুনিয়া ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের মতো করে জল মাপছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে পদ্মাপারে শুরু হতে চলেছে তারেক যুগ। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই। ফলে বিএনপির জয়ের পথ অনেকটাই প্রশস্ত। যদিও আওয়ামী লীগের তরফে বাংলাদেশ ভোট একপ্রকার বয়কট করার ডাক দেওয়া হয়েছে। দলনেত্রী হাসিনা তাঁর নেতাকর্মীদের বলেছেন, ভোটের দিন তারা যেন বুথমুখী না হয়। হাসিনার অঙ্ক অন্যরকম। তার অঙ্ক হল, দলের নেতা-কর্মীরা ১২ ফেব্রুয়ারি বুথে না গেলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এই অবস্থায় সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী ভারতীয় স্থলসেনাপ্রধান দ্বিবেদী বাহিনী অবস্থান স্পষ্ট করলেন।
সেনাপ্রধান জেনারেল দ্বিবেদী বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ভারত এবং বাংলাদেশের সামরিক যোগাযোগ অক্ষুন্ন রয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বেশি দিন নয়। তাই তাদের পদক্ষেপ নিয়ে বেশি চিন্তা করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ওখানে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলাম। তাঁরা গিয়ে বিভিন্ন স্তরে কথা বলেছেন। আমার সঙ্গে ওঁদের (বাংলাদেশ) সেনাপ্রধানের যোগাযোগ রয়েছে। নৌসেনা প্রধান এবং বায়ুসেনা প্রধানেরও তাঁদের স্তরে কথা হয়েছে। উদ্দেশ্যে হল, কোনও স্তরেই যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি না হয়।’’
ভারতের সেনাপ্রধান জানান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর—বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর—হামলার ঘটনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য ভারত ইতিমধ্যে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে।বাংলাদেশের বাহিনীগুলোর পদক্ষেপ ভারতের বিরুদ্ধে নয় মন্তব্য করে ভারতের সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আজকের পরিস্থিতিতে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো কোনোভাবেই ভারতের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।’
সামরিক আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, সক্ষমতা উন্নয়ন সব দেশের জন্যই একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ভারত এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে। সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ভারতও করছে, অন্যান্য দেশও করছে।
বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীকে তিনি দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন। সেনাপ্রধান দ্বিবেদী বলেন, “আজকের দিনে ওদের তিন বাহিনী (বাংলাদেশ স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা) যে পদক্ষেপ করেছে, তা কোনওভাবেই ভারত বিরোধী নয়।” সেনাস্তরে দ্বিপাক্ষিক আস্থাবর্ধক কর্মসূচি এবং কোর গ্রুপ স্তরের আলোচনা চালু রয়েছে জানিয়ে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, “ওদের অফিসারের এখানে প্রশিক্ষণে আসেন, আমাদের অফিসারেরাও যান। ” জেনারেল দ্বিবেদী জোর দিয়ে বলেন, “এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল বাহিনীগুলির মধ্যে স্পষ্টতা নিশ্চিত করা। আমাদের লক্ষ্য হল কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল যোগাযোগ যেন না হয়। ”
বাংলাদেশের বাহিনীগুলোর পদক্ষেপ ভারতের বিরুদ্ধে নয় মন্তব্য করে ভারতের সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আজকের পরিস্থিতিতে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো কোনোভাবেই ভারতের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।’
সামরিক আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, সক্ষমতা উন্নয়ন সব দেশের জন্যই একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ভারত এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে। সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ভারতও করছে, অন্যান্য দেশও করছে। জেনারেল দ্বিবেদী আরও বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতির দিক থেকে আমরা সেখানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’
সেনাপ্রধানের জেনারেলের বক্তব্যের মধ্যে যেটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ নিয়ে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী। জেনারেল বুঝিয়ে দিলেন, যে ইউনূস সরকারের বিদায় আসন্ন।












Discussion about this post