২০২৪ সালের ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেপ্টেম্বর মাসে আমেরিকা সফরে বিল ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস অংশ নিয়েছিলেন। আর সেখানে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান কে মেটিকুলাস ডিজাইন বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। সেই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছিলেন সদ্য পদত্যাগ করা উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সেইসময় তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পরে নানা রকমের সমালোচনা হয়। অনেকে সমালোচনা করেছেন, মেটিকুলসা ডিজাইন বলতে তিনি কি বুঝিয়েছেন? এমনকি তখন অনেকে বুঝেছিলেন, এটা সরকার পতনের একটি বিরাট পরিকল্পনা। এই ঘটনার দেড় বছর পর এসে আবারও প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে। নির্বাচন নিয়ে যেমন তিনি বক্তব্য রেখেছেন, পাশাপাশি আগামীতে তরুণরা নির্বাচিত হয়ে এমপি হবেন, মন্ত্রী হবেন, সেটা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হচ্ছে। অনেকে আবার বলছেন, নির্বাচন বিধির মধ্যে এই সমস্ত কথা বলে সেই নিয়ম তিনি ভাঙলেন কিনা, সেই বিষয়ে আলোচনা উঠে আসছে। ভোটের আগেই ইউনূসের খেলা। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি পোষ্যপুত্র এনসিপি নেতাদের বানিয়ে দিলেন মন্ত্রী?
ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে বলা বক্তব্যের ফের আর একবার পুনরাবৃত্তি ঘটল। তরুণদের মধ্যে একধরনের নিজের মতামত পোষণ করা, এমপি মন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে যখন বললেন, তখন নির্বাচনকালীন সময়ে বলা যায় কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে জিতলে তরুণদের কেউ কেউ মন্ত্রীও হতে পারেন। তরুণ বলতে তিনি যে এনসিপি নেতাদের বোঝাচ্ছেন, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজধানীর একটি হোটেলে তিনদিন ব্যাপী দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চ শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথ নির্দেশনা শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনীর অনুষ্ঠানে বেশ কথা বলেছেন। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস বলেন,তরুণরা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। তারা আসন্ন নির্বাচনেও অংশ নেবে। আমি নিশ্চিত যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন। সেদিনও যারা ক্লাসরুমে ছিল, এখন তারা রাজপথে থেকে নিজেদের রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। তারা যদি নির্বাচিত হয়, তাদের মধ্যে কেউ হয়তোবা শিক্ষামন্ত্রীও হবেন। যুব সমাজের প্রত্যাশা এবং আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই তরুণদের নিজেদের চিন্তা এবং মনন রয়েছে। তারা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জীবন থেকে প্রতিবাদ করেছে। কয়েক মাস আগেই এই শহরের তরুণরা কেন অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের জীবান উৎসর্গ করেছিল তাদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা কি ছিল তা বোঝার চেষ্টা না করলে একটা বড় সুযোগ নষ্ট হবে। তিনি বলেন, এইসব ঘটনা হঠাৎ কোনও বিস্ফোরণ নয়। শ্রীলংকা এবং নেপালেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে ঢাকায় তা ঘটেছে আরো ব্যাপকভাবে। অর্থাৎ তিনি ফের একবার বলার চেষ্টা করলেন, এগুলি হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। এগুলি পরিকল্পিত। এখন প্রশ্ন উঠবে, তাহলে এর পিছনে কে বা কারা ছিল? কারা অর্থ সাহায্য করেছে? যদিও এই উত্তরগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থান দেশের পুরনো কাঠমোকে ভেঙে দিয়েছে। তরুণরা নিজেদের জুলাই সোনার তৈরি করেছে এবং তারা মনে করে দেশের সমস্যার মূল নিহিত রয়েছে সংবিধানে। সেই কারণেই ভবিষ্যৎ সংবিধান নির্ধারণে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি নির্দিষ্ঠ করে শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার কথা বলছেন, সেই জায়গায় প্রশ্ন তিনি কিভাবে আগে থেকে জানতে পারলেন যে ছাত্ররা নির্বাচিত হবে? তবে কি এক্ষেত্রেও কোনও পরিকল্পনা কাজ করছে? নির্বাচন হওয়ার আগে প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্য নির্বাচনকে কাঠগড়ায় তুলতে পারে বলে মন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।












Discussion about this post