বাংলাদেশে আমেরিকার নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন ক্রিস্টেনসন। তিনি ১৮তম রাষ্ট্রদূত। গত ৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরে শপথ গ্রহণ করেন নবনিযুক্ত ব্রেন্ট ক্রিসেন্টেনসন। দেশটির ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ বিষয়ক উপরাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ শেষে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানায়। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এর আগে কাজ করেছেন। সেই সময় বাংলাদেশে যত কর্পোরেট সংস্থা রয়েছে, সবগুলি তার চেনা। তার গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত বেশি। এমনকি আওয়ামী লীগের সময় তিনি যেহেতু কাজ করেছেন, তাই তিনি আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মীদেরও ভালোভাবে চেনেন। কাজেই এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত যারা ছিলেন, তাদের থেকে তিনি অনেকটাই আলাদা। বলা যেতে পারে, এক্ষেত্রে তিনি অনেকটাই এগিয়ে। যদিও এখন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের শীর্ষ কোনও নেতা নেই। কিন্তু কর্পোরেট সংস্থাগুলি রয়ে গিয়েছে। কিন্তু ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত আসতেই খানিকটা উৎফুল্ল দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের মধ্যে। কিন্তু কেন?
ব্রেন্ট ক্রিসটেনসন যে সময় কাজ করেছিলেন, সেই সময় আমেরিকার সঙ্গে বড় বড় ডিল তিনি করেছিলেন। তবে সেক্ষেত্রে সরাসরি যে আমেরিকা বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যে কাজ করেছেন তাই নয়, আমেরিকার যে যে বন্ধু রাষ্ট্র ছিল, সেগুলিতেও তিনি কাজ করেছেন। পাশাপাশি চিনের সঙ্গে আমেরিকার ব্যরিকেড তৈরি করাতে তিনি সফল হয়েছেন। এমনকি চিন বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তার করতে চাইলেও পারেনি। বাংলাদেশের কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের পারিবারিক সম্পর্ক হয়নি। যেটা ডোনাল্ড ট্রাম্পেরের সঙ্গে শেখ হাসিনার রয়েছে। পাশাপাশি তার আমলে কাজ করে গিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এদিকে শেখ হাসিনা ঠিক সেই সময় যতগুলি বক্তব্য রেখেছেন, সেই বক্তব্যগুলি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। শুধু তাই নয়, বোঝায় যাচ্ছে, ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত আসার পর থেকে তারমধ্যে নতুন করে আনন্দ, উৎফুল্ল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে কি নতুন কোনও সমীকরণে এগোচ্ছেন শেখ হাসিনা? এমনিতেই আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল রয়েছে। অর্থাৎ তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। যদিও শেখ হাসিনাও বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন, নো বোট নো ভোট। অর্থাৎ নৌকা চিহ্ন না থাকলে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না কোনও আওয়ামী সমর্থক। সেই বার্তায় তিনি দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, অদ্ভুতভাবে যে সময় নতুন রাষ্ট্রদূত ঢাকায় এলেন, তখন কানাঘুঁষো শোনা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগকে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ আসছে। তবে অঙ্কটা কি এদিকে যাচ্ছে? যেখানে বাংলাদেশের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে না। আর না করলে পরবর্তীকালে শেখ হাসিনার দল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেখাতে পারবে, একটি নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলকে বাদ রাখা হল। শুধু তাই নয় , বারবার প্রথম থেকে শেখ হাসিনা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলে এসেছেন, যে যদি আওয়ামী লীগের কোনও নেতা, মন্ত্রী দোষ করে, তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হোক। কিন্তু গোটা দলটার ক্ষেত্রে কেন হবে? এই প্রশ্ন বারবার উঠেছে। তবে এক্ষেত্রে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয় সেটাই দেখার। পাশাপাশি নতুন রাষ্ট্রদূত এসে আদেও শেখ হাসিনার দলের জন্য কোনও শুভ বার্তা নিয়ে আসে কিনা, সেটাও দেখার।












Discussion about this post