বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন আওয়ামী লীগের। দীর্ঘ ১৭ মাস পর দিল্লিতে আওয়ামী লীগের প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন। রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কথা জানান বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং আওয়ামীপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট ও আইনজীবী নিঝুম মজুমদার। সাংবাদিক সম্মেলন দেশে এবং বিদেশে থাকা আওয়ামী লীগের কর্মীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশে অবৈধকারী ইউনূস সরকার নির্বাচন নিয়ে জলঘোলা করছে তখন আওয়ামী লীগের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত। সাংবাদিক সম্মেলন করে তারা বলছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণে আপত্তি নেই, কিন্তু তা হতে হবে নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, ইউনূস সরকারের অধীনে নয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের তরফ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যদি নতুন কোনও অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় এবং তারা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করে, তাহলে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে ইউনূস সরকারকে তোপ দেগে বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কোনও নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে না। তাদের মতে, সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। হাছান মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের দেশ। হাসিনা এবং আমরা অন্যান্যরা যাঁরা দেশের বাইরে আছি, তাঁরা ফিরে আসতে চাই। কিন্তু অন্তবর্তী সরকারকে আসন্ন নির্বাচন আইন মেনে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করাতে হবে। বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের সঙ্গে শত্রুতা করছে। এর আগে যতবার নির্বাচন হয়েছে প্রত্যেকবার জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এসেছি। জনগণই সব। ইউনূস সরকারকে আক্রমণের পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় ফিরবে সেই আশ্বাস দেন তারা সাংবাদিক সম্মেলন থেকে। মাহমুদ বলেন, ইউনুস সরকার বাংলাদেশে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করাতে অক্ষম। তারা আওয়ামী লীগকে ভয় পাচ্ছে। মুহাম্মদ ইউনূস তাই জন্যই তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ভার্চুয়ালী মাধ্যমে হাসিনা বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তাকে ভয় পাচ্ছেন ইউনুস। তাই জন্যই তাঁর দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন তারা, জুলাই গণবিক্ষোভে ১৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের একটি রিপোর্ট। সেই রিপোর্টকে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক রিপোর্টে বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি।” তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের ওই রিপোর্টে একরকমভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এক তরফাভাবে যে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা জনতার উদ্দেশ্যে বলেছেন, অন্তবর্তী সরকার বদলান, সরকার বদলের পাশাপাশি নিয়ম বদলান, তাহলেই তারা প্রতিযোগীতা করবে। আওয়ামী লীগ এক ঢিলে তিন পাখি মারতে চেয়েছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক অডিয়েন্সকে দেখানো যে, দলটি গণতান্ত্রিক উপায়ে বিশ্বাসী। দ্বিতীয়ত, বর্তমান ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাচ্ছে। তৃতীয়ত, অভ্যন্তরীণ নেতা কর্মীদের বোঝানো যাচ্ছে তারা যেকোনো সময়ে ফিরে আসতে পারে। বারবার ইউনূসের তরফে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ নাকি হারিয়ে গেছে, কিন্তু তারা যে হারিয়ে যায়নি, নেতা-কর্মীরা যে ভয় পায়নি সেই বার্তাই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে দিয়েছেন হাছান মাহমুদ। সাংবাদিক সম্মেলনের পর এখনও পর্যন্ত ইউনূস সরকারের কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সাংবাদিক সম্মেলন আগামী দিনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post