ভারতের সেনাপ্রধান হয়তো নিরুপায় হয়েই বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে দুই দেশেই প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন। কারণ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ভারতকে ভাববার অবকাশ দেবে না পাকিস্তান। তারা কখন যে কি করবে তা হয়তো তারা নিজেরাও জানে না, কারণ সে দেশে সরকার বলে কিছু নেই, এমনকি সন্ত্রাসীদের কার্যকলাপে সেনারও কতৃত্ব কম, সন্ত্রাসীরা নিজেদের ইচ্ছা মতো যা খুশি করে, আর পাকিস্তানের সেনাকে সেটাই মেনে নিতে হয়, ফলে গনতন্ত্রহীন সরকার বিহীন একটি দেশে, সেনা আর জঙ্গী কয়েনের এপিঠ আর ওপিঠ। শুধু তাদের পোশাক আলাদা। মুখ এবং মূল্য একই। আর বাংলাদেশকে সাথে পেয়ে, তারা তো এখন খোলাখুলি হুমকি দিচ্ছে যে তারা ভারতকে বিভিন্ন দিক থেকে হামলার মুখে ফেলবে। এখন তো তারা নর্থ ইস্ট দিয়ে ভারতকে আক্রমণ করার কথা শুধু মুখেই বলছে না, সেখানে তাদের জেহাদী এবং জঙ্গি ক্যাম্পও বানাচ্ছে, যা নিয়ে ভারত থেকে বার বার অভিযোগ করা হয়েছে, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এ নিয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক করেছে। ফলে কোন না কোন দিক দিয়ে যে পাকিস্তানের সঙ্গে আবার যুদ্ধে জড়াবে ভারত, তা বুঝেছেন ভারতের সেনাপ্রধান, তাই তিনি বলেছেন যে আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু তিনি এটাও জানেন যে বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি না থাকলে, ভারতের পক্ষ্যে পাকিস্তানকে সামলানো সহজ হবে। ফলে বাংলাদেশের সেনাকে ভারতের বিরুদ্ধে কোনভাবেই রাখা যাবে না। তাই তিনি বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে প্রাসঙ্গিক করে এটা বোঝাতে চেয়েছেন যে, যতদিন না কোনও নির্বাচিত সরকার আসছে ততদিন ভারত বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকেই সে দেশের প্রতিনিধি হিসাবে ধরছে। তাই তিন বাহীনীর প্রধান সহ সেনাপ্রধান নিজে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে সবরকম যোগাযোগ রেখে চলেছে। আর ভারতের সেনাপ্রধানের প্রশংসা পেয়েই যেন নির্বাসন কাটিয়ে আবার স্বমহিমায় ফিরেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান, তিনিও এটা বোঝাতে চেয়েছেন দেশের সেনাকে দূর্বল করে রাখলে বৈদেশীক হুমকির মুখে পড়তে হবে।যদিও তিনি ভারতের নাম নেননি, কিন্তু মায়ানমার আর্মির সঙ্গে তার যে নিয়মিত যোগাযোগ আছে, এবং যে কোন দুই দেশের আর্মি ডিপ্লোমেসি ঠিক থাকলে, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা কম থাকে।তিনি সেটিও বুঝিয়ে দিয়েছেন।
বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে প্রায় অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছিল সে দেশের বর্তমান সরকার। গত ছয় সাত মাসে, না তিনি সাংবাদিকদের কিছু বলেছেন, না তো তার সেনাসদস্যদের। এমনকি কোন দলই তাকে ভরসার যোগ্য বলে মনে করেনি। এমনকি আওয়ামীলীগও মনে করে হাসিনার পতনে সেনাপ্রধানই দায়ী। আর এটি যে অনেকটাই সঠিক, তা বোঝা যায় ইরানকে দেখে। ইরানে গনবিক্ষোভ কন্ট্রোলে রাখার জন্য সেনাবাহীনি লড়াই করে যাচ্ছে। নিজের দেশের নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যাও করছে। নিশ্চয় কোনও সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য নিজের দেশের জনগনকে হত্যা করাটা কখনই কোনও স্বদেশীয় বাহীনির জন্য যু্ক্তি যুক্ত নয়, কিন্তু বাহীনির দায়বদ্ধতা থাকে সরকারের প্রতি। আর ইরানের পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও এক নয়। ইরানে যে কোন পন্য দ্রব্যের আকাশ ছৌঁয়া মূল্য বৃদ্ধি, নাগরিকদের করের টাকায় সন্ত্রাসীদের জন্য খাবার অস্ত্র, আর দেশের মানুষকে খাদ্য সঙ্কটে ফেলে দেওয়া, সেই সঙ্গে ধর্মের নামে ফতোয়া সাধারণ নাগরিকদের ধর্মের দোহাই দিয়ে হত্যা করা এ সব অন্যায় দেখেছে ইরানের জনগন। তবুও সেনা সরকারের পাশে। আর বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ঠিক কি কারণে দেশীয় মৌলবাদ,ডিপস্ট্রেটের হুমকি আর টাকার কাছে বিকিয়ে গেলেন, নাকি তার আর অন্য কোন পরিকল্পনা আছে তার কিছুই এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে তিনি সব দলের কাছেই মিরজাফরের মত। যদিও জামাত কখনই তার বিরুদ্ধে মুখ খোলেনি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post